1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

চীনে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সামনে ভয়াবহ দুঃসময়

চীনের মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশই বৃ্দ্ধ-বৃদ্ধা৷ ২০৩০ সাল নাগাদ সংখ্যাটা বেড়ে যাবে অনেক৷ তখন দেখা দেবে ভয়াবহ সংকট৷ প্রবীণদের মাঝেও এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই৷

হি শিয়াংগিং৷ বেইজিংয়ের এক বৃদ্ধা৷ কিন্তু বৃদ্ধা হলে কি হবে, নিজের আয় থেকে প্রতিমাসে কিছু টাকা পাঠান ছেলের কাছে৷ ছেলের সংসার চালানোর জন্য পাঠান না, টাকাটা পাঠান অন্যের এক শিশুসন্তানকে পেলেপুষে বড় করার জন্য৷ হি জানেন, যখন বয়সের কাছে হার মানবে শরীর, কাজ করার ক্ষমতা আর থাকবেনা, তখন আজকের এই শিশুটিকে খুব দরকার হবে তাঁর৷ আজ টাকা-পয়সা দিয়ে বড় করছেন, ছেলেটি বড় হয়ে তাই তাঁকে দেখবে৷

নিজের ছেলে থাকতেও কেন অন্যের ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন হি শিয়াংগিং? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক৷ তবে এক সন্তান নীতির কারণে ক্রমশ পুরুষ এবং বৃদ্ধের সংখ্যা ভারসাম্যহীনভাবে বেড়ে চলা চীনের সচেতন প্রতিটি মানুষ জানেন কেন নিজের সন্তানের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না হি৷ আধুনিকতার ছোঁয়ায় এমনিতেই দেশের সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে৷ তাই আগের মতো সন্তানেরা আর বুড়ো বাবা বা বুড়ি মা-কে সেবা করে ‘সময় নষ্ট' করতে চায়না৷ সবাই ব্যস্ত ক্যারিয়ার গড়ার কাজে৷ তারওপর গ্রামের বাড়িতে বেকার ছেলেটি নিজের জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন, বার্ধক্যে মা-কে দেখবেন কী! সে আশা করাই যে ভুল তা হি-ও জানেন৷ তাই দুঃখ নিয়েই বললেন, ‘‘যে সন্তান নিজেই গরীব, আমি বেঁচে থাকি বা মরে যাই, আমার জন্য সে কী করতে পারবে!''

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের পাশে সবসময় থাকে সরকার৷ চীনের সরকারও চেষ্টা করছে প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে৷ কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে মোট বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা ৩৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে৷ সে কথা ভেবে বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ কিন্তু জনসংখ্যার চাপে আবাসন সমস্যা এত বেড়েছে যে বৃদ্ধাশ্রম করার জায়গা পাওয়াও মুশকিল৷ এ পরিস্তিতিতেই কাজ চলছে৷ এ পর্যন্ত যে কয়টি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সামান্য৷ এখন পর্যন্ত গড়ে এক হাজার প্রবীণের জন্য মাত্র ২৫টি শয্যার ব্যবস্থা করতে পেরেছে সরকার৷

বেসরকারিভাবেও চলছে শেষ জীবনে প্রবীণদের একটু স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা৷ বেইজিংয়ের অদূরে একটি তিন তারকার হোটেলের সাইনবোর্ড বদলে ফেলাও সেরকম একটি উদ্যোগ৷ সেই হোটেলে এখন থাকেন প্রায় তিনশ প্রবীণ৷ ঝৌ চুয়ানসুন সেখানে আছে দু বছর ধরে৷ নিজের বাড়ি থাকতেও সমবয়সিদের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি খুশি৷ খুশির কারণ জানাতে গিয়ে বললেন, ‘‘নিজের বাড়িতে থাকলে তো সারাক্ষণ একা একা লাগতো৷ আমার এক ছেলে, এক মেয়ে৷ দুজনই ভালো চাকরি করে৷ কিন্তু আমাকে দেখার তো তাদের সময় নেই৷ তাই এখানে ভালোই আছি৷ এখানে সময় খুব দ্রুত কেটে যায়৷''

কিন্তু সেরকম কোনো জায়গায় থাকতে হলে আবার মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়৷ সে সাধ্য কম লোকেরই আছে৷ আবার বাড়িতে থাকবেন, দেখাশোনা করার জন্য কাউকে ঠিক করবেন – সে উপায়ও নেই৷ প্রবীণদের সেবা করে জীবিকা নির্বাহ করাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আধুনিক তরুণ প্রজন্ম খুব ভালো চোখে দেখলেতো!

এসিবি/এসবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন