1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

চীনের এক নির্ভীক কন্ঠ - শিল্পী আই ওয়েইওয়েই

গণতন্ত্রকামী ও মুক্তমনা বলে পরিচিত চীনা শিল্পী আই ওয়েইওয়েইকে গ্রেফতার করে চীনের পুলিশ৷ জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই শিল্পীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার৷

default

জার্মানির মিউনিখে ২০০৯ সালে শিল্পী আই ওয়েইওয়েই

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ভেস্টারভেলে চীনের জাতীয় মিউজিয়ামে জার্মানির রেনেসাঁ যুগের শিল্পকলার একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করার কয়েক দিন যেতে না যেতেই শিল্পী আই ওয়েইওয়েইকে গ্রেফতার করে চীনের পুলিশ৷ বিশ্বের নানা স্থানে এই গ্রেফতারির নিন্দা করা হয়েছে৷

শিল্পী আই ওয়েইওয়েই জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালে বেইজিংএ৷ চীনের সমকালীন শিল্পকলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় বলে খ্যাত ওয়েইওয়েই৷ বাবা আই কুয়িং ছিলেন একজন কবি৷ ১৯৫০ সালের শেষের দিকে কমিউনিস্ট শাসকগোষ্ঠী গোটা পরিবারটিকে চীনের এক প্রদেশে নির্বাসিত করে৷ সেখানে কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করতে হত ওয়েইওয়েইকে৷ ১৯৭৬ সালে আবার তাদের বেইজিং ফিরে আসার অনুমতি দেয়া হয়৷ আই ওয়েইওয়েই প্রথমে ফিল্মএকাডেমিতে পড়াশোনা করেন৷ ১৯৮১ সালে নিউ ইয়র্কে যান তিনি৷ ১৯৯৩ সালে আবার চীনে ফিরে আসেন৷

শিল্পের নানা ক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁর৷ ছবি আঁকা, ভাস্কর্য, আলোক চিত্র, স্থাপত্য, ইন্সটেলেশন আর্ট, প্রামাণ্য চিত্র এসব কিছুতেই পারদর্শী ওয়েইওয়েই৷ সমকালীন আধুনিক শিল্পকলার জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে তিনি সুপরিচিত৷ বেইজিং অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ডিজাইনে ছিল তাঁর হাতের ছোঁয়া৷ তবে স্বাধীন মতবাদের জন্য কমিউনিস্ট শাসনযন্ত্রের কাছে সব সময় তিনি চক্ষুশূল থেকেছেন৷ কেননা শিল্লী হিসাবে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রেই অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার তিনি৷ তাঁর মতে শিল্প ও মানবাধিকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই৷ এ ছাড়া এক্ষেত্রে শিল্পীদের বিশেষ দায়িত্বও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন৷ তুলির আঁচড় বা অন্যান্য যে কোনো শিল্পকলার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় মানবাধিকার৷

জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশাল দেশ চীন সর্বক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানে ওঠার চেষ্টা করছে৷ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফুলেফেঁপে উঠছে৷ কিন্তু মানবাধিকারের প্রশ্নে এখনও অনেকটা দূরে দেশটির শাসকগোষ্ঠী৷ আর তাই তো ৪ এপ্রিল বেইজিং থেকে হংকং যাবার পখে আটক করা হয় স্বাধীনচেতা, গণতন্ত্রকামী শিল্পী ওয়েইওয়েইকে৷ এর বিরুদ্ধে অ্যামেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলি সোচ্চার হয়ে উঠেছে৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওয়েইওয়েইকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে৷ হংকংস্থ ইউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র নিকোলাস বিকুয়েলিন সমালোচনা করে বলেন, ‘‘সংকেতটা খুবই স্পষ্ট, যেরকমটি দেখা গিয়েছিল শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী লিউ শিয়াবোর ক্ষেত্রে৷ তখনও অনেকে মনে করেছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকায় রক্ষা পাবেন লিউ৷ আই ওয়েইওয়েইকে গ্রেপ্তার ও তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে চীনের অন্যান্য মুক্তমনা চিন্তাবিদদেরও মুখবন্ধ করতে চায় চীনের শাসকমহল৷''

Flash-Galerie Wochenrückschau 2011 KW 16

জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই শিল্পীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার

এই শিল্পীকে গ্রেপ্তার করার কারণটা এখনও অস্বচ্ছ৷ ওয়েইওয়েই'র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটার ও টাকা পয়সা জব্দ করেছে পুলিশ৷ তাঁর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে৷ আই ওয়েইওয়েই আগেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন৷ কিন্তু এবারের ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্নরকম৷ জোরেশোরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে ওয়েইওয়েই'এর বিরুদ্ধে৷

শিল্পীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জুয়োশিয়াও এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এইবার আমরা তাঁর স্ত্রীকেও টেলিফোন করতে পারছিনা৷ তাঁর আর্ট স্টুডিওতে তল্লাশি চালানোর পরপরই গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়৷ কয়েক ঘন্টা পর আবার ফিরে আসে ইলেকট্রিক লাইন৷ আমরা ইন্টারনেটও ব্যবহার করতে পারিনি৷''

এই শিল্পী চীনা শাসক গোষ্ঠীর এক কঠোর সমালোচক৷ কিছুদিন আগে জার্মান টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়েইওয়েই অভিযোগ করেন যে, বেইজিং'এ শিল্পী হিসাবে কাজ করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব৷ তাই বার্লিনে একটি আর্ট স্টুডিও খোলার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর৷

ওয়েইওয়েই'এর ভাষায়, ‘‘আমার বাড়িতে ঢোকার পথে দুটো ক্যামেরা লাগিয়ে রাখা হয়েছে৷ আমার টেলিফোনে আড়ি পাতা হয়৷ আমার ইমেইল, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং পরিচিত ও বন্ধুবান্ধবের ওপর নজর রাখা হচ্ছে৷''

অন্তরীণ এই চীনা শিল্পী ওয়েইওয়েই'কে বার্লিনের আর্ট ইউনিভার্সিটি ভিজিটিং লেকচারার হিসেবে সম্মানিত করছে৷

উল্লেখ্য, জার্মানির কাসেল শহরে শিল্পকলার বিখ্যাত প্রদর্শনী ডকুমেন্টায় ২০০৭ সালে ‘ফেয়ারিটেইল' নামে ওয়েইওয়েই'এর শিল্পকর্মের এক প্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছিল৷ এজন্য চীন থেকে আনা হয়েছিল ১০০১ নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষকে৷ এবং চীনের কিং রাজবংশের ১০০১ টি চেয়ার৷ এই প্রকল্পের অনুরূপে বার্লিনে চীনা দূতাবাসের সামনে অভিনব এক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হল সম্প্রতি৷ ওয়েইওয়েইর মুক্তির দাবিতে একত্রিত হয়েছিলেন বহু মানুষ, সাথে এনেছিলেন নানা ধরনের ১০০১ টি চেয়ার৷ এগুলি তারা স্থাপন করেছিলেন দূতাবাসের চারিদিকে৷ কয়েক জনের হাতে ছিল শিল্পী ওয়েইওয়েইর ছবি, যার নীচে লেখা নিখোঁজ৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক