1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চীনে ভূগর্ভস্থ পানির ৬০ শতাংশ পানের অযোগ্য

অন্তত তা সরাসরি পান না করে, ফুটিয়ে কিংবা পরিশুদ্ধ করে খাওয়া উচিত, বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম৷ বলতে কি, প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে গিয়ে উভয়সংকটে পড়েছেন চীন সরকার৷

পানির গুণগত উৎকর্ষের বাৎসরিক জরিপটি করে ভূমি ও সম্পদ মন্ত্রণালয়৷ গতবছর তারা দেশের ২০৩টি শহরে ‘গ্রাউন্ডওয়াটার' পরীক্ষা করে দেখে এবং তা পান করা সম্ভব কিনা, সে অনুযায়ী ‘অতি খারাপ' ও ‘অপেক্ষাকৃত খারাপ' তকমা এঁটে দেয়৷ সরকারি সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা গত মঙ্গলবার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে৷

২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি পানের অযোগ্য৷ ২০১২ সালে পানের অযোগ্য পানির অনুপাত ছিল ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ, অর্থাৎ এবার তা আরও বেড়েছে৷ এবং দূষণ যদি শুধু পানিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে, তাহলে তো কথা ছিল না৷ চীনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ঘোষণা করে যে, দেশের ১৬ শতাংশ জমি দূষিত; কৃষিজমির প্রায় বিশ শতাংশ নাকি ক্যাডমিয়াম গোত্রীয় ধাতুর দ্বারা দূষিত৷

বিপদ সহসাও ঘনাতে পারে, যার উদাহরণ হলো পশ্চিম চীনের লানঝু শহর, যেখানে এ মাসের সূচনায় কলের জলে মাত্রাধিক বেনজিন পাওয়া যাবার পর বাসিন্দারা বোতলে সোডাওয়াটার কিনে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করছিলেন৷ – বেশ কয়েক দশকের লাগামছাড়া প্রবৃদ্ধির দাম চোকাতে হয়েছে চীনের পরিবেশকে৷ আপাতত চীনের পরিবেশ সুরক্ষা আইনের সংশোধন নিয়ে বিতর্ক চলেছে এবং চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসে সেই সব সংশোধন পেশ করা হয়েছে৷ গত ২৫ বছরের মধ্যে পরিবেশ আইনে এই প্রথম পরিবর্তন, কাজেই তা আশার সঞ্চার করবে বৈকি৷

অপরদিকে দূষণ প্রতিরোধ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু কিছু সাফল্যের দাবি করছেন চীন সরকার৷ কিন্তু বাধা কি শুধু একটি? জাতিসংঘের কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়া থেকে ভালোই রোজগার হচ্ছিল চীনের সংস্থাগুলির: গতবছর সেটা কমে ২০১২ সালের দশ ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়৷ জাতিসংঘের ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম বা সিডিএম বস্তুত কিয়োতো চুক্তির অংশ৷ উন্নয়নশীল দেশগুলির কোনো প্রকল্প যদি প্রমাণ করতে পারে যে, সেই প্রকল্পের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমেছে, তাহলে সেই প্রকল্প সার্টিফায়েড এমিশনস রিডাকশনস বা সিইআর সার্টিফিকেট পায়৷ প্রকল্পটি তখন সেই ‘কার্বন ক্রেডিট' অন্যান্য সরকার কিংবা কোম্পানিকে বেচে মুনাফা করতে পারে৷

২০০৬ সাল থেকে চীনা কোম্পানিগুলি মোট ৮৭৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কার্বন ক্রেডিট পেয়েছে এবং তা জাপান ও ইউরোপে বেচেছে অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যে! সেই অর্থ আবার অন্যান্য পরিবেশ সুরক্ষা প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়েছে, যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা জ্বালানির অপচয় রোধ৷

কিন্তু বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিল্পসংস্থাগুলির কার্বন নির্গমন কমে গেছে, যার ফলে কার্বন ক্রেডিটের জন্য ইইউ-এর অ্যালাওয়েন্স নেমে এসেছে ২৫ ডলার থেকে ২৩ সেন্টে! কাজেই বাজারে কার্বন পার্মিট বেচার তরফে লোক বেশি, কেনার তরফে লোক কম৷ ফলে চীন এখন যে পন্থাটি নিচ্ছে, সেটি হলো: স্বদেশেই একটি এমিশনস মার্কেট সৃষ্টি করা, যা থেকে নতুন পুঁজি সৃষ্টি হবে৷

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়