1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের নীট ফল কী ?

চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর ভারত সফরকে কূটনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন৷ এশিয়ায় চীনের কথিত সম্প্রসারণবাদের ব্যাপারে নতুন ভারত সরকারের অবস্থান কী, তা বুঝতেই মূলত এই সফর৷

মোদী সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকেই বেইজিং যেভাবে ভারতের কাছে আসতে চাইছে, তার পেছনে অবশ্যই কূটনৈতিক কারণ আছে৷ সেটা কী হতে পারে? গোটা এশিয়ায় চীন যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে তাতে প্রতিবেশী দেশগুলি সেটাকে যে ভালো চোখে দেখছে না বলাই বাহুল্য৷ এক্ষেত্রে ভারত কি চীনের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে? ভারতের নতুন মোদী সরকারের মনোভাব বোঝাটা দরকার বেইজিং-এর৷ স্রেফ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেই নয়, চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে ওয়াং ই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সহ সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে৷

মোদী বেইজিং-এর কাছে অপরিচিত নন, এর আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি চারবার বেইজিং গিয়েছেন এবং পেয়েছেন লাল-কার্পেট অভ্যর্থনা যেটা শুধু রাষ্ট্র- বা সরকারপ্রধানকেই দেয়া হয়৷ ১৯৫৪ সালে নেহেরু-চৌ এন লাই-এর পঞ্চশীল নীতির ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২৮শে জুন মোদীকে বেইজিং যাবার আমন্ত্রণ জানিয়ে গেছেন ওয়াং-ই৷ উল্লেখ্য, দলাই লামাকে ভারতে আশ্রয় দেবার জন্য ক্ষুব্ধ চীন ৬২ সালে ভারতের উপর আগ্রাসন চালায়৷ দখল করে নেয় পশ্চিম হিমালয়ের আকসাই চীন উপত্যকার ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড, এমনটাই অভিযোগ ভারতের৷ অন্যদিকে, চীনের দাবি অরুণাচল প্রদেশের ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটার চীনের ভূখণ্ড যা ভারতের দখলে৷ এই সীমান্ত বিরোধ মেটাতে গত ১০ বছরে ১৫ বার বিশেষ প্রতিনিধি স্তরে আলোচনা হয়৷

ভারতের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের এইসব সমস্যার সমাধান নিয়ে দু'দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হলেও সমস্যা যেখানে ছিল, সেখানেই আছে৷ শুধু আশা প্রকাশ করা হয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে চীনের ভাষায় ‘‘ইতিহাসের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্টকে’’ আপাতত পাশে সরিয়ে রেখে জোর দিতে হবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর৷ তবে নতুন দিল্লি সরকার সীমান্ত ইস্যু, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরিদের জন্য স্টেপল ভিসা ও লাদাখ সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ইস্যু তুললে সে সব বিষয়ে ‘‘ন্যায্য সমাধানের’' কথা বলে চীন তার মৌলিক অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে৷ ভারতও তার অবস্থানে অনড় থেকে চীনকে না চটিয়ে একটা প্রচ্ছন্ন কড়া বার্তা দেবার চেষ্টা করেছে৷ তবে ভারত ও চীন ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোতে সহমত হয়েছে৷ তবে দিল্লি বলেছে দ্বিপাক্ষিক আর্থিক লেনদেনে যে বৈষম্য রয়েছে তা কম করতে হবে চীনের তরফে৷

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, চীন নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে চলার জন্য মোদী সরকারের ওপর চাপ দিয়ে চলেছে সঙ্ঘ পরিবার৷ পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাস নিয়ে সরকারের মাথাব্যথার অন্ত নেই৷ কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না চীন তার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক৷ চীনকে বুঝিয়ে দিতে হবে ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হবে৷ তাই কী মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে আসন দেয়া হয়েছিল তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী লোবসাং সানগেকে? এই প্রথম অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একই সারিতে বসার অধিকার পেল কেন্দ্রীয় তিব্বতি প্রশাসনের মন্ত্রিরা৷ মোদীর বিদেশ সফরের তালিকায় ভুটানের পর আছে জাপান৷

মোদ্দা কথা, এমাসেই দিল্লিতে বসছে ভারত-জাপান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক৷ তার আগেই বেইজিং ভারতকে পাশে পেতে জানিয়ে দিয়ে যায় যে, ভারত-চীন পরস্পরের ন্যাচারাল পার্টনার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়