1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

চিকিৎসাবিদ্যায় পড়তে আগ্রহী প্রতিটি ছেলে-মেয়ে

যে কোন ছাত্র-ছাত্রীই চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে খুব ভাল একটি বিষয় বেছে নেওয়ার৷ যে কাউকে প্রশ্ন করলে শোনা যাবে, ‘‘আমি চিকিৎসক হতে চাই’’৷ জার্মানিও এর ব্যতিক্রম নয়৷ জার্মানিতে চিকিৎসক হওয়া মানে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া৷

default

চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী প্রায় প্রতিটি ছেলে-মেয়ে

ডাক্তারি পেশার বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে৷ প্রথমতঃ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলতে হবে বেশ উঁচু পর্যায়ের পেশা৷ চাকরি নেই বা চাকরি পাচ্ছি না – এই চিন্তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত এবং আর্থিক উপার্জনের ক্ষেত্রে ডাক্তারির মতো খুব কম পেশাই রয়েছে৷ আর ঠিক এ কারণেই জার্মানিতে চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী প্রতিটি ছেলে-মেয়ে৷ কারণ এই পেশার চাহিদা বাজারে প্রতিদিন বাড়ছে৷

প্রতিযোগিতা একারণেই অসম্ভব তীব্র৷ প্রতি পাঁচজন আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসনের জন্য৷ পায় মাত্র একজন৷ তার মানে এই নয় যে জার্মানিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিকিৎসক রয়েছে৷ এর কারণ – দেখা যায় একজন ছাত্র বা ছাত্রী বেশ সফলভাবে পড়া শেষ করল অথচ সে চিকিৎসা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করল না৷ সে কাজ শুরু করল ব্যাংকার বা সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে৷

Wochenrückblick 36 KW Flash-Galerie Streit über Prämien für Ärzte

জার্মানিতে চিকিৎসক হওয়া মানে সোনার হরিণ হাতে পাওয়া

আর অন্যান্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগই পায় না কারণ – ভর্তির জন্য যত মার্কের প্রয়োজন তাদের সংগ্রহে তা নেই৷ সোফিয়া ঝানাল, ‘‘আমি যখন প্রথম চিঠিটি হাতে পাই তখন আমি চিৎকার করে কেঁদেছিলাম৷''

সোফিয়া আবিটুর অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেই আবেদন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগে ভর্তির জন্য৷ ২০০৫ সাল থেকে প্রতি সেমেস্টারে সে আবেদন পত্র পাঠিয়ে যাচ্ছে৷ এখনো পর্যন্ত কোন আবেদন পত্রই গ্রহণযোগ্য হয়নি৷ প্রতিবারই সে চিঠি পেয়েছে ‘‘সিট খালি নেই''– এই উত্তরে৷ বর্তমানে সোফিয়ার বয়স ২৪৷ সোফিয়ার আত্নবিশ্বাস,‘‘আমি নিজেকে শুধু একটি পেশাতেই কাজ করতে দেখি – তা হল চিকিৎসা ক্ষেত্রে৷ আমি এই পেশাতেই কাজ করতে চাই৷ আমি অসুস্থ মানুষদের সাহায্য করতে চাই৷ তাদের বেঁচে থাকার আশ্বাস দিতে চাই৷''

সোফিয়া অপেক্ষা করছে৷ এবং শুধু শুধু বসে না থেকে সে ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সিং-এর ওপর একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছে৷ এভাবে যদি কোন রকমে মেডিক্যাল স্কুলে ঢোকা যায়৷ তবে সোফিয়া একা নয়৷ ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী একই কোর্স করছে সোফিয়ার সঙ্গে৷ তাদের মধ্যে অন্তত ছয় জন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়৷ সবাই অপেক্ষা করছে কবে আসবে কাঙ্খিত চিঠি৷

Superteaser NO FLASH Deutschland Symbolbild Gesundheitsreform

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ডাক্তারি বেশ উঁচু পর্যায়ের পেশা

সোফিয়া জানাল, নার্সিং-এর এই কোর্স থেকে সে আগে থেকেই অনেক কিছু শিখছে যা চিকিৎসা পেশায় কাজে লাগবে৷ কীভাবে একজন রোগীর দেখাশোনা করতে হয়, প্রাথমিক চিকিৎসা – তার সবটাই সোফিয়া এখন জানে৷ তবে কোন মেডিক্যাল স্কুলে সত্যিই সে সিট পাবে কিনা তা কোনভাবেই বলা যাচ্ছে না৷ কেন সিট পাওয়া কঠিন ? শেয়ের জানালেন, ‘‘আমরা মেডিক্যাল স্কুলের সিট বিতরণ করি কোটা সিস্টেমে৷ কোটা হচ্ছে ২০-২০-৬০ এই নিয়মে৷ কারণ প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র৷ প্রথম ২০ শতাংশ পায় উচ্চ মাধ্যমিক রেজাল্টের ওপর৷ এরপরের কুড়ি শতাংশ থাকে ওয়েটিং লিস্টে৷ দেখা যায় যারা ওয়েটিং লিস্টে এসেছে তারা প্রায় ৬ বছর অপেক্ষা করেছে মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তির জন্য৷''

ব্যার্নাড শেয়ের জানান, যেসব ছাত্র-ছাত্রী ওয়েটিং লিস্টে থাকে তাদের ওপর আমাদের নজর থাকে৷ কতদিন তারা ওয়েটিং লিস্টে থাকতে চায়৷ সোফিয়ার রেজাল্ট খুব ভাল৷ এ্যাভারেজ ১.৯৷ কিন্তু এর চেয়েও ভাল ফলাফল যারা করেছে তারা চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে৷ সোফিয়াকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে৷

Tarife Gesundheit Ärzte Flash-Galerie

‘‘আমি নিজেকে শুধু একটি পেশাতেই দেখি – তা হল চিকিৎসা ক্ষেত্রে’’ : সোফিয়া

সোফিয়া নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করছে – সোফিয়াকে অত্যন্ত ভাল রেজাল্ট করতে হবে মেডিক্যালে ভর্তির জন্য৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন সোফিয়ার আবেদনপত্র বিবেচনা করে দেখবে৷

বাস্তব সত্য হল সোফিয়াকে অপেক্ষা করতে হবে৷ কারণ এখন পর্যন্ত মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য যে ধরণের পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন – সোফিয়ার তা নেই৷ শুধু ইচ্ছা শক্তিই এবং আগ্রহ এখানে যথেষ্ট নয়৷ স্কুল ফাইনালের রেজাল্ট এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করছে কে, কোন্ বিষয় নিয়ে কোথায় পড়াশোনা করবে৷ কারণ যে সব ছাত্র-ছাত্রী প্রথমবারেই মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাদের সবার এ্যাভারেজ ১.০৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়