1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চুটি হেফটলি স্টিকার অ্যালবাম

সুইজারল্যান্ডের চুটি হেফটলি স্টিকার অ্যালবাম: ইউরোপীয় ফুটবলের তারকাদের ছবি দেওয়া স্টিকার এই হেফটলি বা অ্যালবামে লাগানো যায়৷ স্টিকারের ছবিগুলো কিন্তু ফটো বা ডিজিটাল নয়, বিভিন্ন শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি৷

ভিডিও দেখুন 04:19

শিল্পীদের হাতে আঁকা ছবি দিয়ে অ্যালবাম

আঁকা হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ছবি৷ কেভিন সুসেট থাকেন সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে৷ রোনাল্ডোর ছবিটি আঁকছেন ‘চুটি হেফটলি' নামের একটি স্টিকার অ্যালবামের জন্য৷

এমনকি শিল্পীর আত্মপ্রতিকৃতিও স্টিকার হিসেবে পাওয়া যায়৷ ছবি-আঁকিয়ে কেভিন সুসেট বলেন, ‘‘রোনাল্ডোর ছবি আঁকাটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল কেননা সকলেই তাকে চেনে – সবাই তাকে পছন্দ করে কিনা, সেটা আরেক কথা৷ দ্বন্দ্বটা চিরকালই পর্তুগিজ দলে ছিল, তাদের আকর্ষণও বেড়েছে ঐ কারণে৷''

আগামী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছে, এমন প্রত্যেকটি দলের সদস্যদের ছবি আঁকার ভার দেওয়া হয়েছে আলাদা একজন শিল্পীকে৷ চুটি হেফটলি স্টিকার অ্যালবামের ছবি আঁকার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য কেভিন সুসেট-কে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছে ও জিনেদিন জিদানের ছবি আঁকতে হয়েছে৷ সারা ইউরোপ থেকে প্রায় ২০০ শিল্পী ছবি পাঠিয়েছিলেন – জুরি তাদের মধ্যে সেরা ২৪ জনকে বেছে নেন৷

কেভিন সুসেট রং-পেন্সিল দিয়ে একটি ছবি এঁকেছেন৷ প্রতিটি ছবির জন্য তাঁর আধদিন সময় লাগে৷ কেভিন বললেন, ‘‘আজকাল বহু ছবি আঁকা হয় কম্পিউটারে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে৷ আমার এখনও হাতে আঁকতেই ভালো লাগে, পেন্সিল হাতে নিয়ে৷ তার পিছনে যে নন্দনতত্ত্ব আছে, সেটা ভালো লাগে৷''

ইটালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন-এর ছবিটা বাস্তববাদী৷ ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি-র ছবিটায় রেখাচিত্রের ধরনই বেশি৷ মেসুত ও্যজিল-এর দুঃখী-দুঃখী ভাব! চেক গোলকিপার পেটার চেশ-এর বাঁদরটুপি! সুইডেনের স্লাটান ইব্রাহিমোভিচের একরোখা ভাব৷ পোল্যান্ডের গোলগেটার রবার্ট লেভানডোভস্কি তো বেশ রংচংয়ে৷ চুটি হেফটলি স্টিকার অ্যালবামে সকলেই আছেন৷ সিলভান গ্লানৎসমান চুটি হেফটলি-র স্রষ্টাদের একজন৷

চুটি হেফটলি-র প্রতিষ্ঠাতা সিলভান গ্লানৎসমান, ‘‘চুটেন হচ্ছে একটি সুইস-জার্মান শব্দ, যার মানে হলো ফুটবল খেলা৷ এসেছে ইংরেজি ‘টু শুট' কথাটা থেকে, মানে বল কিক করা৷ ইংল্যান্ড থেকে ফুটবল খেলাটা যখন সুইজারল্যান্ডে আসে, তখন ঐ টু শুট কথাটা জার্মান হয়ে গিয়ে দাঁড়ায় চুটেন-এ৷''

প্রথম চুটি হেফটলি স্টিকার অ্যালবামটি বেরোয় ২০০৮ সালে – প্রথমে শুধু বন্ধুবান্ধব আর পৃষ্ঠপোষকদের জন্য, যারা সকলেই লুসার্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন৷ খুব বেশি ছাপা হতো না৷ প্যাকেটগুলো হাতেই তৈরি করা হতো৷ গ্লানৎসমান বলেন, ‘‘প্রতিটি স্টিকারের শ'পাঁচেক কপি ছাপা হতো৷ তারপর সেগুলো খামে পুরে পাঠানো দরকার৷ আমরা খাম কিনে, বাড়িতে বসেই খামে দশটি নানা ধরনের স্টিকার পুরে, ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে শুরু করলাম৷ রাতের পর রাত জেগে খামে স্টিকার পুরে পাঠিয়েছি আমরা৷''

লুসার্নের এই বইয়ের দোকানটি থেকে প্রথম স্টিকারগুলি বিক্রি করা হতো৷ দোকানের মালিক সিলভিও কোলার নিজেই গত আট বছর ধরে স্টিকার জমাচ্ছেন – তিনি নিজেই কলেক্টর৷ চুটি বিল্ডলি – মানে ফুটবলারদের ছবি কিনতে কারা আগ্রহী, সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন৷ দশটি স্টিকারের দাম পড়ে দেড় ইউরো৷ বই-এর দোকানের মালিক সিলভিও কোলার বলেন, ‘‘যারা ফুটবলের অন্যান্য সব সুভেনির কেনেন, অথবা যারা সাধারণ স্টিকার অ্যালবামের ভক্ত, তাদের থেকে চুটি হেফটলি-র খদ্দেররা আলাদা৷ এমনকি তাদের সবাই যে ফুটবল ফ্যান, এমন নয়৷ তারা হাইপে কান না দিয়ে, কোনো বিকল্প খোঁজেন৷''

আট বছর আগে লুসার্নের ভাল্ডস্টেটার লেকের পাশে চুটি হেফটলি-র জন্ম৷ এ বছর চল্লিশ লাখ স্টিকার ছাপা হয়েছে৷ বিক্রির টাকার একটি অংশ যায় ‘ট্যার দেজ অম' দাতব্য প্রতিষ্ঠানের শিশুকল্যাণ প্রকল্পে৷ আরেকটি অংশ যায় চারটি দেশের অঙ্কণশিল্পীদের পারিশ্রমিক হিসেবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়