1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চুক্তি সই শেষে লাশ ফেরত দিল হাসপাতাল

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা বিলের একাংশ না পাওয়ায় ৪০ ঘণ্টা রোগীর লাশ আটকে রাখার পর অবশেষে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের আশ্বাস পেয়ে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে৷ এজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে৷

Symbolbild Kriminalität Mord

প্রতীকী ছবি

সমঝোতা হয়েছে পুলিশের মধ্যস্থতায়৷ ঢাকার গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে৷

ঢাকার মগবাজারের দিলু রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আসলামকে (৫৪) গত ৩ জুলাই ফুসফুসে সমস্যাজনিত কারণে ঐ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ গত শুক্রবার রাত তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান৷ তাঁর চিকিৎসা বাবদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের কাছে প্রায় ৩১ লাখ টাকার একটি বিল দেন৷ স্বজনরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন৷ কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরো টাকা না পেলে লাশ দেবে না বলে স্বজনদের সাফ জানিয়ে দেয়৷

তখন উপায় না দেখে সংবাদ মাধ্যমের শরণাপন্ন হন মৃতের পরিবারের সদস্যরা৷ রবিবার দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে পুরো বিল না দেয়ায় লাশ আটকে রাখার খবর প্রকাশিত হয়৷ এতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মানবিক কারণে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করতে বলেন৷ অতঃপর রবিবার সন্ধ্যায় শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘‘আসলামের চিকিৎসা বাবদ ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকা বিল এসেছে৷ তাঁর স্বজনেরা আগেই ১২ লাখ টাকা শোধ করেছেন৷ মানবিক বিবেচনায় বাকি প্রায় ১৯ লাখ টাকার মধ্যে চার লাখ টাকা কমিয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে৷ এর মধ্যে রবিবার তাঁরা লাশ নেয়ার সময় আরো ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন৷ বাকি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাঁচ মাসে শোধ করবেন বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন৷''

আসলামের মেয়ে সাদিয়া বলেন, ‘‘রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাবার লাশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়েছে তারা, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও শর্তে রয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জানি না, কিভাবে আমরা এত টাকা শোধ করব৷ বাবার চিকিৎসায় সহায়তা চেয়ে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম৷ হাসপাতালের বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য আবারও আমরা দেশবাসীর কাছে সাহায্য চাচ্ছি৷''

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘মৃতের পরিবার ছয় কিস্তিতে জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া টাকা শোধ করবে, সে বিষয়ে দু'পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে৷'' চুক্তির সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান৷

হাসপাতালের অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক কাজী মো. সেলিম দাবি করেন, ‘‘তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আগেই বলা হয়েছিল, আসলামের শারীরিক অনেক সমস্যা আছে৷ তাঁর দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা দরকার৷ খরচও অনেক হবে৷ আসলামের স্বজনেরা এতে রাজি হওয়ায় আসলামকে ভর্তি করা হয়৷''

এদিকে হাসপাতালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘রোগীর স্বজনদের দ্বারা সৃষ্ট পরিস্থিতি আমাদের আস্থায় ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে৷ মুমূর্ষু রোগীকে সারিয়ে তোলাটাই আমাদের মুখ্য কাজ৷ টাকা আদায় করে চিকিৎসা দেওয়া নয়৷ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বিল দেওয়া হয়৷ বিলের ব্যাপারে শুরু থেকেই আসলামের স্বজনেরা হাসপাতালকে আশ্বস্ত করেছিলেন৷''

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মগবাজারের দিলু রোডের বাসিন্দা আসলাম শেয়ার ব্যবসা করতেন৷ ব্যবসায় ধস নামার পর তাঁর অর্থনেতিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়৷ তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়