1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চায়ের ছাঁকনি থেকে পানীয় জলের ফিল্টার

বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ আজও বিশুদ্ধ জল থেকে বিচ্ছিন্ন৷ ফলে তাদের এমন সব রোগ-ব্যাধির শিকার হতে হয়, যা সহজেই এড়িয়ে চলা সম্ভব৷ দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা এবার এমন এক ফিল্টার তৈরি করেছেন, যা এই সমস্যা কিছুটা লাঘব করবে৷

Wasser, বিশুদ্ধ, জল, বিজ্ঞানী, গবেষণা, চায়ের ছাঁকনি, পানীয়, ফিল্টার, water, filter, science

বিশুদ্ধ জল সহজলভ্য করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা চলছে অনবরত (ফাইল ছবি)

আশ্চর্য চায়ের ছাঁকনি

বড় আকারে উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে মারেলিজে বুটস শেষবারের মত কিছু পরীক্ষা সেরে ফেলছেন৷ স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মাইক্রো-বায়োলজিস্ট আধ বোতল জল ঢালছেন ছোট চায়ের ছাঁকনির মত দেখতে এক ফিল্টারে৷ এই জল পরীক্ষা করে দেখা হবে, তা কতটা বিশুদ্ধ৷ মাত্র ৩০ বর্গ মিটার আকারের এই গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে এই অভিনব ফিল্টার৷ বুটস জানালেন, ‘‘এই ছাঁকনি অত্যন্ত শস্তা৷ এমনকি মিনারেল ওয়াটারের বোতল বা বাজারে প্রচলিত ফিল্টারের চেয়েও এর দাম কম৷ ব্যবহারের পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ৷ ফলে প্রত্যন্ত এলাকায়ও এই ফিল্টার বিতরণ করা যেতে পেরে৷ শুধু তাই নয়, এই ছাঁকনি দুষিত জল থেকে জীবাণু আলাদা করে আস্তে আস্তে জীবাণু নষ্ট করে দেয়৷ ফলে সেই জীবাণু আবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে না৷''

আবিষ্কারের রহস্য

জাতিসংঘ সহ অসংখ্য এনজিও এই সাফল্যের কথা জানতে পেরে স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে৷ এই আশ্চর্য ফিল্টার নিয়ে সবার মনেই আগ্রহ দেখা দিয়েছে৷ এতে বিস্ময়ের কোনো কারণ নেই, কারণ শুধু আফ্রিকা মহাদেশেই প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পায় না৷ অন্য অনেক আবিষ্কারের মতো এই ফিল্টারের ধারণাও এক কাকতালীয় ঘটনা৷ অধ্যাপক ইউজিন ক্লুটি জানালেন, ‘‘শুরু থেকে আমাদের গবেষণার দিশা মোটেই ঠিক এই দিকে ছিলো না৷ আমরা আসলে শিল্পক্ষেত্রে কাজে লাগে, এমন বড় আকারের ফিল্টার তৈরি করতে চাইছিলাম৷ কিন্তু গবেষণাগারে কাজ করলে ছোট আকারে কাজ শুরু করতে হয়৷ প্রথম প্রচেষ্টায় হাতেনাতে ফল পেয়ে ছোট আকারের ফিল্টার তৈরির কথা আমার মনে আসে৷''

তখন চায়ের ছাঁকনির আদলে ফিল্টার তৈরি করার আইডিয়া মনে ধরে৷ ছাঁকনিতে চায়ের পাতা না দিয়ে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ভরে দেওয়া হয়, যা জল থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ আলাদা করতে পারে৷ এর মধ্যে অভিনব কিছু নেই৷ তবে যুগান্তকারী নতুন সংযোজন ছিল ফিল্টারের কাগজের উপর বায়োসাইড'এর প্রলেপ লাগানো৷ অতি ক্ষুদ্র ন্যানো তন্তুর স্তর থাকে এর মধ্যে৷ এর ফলে শুধু ছাঁকনির মাধ্যমে জীবাণু আলাদা করা নয়, তাদের ধ্বংস করে দেওয়াও সম্ভব৷ এই ফিল্টারের ব্যবহার সহজ করতে বিভিন্ন আকারের হোল্ডারের মধ্যে ছাঁকনি বসিয়ে দেওয়া যায়৷ ফলে প্রচলিত প্রায় যে কোনো রকমের প্লাস্টিক বোতলে লাগানো যেতে পারে এই ফিল্টার৷ অধ্যাপক ইউজিন ক্লুটি আরও বললেন, ‘‘অতি দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতে আমরা এখানে ন্যানো প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছি৷ আমরা তাদের জীবনযাত্রা বদলে দেবো৷ একবার ভেবে দেখুন, আমরা এই সব মানুষের মনে কতটা আশার সঞ্চার করতে পারি৷ এখন আর তাদের পরিবারের শিশুরা দুষিত জল খেয়ে আচমকা ডায়েরিয়ায় মারা যাবে না৷''

বৃহত্তর লক্ষ্য

কেপ টাউন শহরের কাছে স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ক্লুটি ও তাঁর টিমের সাফল্য নিয়ে গর্বিত৷ চায়ের ছাঁকনির মতো জলের ফিল্টার এক বিশাল সাফল্য, কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু এটা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রয়াস নয়৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতমুখী গবেষণার একটা সার্বিক পরিকল্পনার অংশ এই কাজ৷ প্রকল্পের নাম ‘হোপ' বা আশা৷ বর্ণবৈষম্যের যুগের কালিমা মুছে ফেলে স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে দেশ ও গোটা আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করতে চায়৷ প্রকল্পের জনক ডেসমন্ড থমাস বললেন, ‘‘স্টেলেনবশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অ্যাপারথাইড জমানার অন্যায় ব্যবস্থারই অংশ ছিলো৷ আমরা সেই বাস্তব স্বীকার করে অতীতের ভুল শুধরে নিতে চাই৷''

আগামী বছরগুলিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হল ‘সাইন্স ফর সোসাইটি' – বা সমাজের কাছে বিজ্ঞানের সুফল এনে দেওয়া৷ এত বড় মাপের লক্ষ্য পূরণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়৷ তাই অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীদের একটি দল শীঘ্রই দেশের বাইরে গিয়ে এক প্রচারাভিযান শুরু করছে৷ ‘হোপ' প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আফ্রিকা, অ্যামেরিকা ও ইউরোপে সহযোগিতার সম্ভাবনারও খোঁজ করবেন তাঁরা৷

চায়ের ছাঁকনির মতো ফিল্টার বিতরণের কাজেরও দেরি নেই৷ আগামী বছরের শুরুতেই এনজিও'গুলি এই কাজ শুরু করতে চলেছে৷ এই সাফল্যের কারণে অধ্যাপক ক্লুটি অত্যন্ত সন্তুষ্ট৷ তিনি বললেন, ‘‘এটা সত্যি একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা৷ বিজ্ঞানী হিসেবে আমি আমার জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির ক্ষমতা এমনভাবে কাজে লাগাতে পারছি, যে তার ফলে বিশ্বে অনেক মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নতি ঘটছে৷''

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক