1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইটালি

চৌঠা ডিসেম্বর ইটালিতে গণভোট: ইউরোর কী হবে?

ইটালির গণভোট  তার সংসদীয় কাঠামো নিয়ে৷ কিন্তু ব্রেক্সিট বা মার্কিন নির্বাচনের মতো এই ভোটও শুধু মাটেও রেনজির সরকারই নয়, সেই সঙ্গে ইউরো মুদ্রার ভিত নড়িয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে৷

মাটেও রেনজি

ইটালির প্রধানমন্ত্রী মাটেও রেনজি

যে দেশে বিগত ৭০ বছরে ৬৩ বার সরকার পাল্টেছে, সেদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার স্বপ্ন দেখছে এই গণভোট – ইটালির তরুণ নেতা মাটেও রেনজি-ও যে স্বপ্ন দেখছেন৷ ইটালির বাইক্যামেরাল সংসদের নিম্নকক্ষের ৬৩০ জন ডেপুটি ও উচ্চকক্ষ বা সেনেটের ৩১৫ জন সদস্য মিলিয়ে মোট ৯৪৫ জন সাংসদ৷ ওদেকে উভয় কক্ষের কাজ ও ক্ষমতা কিন্তু সমান সমান৷

গণভোট সফল হলে, সেনেটের সদস্যসংখ্যা কমে ১০০-য় দাঁড়াবে; এছাড়া সেনেটের সদস্যদের নির্বাচিত না করে, প্রদেশগুলি থেকে মনোনীত করা হবে৷

সবচেয়ে বড় কথা, যে দল জিতবে, তারা বাড়তি আসন পাবে, ফলে ৪০ শতাংশ ভোট পেলেই একটি দল সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে৷ সরকার এভাবে স্থায়িত্ব পাবেন ও অতি প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজগুলি শুরু করতে পারবেন, এই হলো রেনজি ও যারা ‘হ্যাঁ' ভোট দেবেন বলে ভেবেছেন, তাদের আশা৷ এমনকি রেনজি প্রথমে বলেছিলেন যে, ইটালীয়রা যদি ‘না' ভোট দেন, তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন৷ পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান৷

অধিকাংশ জরিপে কিন্তু ‘না' পক্ষের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথাই বলা হচ্ছে৷ অর্থবাজার নার্ভাস৷ ইটালির গভর্নমেন্ট বন্ডসের সুদের হার দ্বিগুণ হয়ে দুই শতাংশের বেশিতে পৌঁছেছে৷

ভিডিও দেখুন 01:48

ফ্রাংকফুর্টের সেন্টিক্স গবেষণা সংস্থা অর্থবাজারের এক হাজার পেশাদারের জরিপ করে দেখেছে, গণভোটে ‘না' জিতলে, ইটালির ইউরো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দাঁড়াবে নাকি প্রায় ২০ শতাংশে, বলে তারা মনে করেন – যা এর আগে কখনো হয়নি৷

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির হাঁড়ির হাল, যা রেনজির পক্ষে অনুকূল নয়৷ ইটালিতে বেকারত্বের হার প্রায় ১২ শতাংশ, তরুণ ও যুব মহলের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার৷ ইটালির অর্থনৈতিক উৎপাদন আজ দশ বছর আগে যা ছিল, তার চেয়ে কম৷ ইটালির জাতীয় ঋণ তার জিডিপি-র ১৩০ শতাংশের বেশি – অর্থাৎ জাতীয় ঋণের ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রিস ইটালিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে৷

গণভোটে ‘না' ভোট দিয়ে ইটালীয়রা তাদের ক্ষোভ ও রোষ ব্যক্ত করতে চান: খোলাবাজারের অর্থনীতি ও সংস্কারের প্রতি ‘না' বলছেন তারা; ‘না' বলছেন সাশ্রয় নীতি ও সরকারের প্রতি; এছাড়া ইউরো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ‘না'৷ কাজেই ব্রেক্সিট আর ট্রাম্পের নির্বাচনের পর একটি তৃতীয় চমকের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকাই বোধহয় ভালো৷

আন্ড্রেয়াস বেকার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন