1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য, গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম রক্ত

স্কটল্যান্ডের গবেষকরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে রক্ত উৎপাদন করার ক্ষেত্রে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছেন৷ রক্তদানের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক সময় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় চিকিৎসকদের৷ সেক্ষেত্রে কৃত্রিম রক্ত চমৎকার এক সুরাহা হতে পারে৷

অনেকেই নিয়মিত রক্তদান করতে যান৷ অনেকটা রুটিনের মতো৷ তবে এই পরিমাণ যথেষ্ট নয়৷ সব মিলিয়ে রক্তের সংরক্ষণ কম৷ বিশ্বব্যাপী রক্তদান প্রতিষ্ঠানগুলি রক্তদাতা পাওয়ার জন্য রীতিমত সংগ্রাম করছে, যাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে রক্তের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করা যায়৷

রক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ হতে হবে

দানের আগে রক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ কিনা – তা পরীক্ষা করে দেখা হয়৷ রক্তে এইডস ও হেপাটাইটিসের মতো রোগের ভাইরাস আছে কিনা সে ব্যাপারে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়৷ এ কারণে বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তদানের অনুমতি দেওয়া হয় না৷ এই ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত কৃত্রিম রক্ত আদর্শ এক সমাধান৷

Future now Blut Blutzellen Flash-Galerie Media Center

দানের আগে রক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ কিনা – তা পরীক্ষা করে দেখা হয়

ব্যবহারযোগ্য, বিশুদ্ধ রক্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন৷ স্টেমসেলের গবেষণায় উন্নতি হওয়ায় লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তাঁরা৷ এডিনবরার ‘স্কটিশ সেন্টার ফর রেগেনেরাটিভ মেডিসিন' তথা এসআরসিএম-এর গবেষকরা এক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে পেরেছেন৷ ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়ার জন্য আবেদনও করেছেন তাঁরা৷ গবেষকরা প্রথমে ভ্রূণের স্টেমসেল নিয়ে কাজ করেন, পরে এটিকে লোহিত কণিকায় রূপান্তর করেন৷

প্রাপ্তবয়স্কদের স্টেমসেল থেকে তৈরি

এখন তাঁরা প্রাপ্তবয়স্কদের স্টেমসেলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন৷ ‘‘এই সেল থেকেও লোহিত কণিকা প্রস্তুত করা যায়৷'' বলেন প্রকল্পের পরিরচালক মার্ক টারনার৷ তবে এই সেলের বিভক্ত হওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে বিপুল পরিমাণে লোহিত কণিকা প্রস্তুত করা সম্ভব নয়৷

তবে গত কয়েক বছরে লক্ষ্য করা গিয়েছে, দেহের টিস্যু থেকেও স্টেমসেল বের করা সম্ভব৷ ‘‘আমরা এই স্টেমসেলকে গবেষণাগারে এমনভাবে প্রস্তুত করতে পারব, যা থেকে বিপুল পরিমাণে রক্তের সেল তৈরি হতে পারে৷'' জানান গবেষক টারনার৷

২০০৯ সাল থেকে স্কটিশ গবেষকরা কৃত্রিম রক্ত প্রস্তুত করার ব্যাপারে গবেষণা করছেন৷ এসআরসিএম এবং ‘রোজলিন সেল'-এর যৌথ উদ্যোগে প্রচেষ্টাটি এগিয়ে যাচ্ছে৷ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কর্মক্ষমতা আরো বাড়াতে চান তাঁরা৷ তবে উৎপাদনের খরচ যাতে আকাশচুম্বী হয়ে না ওঠে সে দিকেও লক্ষ্য রাখছেন গবেষকরা৷

খরচের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হয়

এক মিলিয়ন রক্তের সেলের জন্য এক মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হলে তা হবে অর্থহীন৷ এতে কারোরই লাভ হবে না৷

ব্রিটেনে কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে অনেক ভ্রূণ সৃষ্টি করা সম্ভব৷ জরায়ুতে স্থাপন করার আগে অতিরিক্ত ভ্রূণ সংরক্ষণ করে রাখা হয়৷ নির্দিষ্ট সময় পার হলে এগুলিকে গবেষণার কাজে দেওয়া হয়৷ অনেকে ভ্রূণকে গবেষণার কাজে ব্যবহার করার বিরোধী৷ তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ বলেন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির বায়োএথিসিস্ট জন হ্যারিস৷

‘‘প্রাপ্ত বয়স্কদের স্টেমসেল দিয়ে কাজ করলে নৈতিক দিক দিয়ে কোনো বাধা থাকে না৷ এই সেল ভ্রূণ থেকে নয়, বয়স্ক মানুষের ত্বকের সেল থেকে তৈরি৷ ‘‘এই সেলকে বিশেষ পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়, যা ভ্রূণের মতো হলেও ভ্রূণ নয়৷'' জানান টারনার৷

Symbolbild Bluttransfusion

ব্যবহারযোগ্য, বিশুদ্ধ রক্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন

রক্তের গ্রুপে মিল থাকতে হয়

কৃত্রিম রক্তকে জীবাণুমুক্ত, টেকসই, সুলভমূল্যের ও রোগীদের জন্য সহনযোগ্য হতে হবে৷ রক্ত দেওয়ার ব্যাপারে সামঞ্জস্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপের মধ্য মিল থাকতে হয়৷ ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দিলে রোগীর প্রচণ্ড সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে৷

কৃত্রিম রক্তের ক্ষেত্রে সে রকম সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম৷ রোগীর ত্বক বা রক্তের নমুনা নিয়ে একই গ্রুপের রক্ত তৈরি করা সম্ভব৷

প্রতি বছর শুধু জার্মানিতেই প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন রক্তের ব্যাগ প্রয়োজন৷ যেমন দুর্ঘটনা হলে বা অপারেশনের ক্ষেত্রে৷ ক্যানসারের রোগীদের জন্যও রক্তের প্রয়োজন পড়ে৷ কেননা কেমোথেরাপি দেওয়া হলে প্রায়ই দেহ নতুন রক্ত তৈরি করতে পারে না৷ এ সব কারণে গবেষণাগারে রক্ত তৈরি হলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য হবে এক বিরাট পদক্ষেপ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন