1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

চীনের সনাতন চিকিৎসা – পশ্চিমে বৈষম্যের শিকার

জার্মানিতে চীনের সনাতন পদ্ধতির চিকিৎসা বেশ জনপ্রিয়৷ থেরাপিস্টদের কাছে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে৷ তা সত্ত্বেও সনাতন পদ্ধতির চিকিৎসকরা ডাক্তার হিসাবে স্বীকৃতি পান না জার্মানিতে৷

default

ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন বিপল্প চিকিৎসা হিসেবে সমাদর পাচ্ছে

রোগ শনাক্তকরণ হয়ে যায় দ্রুত: উত্তপ্ত লিভার, শুষ্ক চক্ষু, খুব বেশি ‘ইয়াং'৷ কেউ ব্যথা নিয়ে ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন, সংক্ষেপে টিসিএম-এর দ্বারস্থ হলে এই ধরনের অস্পষ্ট ও রহস্যময় শব্দ শুনতে হয়৷ রোগ নিরাময়ে প্রচলিত কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না৷ ফুটানো হয় সুঁই, দেওয়া হয় হার্বালের মিশ্রণ৷

পশ্চিমের রোগীদের কাছে অনেক সময় অদ্ভুত লাগে এই পদ্ধতি৷ সাধারণত ডাক্তারের কাছে গেলে রক্ত পরীক্ষা, স্টেথোস্কোপ দিয়ে নিশ্বাস-প্রশ্বাস শোনা, ইসিজি ইত্যাদি করা হয়৷ এইভাবে শনাক্ত করা হয় রোগব্যাধি৷ আর এখানেই চীনা চিকিত্সার সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসার পার্থক্য৷

সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলে

চীনের সনাতন পদ্ধতির চিকিৎসা সম্পূর্ণ অন্য পথে চলে৷ এখানে কোনো ব্যাখ্যা খোঁজা হয় না৷ শত শত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই চিকিৎসা করা হয়৷ রোগীর ব্যক্তিগত পরিমণ্ডল ও কিছু লক্ষণ দেখে চিকিৎসা করা হয়৷ যা আপাতদৃষ্টিতে আসল রোগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলেই মনেই হয়৷ অনেক রোগী গতানুগতিক চিকিৎসা পদ্ধতির কাছে হার মেনে টিসিএম-এর শরণাপন্ন হন৷

জার্মানিতে বহুদিন এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে বাঁকা চোখে দেখা হতো৷ ইতোমধ্যে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হচ্ছে৷

২০০৭ সাল থেকে অনেক স্বাস্থ্যবিমা সংস্থা আকুপাংচার চিকিৎসার খরচ বহন করছে৷ ২০১২ সালে জার্মানি চীন থেকে ৫৭ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের হার্বাল ওষুধ আমদানি করা হয়েছে৷ এদিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি৷ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের হার্বাল ওষুধ ও ট্যাবলেট জার্মানির চেয়ে বেশি আমদানি করেছে৷

GMF Foto Frank Sieren

জার্মান চীন বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্ক সিয়েরেন

সম্প্রতি জার্মানির বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান বায়ার চীনের হার্বাল ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিহন'-এর দায়িত্ব নেবে বলে জানিয়েছে৷

সনাতন চিকিৎসার ব্যাপারে সন্দিহান

তবে পশ্চিমের অনেক বিশেষজ্ঞ এখনও চীনের সনাতন চিকিৎসার ব্যাপারে সন্দিহান৷ তাঁদের মতে, বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না৷ আর তাই এই পদ্ধতিতে যারা চিকিৎসা করেন তাদের ডাক্তার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না৷ খুব বেশি হলে তাঁরা ‘হিলিং প্র্যাকটিশনর' হিসাবে চিকিৎসা করতে পারেন৷

বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন সাইন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি মাত্র উদ্ভিদের নির্যাস হাজারেরও বেশি উপাদান ধারণ করে, যা মানুষের শরীরে কাজ করতে পারে৷

যাই হোক এটা স্পষ্ট যে চীনের সনাতন মেডিসিন রোগ নিরাময় করতে পারে৷ দুই হাজার বছরের অভিজ্ঞতা তাই বলে৷ এই প্রসঙ্গে চীনের রাজনীতিবিদ ও সংস্কারক ডেং জিয়াওপিং-এর উক্তি উল্লেখযোগ্য: ‘‘বিড়াল কালো বা সাদা যাই হোক না কেন, আসল কথা হলো ইঁদুর মারতে পারে কিনা৷'' চীনের ঐতিহ্যবাহী মেডিসিনে ফলাফলটাই আসল৷ রোগীরা জানেন না, কী ভাবে পূতির্গন্ধযুক্ত সবুজ বাদামি রঙের ভেষজ রস তাদের শরীরে আবার ভারসাম্য এনে দেয়৷ চিকিৎসকরাও তাঁদের গোপন রহস্য ফাঁস করেন না৷

অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়

অন্যদিকে জার্মানিতে একটি ওষুধ বাজারে ছাড়ার অনুমতি পেতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়৷ অনেক বছর ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে হয়৷ পরীক্ষা চলে গবেষণাগারে, জীবজন্তু ও মানুষের ওপর৷ সব দিক দিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া গেলেই ওষুধের দোকানে আসার অনুমতি পায় নতুন ওষুধ৷ এ ক্ষেত্রে ওষুধটির ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনোরকম অস্পষ্টতা থাকে না৷ প্রত্যেকেই এ সম্পর্কে জানতে পারে৷

সনাতন ও আধুনিক এই দুই চিকিৎসার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও উভয়েরই লক্ষ্য অভিন্ন: মানুষে রোগ নিরাময়৷ শুধুমাত্র দর্শন ও পদ্ধতিটা ভিন্ন৷

এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে, পশ্চিমে কেন এই চিকিৎসার সুবিধাটা ঠিকমত কাজে লাগানো হচ্ছে না? চীনা চিকিৎসকরা কেন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন? যদিও তাঁদের চিকিৎসার ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমের সহকর্মীদের চেয়ে ভাল হয়৷ এখানে কোনো হাতুড়ে ডাক্তারদের নিয়ে কথা হচ্ছে না৷ কথা হচ্ছে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়ে৷

টিসিএম এমন এক ধরনের মেডিসিন, যা দুই হাজার বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে গড়ে উঠেছে৷ পশ্চিমের কী উচিত নয়, এই দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়