1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চীন-তাইওয়ান ঐতিহাসিক সাক্ষাতের সম্ভাবনা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জু একটি অপ্রত্যাশিত, কিন্তু ঐতিহাসিক সাক্ষাতে শনিবার সিঙ্গাপুরে মিলিত হতে চলেছেন৷ ১৯৪৯ সাল যাবৎ দু'পক্ষের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ৷

আগামী জানুয়ারি মাসে তাইওয়ানে সাধারণ নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে চীনপন্থি জাতীয়তাবাদী দল – বা কুয়োমিনটাং পার্টি – বিরোধী গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল পার্টি বা ডিপিপি দলের কাছে পরাজিত হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ প্রথাগতভাবে ডিপিপি চীন থেকে স্বাধীনতার সপক্ষে৷

নির্বাচনের প্রাক্কালে অপ্রত্যাশিত শি-মা সাক্ষাতের খবর অবশ্যই চীন-বিরোধীদের মনে সন্দেহ এনে দিয়েছে যে, বেইজিং আসন্ন নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে৷ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জু সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে আগামী বছর পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারবেন না৷ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর মা চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিসাধনকে মূল নীতি করেছিলেন৷ তিনি চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ‘ঐতিহাসিক' বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন৷

মা-শি সাক্ষাৎ সম্পর্কে ডিপিপি-র প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাই ইং-ওয়েন বলেছেন যে, ঘোষণাটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল৷ ‘‘জনসাধারণকে এ রকম তাড়াহুড়ো করে, বিশৃঙ্খলভাবে খবরটা দেওয়া তাইওয়ানের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর,'' বলে সাই মন্তব্য করেছেন৷ অপরদিকে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, শি-মা সাক্ষাতের ঘোষণা তাইওয়ানের তরুণ জনতার মধ্যে চীন-বিরোধী মনোভাবকে আরো উসকে দিতে পারে৷ ‘দ্য ইকোনমিস্ট' পত্রিকার একটি টুইট সেদিকেই ইঙ্গিত করছে৷

চীনের গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে চিয়াং কাই-শেক-এর জাতীয়তাবাদী সমর্থকরা মাও জে-ডং-এর কমিউনিস্টদের কাছে পরাজিত হয়ে ‘মেনল্যান্ড' চীন থেকে দ্বীপটিতে পলায়ন করেন৷ সে যাবৎ তাইওয়ান স্বশাসিত হলেও, চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রদেশ হিসেবে গণ্য করে৷ অপরদিকে চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাইওয়ান যদি সরকারিভাবে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে চীন বলপ্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবে না৷

তাইওয়ান জাতিসংঘের সদস্য নয়; অলিম্পিকে ‘‘চীনা তাইপে'' নাম নিয়ে অংশগ্রহণ করে; বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাইওয়ান-কে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না৷ সরকারিভাবে তাইওয়ান তার সরকারি নাম ‘‘চীন প্রজাতন্ত্র'' বজায় রেখেছে ও তাইওয়ানের সংবিধানে সমগ্র ‘মেনল্যান্ড' চীন-কে তাইওয়ানের রাজ্যাঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে৷ অপরদিকে চীনের চূড়ান্ত মনোভাব হল, ‘‘ওয়ান চায়না'' – চীন শুধু একটিই, বিভাজনযোগ্য নয়৷ এএফপি সংবাদ সংস্থা ১৯৪৯ সাল যাবৎ চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের একটি ‘টাইমলাইন' দিয়েছে৷

শনিবার দুই নেতা দৃশ্যত পরস্পরকে ‘‘মিস্টার'' বলে সম্বোধন করবেন, যাতে তাঁদের পরস্পরকে ‘‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট'' বলে সম্বোধন না করতে হয় – জানিয়েছেন চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের প্রধান ঝাং ঝিজুন৷ পরে দুই নেতার নাকি একসঙ্গে নৈশভোজেরও কথা আছে৷ যদিও এই দহরম-মহরমের উপযোগিতা সম্পর্কে টুইটারে বিশ্বনিন্দুকরা সক্রিয়৷ যেমন বেন গোরেন টুইট করেছেন: ‘‘আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তিন দিন ধরে ‘ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠক' নিয়ে আদিখ্যেতা করবে, আর ‘চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কী ঘটতে চলেছে', তা নিয়ে দিস্তা দিস্তা কপি ভরাবে৷''

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ-র সাবেক প্রধান মোহামেদ এল-বারাদেই কিন্তু অতোটা হতাশাপ্রবন নন৷ তিনি টুইট করেছেন, ‘‘সংলাপ, আপোশ আর আস্থাসৃষ্টি হল শান্তি আনার পথ: পশ্চিমা বিশ্ব/ইরান; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র/কিউবা; চীন/তাইওয়ান৷ উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যের এ থেকে শেখবার কি কোনো আশা আছে?''

এসি/এসবি (রয়টার্স, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়