1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চিংড়ি নিয়ে গবেষণা বাগেরহাটে

হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে গড়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আয় করে৷ এই রপ্তানির অবস্থান পোশাক শিল্পের পর দ্বিতীয়৷ স্বভাবতই এমন আয় যে খাত থেকে, সেখাতে সরকারের নজর একটু বেশিই থাকার কথা৷

shrimp, pond, চিংড়ি, গবেষণা, বাগেরহাট, বাংলাদেশ

কৃত্রিম চিংড়ি ঘের (ফাইল ছবি)

কিন্তু তা সত্ত্বেও চিংড়ি রপ্তানি নিয়ে মাঝেমাঝেই বিপত্তিতে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের৷ গত বছর হঠাৎ কিছুদিনের জন্য ইউরোপে বাংলাদেশি চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়৷ কারণ এক ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক নাইট্রোফুরান৷ চিংড়ি উৎপাদনকারী ফার্মে কিভাবে যেন ঢুকে পড়ে এই নাইট্রোফুরান৷ যা আবার ইউরোপে নিষিদ্ধ৷ ফলে বেশ খানিকটা ক্ষতির মুখে পড়ে এখাতের ব্যবসায়ীরা৷

বাগেরহাটে গবেষণা কেন্দ্র

চিংড়ি খাতে এধরনের বিপত্তি রোধে প্রয়োজন আরো গবেষণা, জেলেদের সহায়তা৷ আর সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের দক্ষিণের শহর বাগেরহাটে গড়ে উঠেছে চিংড়ি গবেষণাগার৷

মূলত চিংড়ি নিয়ে গবেষণা, এর উৎপাদন বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ আর চাষীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সরকারের এই চেষ্টা৷ বাগেরহাটের দড়াটানা নদীর কাছে প্রায় ৮ একর জমির উপর গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে৷ সেখানে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধাসহ ৪টি গবেষণাগার৷ রয়েছে চিংড়ি হ্যাচারি আর ৯ টি পুকুরের সমন্বয়ে পন্ড কমপ্লেক্স৷ সংস্থাটিতে কাজ করছেন ১১ জন বৈজ্ঞানিকসহ ২৮ জন৷

নীতিমালা মেনে গবেষণাগার

এই চিংড়ি গবেষণাগার নির্মাণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে৷ গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, চিংড়ির রোগবালাই দমন ও প্রতিকার, চাষের জন্য মাটি ও পানির গুণগত পরীক্ষা, খাদ্য ও পুষ্টি এবং চিংড়ির গুণগত মান উন্নয়নে এখানে গবেষণা করা হবে৷

শুধু তাই নয় এই গবেষণাগার থেকে চিংড়ি চাষিদের কারিগরি সেবা প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান ইয়াহিয়া৷

উৎপাদন বাড়বে

বলে রাখা ভাল, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে চিংড়ির গড় উৎপাদন কম৷ ফলে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে চিংড়ি রপ্তানি করে ভালো আয় করলেও তা আরো বাড়ানো সম্ভব৷ মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ সচিব শরফুল আলম মনে করেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উন্নত চাষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিংড়ির উৎপাদন ৩ থেকে ৪ গুণ বাড়ানো যাবে৷ আর এই কাজটিই করবে চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র৷

চলছে প্রশিক্ষণ

এখনো অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি বাগেরহাটের এই গবেষণাগার৷ কিন্তু তারপরও সংস্থাটি থেকে গত বছর ১ হাজার জনকে চিংড়ি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ এ বছরও সমসংখ্যক ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ৷ মূলত চিংড়ি চাষী, ডিপো মালিক, চিংড়ি প্রক্রিয়াকারকরা নিচ্ছেন প্রশিক্ষণ৷

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বৃহত্তম চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলা বাগেরহাট৷ সেখানকার অধিকাংশ এলাকাতেই দেখা যায় চিংড়ি ঘের৷ স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকার একটি বড় অংশ নির্ভরশীল চিংড়ির উপর৷ তাই বাগেরহাটেই চিংড়ি গবেষণাগার নির্মাণ হওয়ায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষে গুণগত পরিবর্তন আসবে৷ বাড়বে উৎপাদন- এমনটাই আশা করছেন চাষীরা৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক