1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চীনের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপে প্রস্তুত জার্মানি: ম্যার্কেল

রাজনীতি না হলেও অর্থনীতির প্রশ্নে যথেষ্ট খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা হলো জার্মানি ও চীনের মধ্যে৷ দুই দেশের সরকার প্রধানই এই মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন৷

ম্যার্কেল জিয়াবাও জার্মানি চীন অর্থনীতি germany china merkel wen jiabao economy

ম্যার্কেল ও জিয়াবাও

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক অনেক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ৷ রপ্তানী-নির্ভর দেশ জার্মানির শিল্প-বাণিজ্য জগতের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে এই দুই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের উপর৷ প্রাক্তন চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার তাঁর ব্যক্তিগত উষ্ণতা কাজে লাগিয়ে এই দুই দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, যার ফলে সরাসরি উপকৃত হয়েছে জার্মানির অর্থনীতি৷ রাশিয়া ও চীনে মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে তাঁর কণ্ঠে কখনো তেমন কোনো জোরালো মন্তব্য শোনা যায় নি৷

বর্তমান জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল কিন্তু রাখঢাক করে কথা বলতে অভ্যস্ত নন৷ তিনি চান বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি অপ্রিয় বিষয়গুলিও খোলামেলাভাবে তুলে ধরা হোক৷ এমন মনোভাবের ফলে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সখ্যতা তৈরি হয় নি৷ রাশিয়ার পর চীনে এসে তিনি অবশ্য কিছুটা হলেও নিজের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতি আদায় করতে পেরেছেন৷ ম্যার্কেল বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, সবাই জানে যে আমরা আমাদের আলোচনায় মোটেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কোনো প্রসঙ্গ উত্থাপন করি না৷ আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সরাসরি বিষয়গুলি তুলে ধরি৷ আমার বিশ্বাস, অন্য পক্ষও বিষয়টি সেভাবেই গ্রহণ করে৷''

NO FLASH Merkel in China Terrakottaarmee Xian

চীন সফরে শুধু গুরুগম্ভীর আলোচনা নয়, ঘোরাঘুরিও করছেন ম্যার্কেল

শুধু ম্যার্কেল নন, একই সুরে বক্তব্য রেখেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও৷ উত্তর-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী শিয়ান শহরে খোলামেলা পরিবেশে তাঁদের আলোচনা হয়৷ তবে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের বেড়ে চলা অর্থনৈতিক সম্পর্ক৷ জার্মান ও চীনা কোম্পানিগুলি পরস্পরের বাজারে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার অভিযোগ করছেন৷ রাশিয়ার মতোই চীন জার্মানির ভিসা নীতির সমালোচনা করেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা সহজে জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারছেন না৷ হামবুর্গ বন্দরের নাব্যতা বাড়ানোর জন্যও তাঁরা চাপ দিচ্ছেন৷ অন্যদিকে জার্মান কোম্পানিগুলি চীনে তাদের পণ্যের নকল তৈরি নিয়ে বহুকাল ধরেই অভিযোগ করে আসছে৷ চীনে স্বত্ত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন৷ অনেক দেশই বিষয়টির সমালোচনা করে চলেছে৷ জার্মান কোম্পানিগুলি চীনে কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে আরও সুবিধার দাবি করছে৷

প্রশ্ন হলো, অর্থনীতির বিষয়ে এমন খোলামেলা আলোচনার পর কোনো এক পর্যায়ে রাজনীতির ক্ষেত্রেও এমন স্বাভাবিক আলোচনা দেখা যাবে কি না৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি বা বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে সেদেশের সরকারের নীতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে ও সরাসরি চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে পারলে তা হবে এক বিশাল সাফল্য৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

সংশ্লিষ্ট বিষয়