1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন যুক্তরাজ্যের রবার্ট এডওয়ার্ডস

চিকিৎসার ক্ষেত্রে ২০১০ সালের নোবেল পুরস্কার পেলেন ব্রিটেনের চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস৷ তাঁরই গবেষণার ফলে পৃথিবীর প্রথম টেস্টটিউব শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল৷

default

নোবেল বিজয়ী রবার্ট এডওয়ার্ড্স

প্রতিবছরই নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণার ক্ষণটিতে টান টান উত্তেজনা তৈরি হয়৷ কে কোন বিষয়ের জন্য এবারে নোবেলটি পাচ্ছেন সেটি নিয়ে৷ যাক, এবারের এই অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে৷ পুরস্কার কমিটি এই সোমবার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস, যার গবেষণার বদৌলতে পৃথিবীর প্রথম টেস্টটিউব শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল, চিকিৎসাশাস্ত্রে ২০১০ সালের নোবেল পুরস্কারটি তিনি পেয়েছেন৷

Louise Brown, das erste Retortenbaby der Welt

এই সেই লুইস ব্রাউন, ১৯৮৩ সালে

পৃথিবীর প্রথম টেস্ট টিউব শিশু

লুইস ব্রাউনের কথা মনে আছে! ভাবছেন কে এই লু্ইস ব্রাউন? ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করা পৃথিবীর প্রথম টেস্ট টিউব শিশুটির নাম লুইস ব্রাউন৷ রবার্ট এডওয়ার্ডসের যুগান্তকারী গবেষণার সাফল্যেই পৃথিবীতে আসতে পেরেছিল লুইস৷ আর রবার্টের এই গবেষণার সাফল্য হাসি ফুটিয়েছিল পৃথিবীর প্রজনন অক্ষম হাজারো দম্পতিদের ম্লানমুখে৷

কারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, চিকিৎসাশাস্ত্রে অবদান রাখার জন্য ৮৫ বছর বয়স্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস ১০ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন মূল্যের এই পুরস্কারটি পেয়েছেন ৷ প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে রবার্টের এই যুগান্তকারী গবেষণা সম্পর্কে জানিয়েছে, ‘তাঁর এই গবেষণা পৃথিবীর প্রায় ১০ শতাংশ নিঃসন্তান দম্পতির জন্য আশার আলো জাগিয়ে তুলেছিল৷ এই সব আশাহত দম্পতিদের জন্য তাঁর এই গবেষণা কর্ম মানবিকতার তুল্যমূল্যে মানব জাতির জন্য মহার্ঘ্য একটি সাফল্য৷'

শুরু হয়েছিল যেভাবে

Noblepreis Plakette Nobel Prize medallion over text background, partial graphic

নোবেল প্রাইজের সম্মানি দশ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন

রবার্ট এডওয়ার্ডস ১৯৫৫ সালের দিকে তাঁর এই গবেষণার কাজটি শুরু করেছিলেন৷ ১৯৬৮ সালে এসে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে মানুষের ডিম্বাণু নিষিক্ত করার ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে প্যাট্রিক স্টেপটো'র সঙ্গে মিলে এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন৷ প্যাট্রিক স্টেপটো ১৯৮৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন৷

প্রজননে অক্ষম দম্পতিদের জন্য আশার আলো বয়ে এনেছিল রবার্টের এই সাফল্য৷ বিষয়টি এখন ঝামেলাহীন আর সাদামাটা শোনালেও সেসময়ের পৃথিবীর প্রেক্ষিতে রবার্টকে তাঁর এই উদ্যোগটির জন্য নানান হ্যাঁপাই পোহাতে হয়েছিল৷ এরমধ্যে চার্চের চোখ রাঙানি থেকে শুরু করে সরকার, মিডিয়া এমনকি তাঁর সহকর্মীদের অনেকেই সেসময় রবার্টকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন৷

কিন্তু আজ রবার্ট এবং প্যাট্রিক স্টেপটো'র এই যুগান্তকারী গবেষণার কল্যাণে পৃথিবীর প্রায় ৪ মিলিয়ন টেস্টটিউব শিশু বিবিধ কারণে প্রজনন অক্ষম বাবা-মার ঘর আলো করে আছে৷ তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রবার্ট এডওয়ার্ডস এর যুগান্তকারী এই গবেষণা৷

উল্লেখ্য, বরাবরই চিকিৎসাশাস্ত্রে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নামটি সবার আগে ঘোষিত হয়ে থাকে৷ ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তির ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কারের প্রচলন হয়েছিল৷

প্রতিবেদন: হুমায়ূন রেজা

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়