1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চিতোয়ানের চোরাশিকারী

এপ্রিল মাসে ভূমিকম্প নেপালের পর্যটন শিল্পকে কিছুটা নাড়িয়ে দিয়েছে বটে, কিন্তু সে সেদেশের আকর্ষণ মোটেই কমে নি৷ যেমন চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্কের একশৃঙ্গ গণ্ডার আর বাঘ৷ তবে চোরাশিকারীরাও আছে৷

সৈন্যরা সাইকেলে চড়ে চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্কে টহল দিচ্ছেন, সূর্য ওঠার ঠিক আগে৷ হঠাৎ দেখা গেল ডাইনোসরের মতো এক প্রাগৈতিহাসিক জীব! না, ডাইনোসর নয়, গণ্ডার: যাকে পরিভাষায় বলা হয় ভারতীয় বা এশীয় গণ্ডার, কিংবা একশৃঙ্গ গণ্ডার৷

গণ্ডার মারা নিষেধ, কিন্তু ‘পোচার' বা চোরাশিকারীরা সেটা মানে না৷ সারা বিশ্বে এই প্রজাতির গণ্ডারের সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার; তাদের মধ্যে প্রায় বিশ শতাংশকে পাওয়া যাবে চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্কে: জাতীয় উদ্যানটি প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে – নেপালের সংরক্ষিত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম৷

ঘড়িয়াল

সৈন্যরা নদীর উপরেও নজর রাখেন৷ হঠাৎ ঘড়িয়ালের চোখ! প্রজাতি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ দিবাকর চাপাগাইন সৈন্যদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন৷ ঘড়িয়ালরা বিরল হয়ে আসছে, জানালেন তিনি৷ প্রায়ই ঘড়িয়ালের বাসা থেকে ডিম চুরি হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘পার্কের একটি ব্রিডিং সেন্টার আছে৷ সেখানে কৃত্রিমভাবে ঘড়িয়াল ব্রিড করে তাদের দু'তিন বছর অবধি রাখা হয়৷ তারপর তাদের মুক্ত প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়৷''

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী গত বছর নেপালে কোনো বড় প্রজাতির জীবজন্তু চোরাশিকারীদের দৌরাত্ম্যে মারা পড়েনি৷ আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেপালকে প্রাণীবৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আদর্শ বলে মনে করা হয়৷ এই সাফল্য এসেছে ব্যাপকভাবে সেনাবাহিনীকে কাজে নামানোর পর৷ চিতোয়ানে প্রায় দেড় হাজার সেনা প্রতিদিন সারা পার্ক জুড়ে পোচার-দের খোঁজ চালান৷

এ নতুন যুগের টহলদারিতে মোবাইলে জিপিএস দিয়ে খবর রাখা হয়, কোন কোন এলাকায় কবে কবে টহল দেওয়া হয়েছে৷ চোরাশিকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ক্যামেরা৷ ডাব্লিউডাব্লিউএফ নেপাল এই সব সরঞ্জাম এবং সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণের অর্থসংস্থান করেছে৷

বিগত কয়েক দিনে জালে খুব বেশি অপরাধী ধরা পড়েনি: কয়েকজন গ্রামবাসী কাঠ কুড়োতে গিয়ে ধরা পড়েছে৷ একেবারে ভিতরের গভীর অরণ্যের উপর নজর রাখার জন্য এবার ড্রোন ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে৷

রয়েল বেঙ্গল টাইগার!

চতুর্দিকে ছবি সহ নোটিস ঝুলছে৷ নয়তো বাস্তবে তার হদিশ পাওয়া মুশকিল৷ হয়তো শিকার দেখে বোঝা যায়, এখানে বাঘ আছে, যদিও পাড়ের উঁচু ঘাসের মধ্যে তাকে দেখা সম্ভব নয়৷ ক্যামেরার ফাঁদ থেকে তার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়৷ সারা বিশ্বে আজ মাত্র তিন হাজার বাঘ মুক্ত প্রকৃতিতে বাস করছে – তাদের মধ্যে ১২০টি বাঘ বাস করে এই চিতোয়ানে৷ তাদেরও সংখ্যা বাড়ছে৷ চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্কের জীববিজ্ঞানী আশীষ অধিকারী বলেন, ‘‘এই ছবিগুলো যখন দেখি, তখন এতো অবাক লাগে! কী রাজকীয় একটি জীব! সদ্য একটা বুনো শুয়োর ধরেছে, চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্কে যা কিনা বাঘেদের অন্যতম শিকার৷ এখনও এখানে যে হ্যাবিটাট আছে, তা বাঘেদের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পক্ষে যথেষ্ট৷ যার অর্থ, নেপাল বাঘের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে পারে৷''

গ্রামবাসীরা

ন্যাশনাল পার্কে জীবজন্তু সংরক্ষণ একমাত্র সম্ভব হয়েছে আশপাশের গ্রামগুলির মানুষজন বন্যপ্রাণীদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু মেনে চলেন বলে; অপরদিকে পার্কের সাফল্য তাদেরও অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে৷ তারা চুলার কাঠ সংগ্রহ করতে পারেন, কিন্তু সেটা ন্যাশনাল পার্কের বাইরে সৃষ্ট একটি বিশেষ বনভূমিতে৷ ন্যাশনাল পার্কে বছরে যে লাখ খানেক পর্যটক আসেন, এমনকি কপালে থাকলে একশৃঙ্গ গণ্ডারের ছবিও তুলে নিয়ে যেতে পারেন, তাদের পার্কে ঢুকতে যে টিকিট কাটতে হয়, সেই টিকিটের টাকার অর্ধেক ব্যয় করা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণে – সে বিষয়েও তারা খুশি৷ এবং তাতে কাজ হয় বৈকি৷ গ্রামবাসীরা মাঝেমধ্যে পোচার-দের খোঁজ দেন: এই কৃষিকর্মীরা যেমন কিছু বেআইনি মৎস্যশিকারী আবিষ্কার করেছেন৷

বনরক্ষীদের হেডকোয়ার্টার্সে আরেক চমক! যে মানুষটিকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তিনি নেপালের কুখ্যাততম গণ্ডার শিকারী বলে পরিচিত৷ তাঁকে মালয়েশিয়ায় ধরে, পরে চিতোয়ানে পাঠানো হয়েছে৷ ত্রিশ-বছর-বয়সি এই চোরাশিকারী নাকি ২২টি গণ্ডার বধ করেছেন৷ চীনে গণ্ডারের নাকের খড়্গটির দাম কিলো প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ইউরো, কেননা পদার্থটি নাকি পুরুষের যৌনক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যানসার সারাতে পারে৷

চোরাশিকারীর এবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা – যা কিনা পার্কের জীবজন্তু এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে খুবই ভালো খবর৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক