1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

চীনাদের স্বপ্ন বিদেশে পাড়ি দেওয়া

চীনের মানুষরা, বিশেষ করে বিত্তশালীরা হামেশাই স্বপ্ন দেখেন বিদেশে পাড়ি দেওয়ার৷ সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সন্তানদের বড় করেন তাঁরা৷ অনেকের ক্ষেত্রে সে স্বপ্ন সফলও হয়৷

গু শুয়ান তাঁর সাত বছর বয়সি মেয়েকে প্রতিদিন স্কুল থেকে নিয়ে আসেন, স্কুলে পৌঁছে দিয়েও আসেন৷ ‘‘একা মেয়েকে স্কুলে যাতায়াত করতে দেওয়াটা খুব বিপজ্জনক৷'' বলেন গু শুয়ান৷ বিপদটা কী ধরনের সেটা স্পষ্ট নয়৷ তবে অদূর ভবিষ্যতে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মা-বাবার সিদ্ধান্তটা স্পষ্ট৷ তাঁদের ইচ্ছা মেয়ে অ্যামেরিকায় স্কুলশিক্ষা চালিয়ে যাবে৷

মধ্যবিত্তদেরও রয়েছে এই উচ্চাকাঙ্খা

মেয়ে জানে মা-বাবার পরিকল্পনা৷ সে তা বুঝতে পারে কিনা, তা অবশ্য তার মাও জানেন না৷ শুধু চীনের মিলিওনিয়াররাই যে তাঁদের সন্তানদের অ্যামেরিকা ও ব্রিটেনের দামি বেসরকারি স্কুলে পড়তে পাঠান তাই নয়, মধ্যবিত্তরাও এখন এই উচ্চাকাঙ্খার পথ ধরেছেন৷

Chinatown in Vancouver Kanada

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি ‘চায়না টাউন’

ইচ্ছার তালিকায় সবচেয়ে ওপরে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড৷ ২০১২ সালে প্রায় ১৫০,০০০ চীনা এই চারটি দেশে অভিবাসন করেছেন৷ বেইজিং-এর ‘সেন্টার ফর চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন'-এর এক সমীক্ষায় এই তথ্য জানা গিয়েছে৷

বর্তমানে প্রতিবছর ৮০-এর দশকের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি চীনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন৷ বেশিরভাগ অভিবাসী উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির, ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সি৷

এক বছর বয়সি ছেলেকে নিয়ে পরিকল্পনা

কাই জিং-এর ছেলে অ্যামেরিকায় জন্মেছে৷ মা-বাবার সঙ্গে এখন সে বেইজিং-এ বসবাস করে৷ বয়স তার এক বছর৷ ‘মা' ও ‘বাবা' শব্দ দুটি বলতে পারে সে৷ ‘‘চীনা ভাষাটা আয়ত্ত করতে পারলে আমরা অ্যামেরিকায় চলে যাব৷ ঐ দেশে জন্মগ্রহণ করায় গ্রিনকার্ড পেতে কোনো অসুবিধা হবে না৷'' খুশি হয়ে বলেন তরুণী মা৷

Weltbildungsbericht Schulklasse in Shanghai China

চীনাদের দেশ ছাড়ার প্রধান কারণ সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া

কাই জিং-এর স্বামী শুয়ে জিয়ান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মচারী৷ ছেলে জন্ম নেওয়ার আগেই তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করে ফেলেন মা-বাবা৷ ‘‘আমরা আমাদের ছেলেকে একটি সুন্দর জীবনের সুযোগ দিতে চাই৷ চীনের বাচ্চাদের স্কুলে অনেক চাপের মধ্যে থাকতে হয়৷ আমাদের নিজেদেরও এই অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ আমি চাইনা আমার সন্তানও এটা ভোগ করুক৷'' বলেন সুয়ে জিয়ান৷

দেশ ছাড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে

চীনের মানুষদের দেশ ছাড়ার প্রবণতার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে৷ তাঁরা চান সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ করে দিতে৷ এছাড়া অস্বাস্থকর খাদ্যদ্রব্য, স্মগ ও পরিবেশ দূষণ ইত্যাদিও উদ্বিগ্ন করে তুলছে চীনের জনগণকে৷

শুয়ে জিয়ান আরো কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেন৷ বলেন, ‘‘চীনে আমরা নিরাপত্তার অভাব অনুভব করি৷ সরকার আইনের শাসনের কথা বললেও বাস্তবে প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে৷ এছাড়া ভবিষ্যতে গণআন্দোলন হতে পারে বলে আমাদের ভয় হয়৷ ধনী দরিদ্রের ফারাক বৃদ্ধি পাওয়ায় সহিংস আন্দোলন বা গণ বিপ্লব হওয়া অসম্ভব নয়৷''

সবার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে না

ভবিষ্যতে কী তাঁর গোটা পরিবার অ্যামেরিকায় বসবাস করবেন? এই প্রশ্নের ‘না' সূচক উত্তর দেন শুয়ে জিয়ান৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি সবসময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবো না৷ অর্থ উপার্জন করতে চাইলে বিদেশের চেয়ে চীনে সুযোগ অনেক বেশি৷ কিন্তু আমার স্ত্রী ও সন্তান সর্বদা মুক্ত বাতাস ও সুশিক্ষার স্বাদ গ্রহণ করুক, এটাই আমি চাই৷''

চীনের অনেক পরিবারই এই সব কারণে পরস্পরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন৷ বিদেশে সবারই যে ভালো চাকরি পাওয়ার সৌভাগ্য হয় তা বলা যায় না৷ কাই জিং-এর পরিচিত একজন চীনে ডক্টরেট করা সত্ত্বেও ক্যানাডায় একটি সুপার মার্কেটে ক্যাশিয়ার হিসাবে কাজ করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন