1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চাষবাসের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব জানতে আর বিজ্ঞানীদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না, আমরা সকলেই সেটা টের পাচ্ছি৷ অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে৷ তার প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা৷

একেবারে ছবির মতো সুন্দর খেত৷ কিন্তু জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে গোটা বিশ্বে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এমন দৃশ্য বদলে যেতে পারে বলে মনে করেন ফ্রাংক এভ্যার্ট৷ বন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষামূলক খেতে তাঁর সঙ্গে দেখা৷ অনেক দেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলে তিনি গমের ফলনের উপর বাড়তি তাপমাত্রার প্রভাব পরীক্ষা করছেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মিশর, চীন সহ নানা দেশে গম চাষ হয়৷

ফ্রাংক এভ্যার্ট-এর আশঙ্কা, বেড়ে চলা তাপমাত্রার কারণে উৎপাদনের পরিমাণ অনেক কমে যাবে৷ কিছু অঞ্চলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ ইউরোপ, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশের মতো যে সব এলাকায় ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, সেখানে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷''

Eifel Agrarlandschaft Wiesen Felder Einsamkeit

সুজলা সুফলা পৃথিবী...

একটি গ্রিনহাউসে গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির গমের উপর তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন৷ গবেষকদের মতে, আরও উন্নত মানের গমের প্রজাতির কারণে তাপমাত্রা বাড়া সত্ত্বেও ফলন এখনো কমে নি৷ ফ্রাংক এভ্যার্ট বলেন, ‘‘এই প্রজাতি প্রায় ৮০ বছর পুরনো৷ জার্মানিতেই এটি সৃষ্টি হয়েছিল৷ এর গোড়ার দিকটা অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু ঘন৷ ফলনের পরিমাণের দিক থেকে আজকের প্রজাতির তুলনায় সেটি কিন্তু দুর্বল৷ অন্যদিকে আমদের কর্মসূচিতে নতুন একটি প্রজাতি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ এটির গোড়া অনেক বড়, দানার সংখ্যা বেশি এবং দানাগুলির আকারও সম্ভবত বড় হবে৷''

তবে উচ্চমানের প্রজাতির জন্য বিশেষ ধরনের সারের প্রয়োজন৷ সবার পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয়৷ অন্যদিকে এই সার ব্যবহার না করলে ফলন বাড়ানোও সম্ভব নয়৷ উত্তাপ গমের কতটা ক্ষতি করে, তা নির্ভর করে গাছ কতটা বড় হয়েছে, তার উপর৷ শস্য প্রস্ফুটিত হওয়ার সময়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ফলন অনেক কমে যায়৷ ফলনের এক পূর্বাভাষ মডেলের মধ্যেই অনেক তথ্য লুকিয়ে রয়েছে৷ তাপমাত্রা বাড়লে ফলন কতটা কমে যায়, গবেষকরা তা অঙ্ক কষে দেখেছেন৷

তাতে দেখা গেছে, যে পৃথিবীর তাপমাত্রা মাত্র এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বছরে ৪ কোটি ২০ লক্ষ টন ফলন কমে যাবে৷ ২১০০ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷

কৃষি-অর্থনীতিবিদ ইওয়াখিম ফন ব্রাউন আন্তর্জাতিক পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন৷ বর্তমানে তিনি বন শহরে উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান৷ তিনি এই হিসেবের কথা জানেন৷ তাঁর মতে, এর ফলে সংকট দেখা দেবে৷ তিনি বলেন, ‘‘খাদ্যাভাবের পরিণামের নানা দিক রয়েছে৷ শুধু মানুষের উপর চাপ বাড়বে না, অর্থনীতির উপরেও এর প্রভাব পড়তে বাধ্য৷ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবের ফলে সমাজ বদলে যাবে, পরবর্তী প্রজন্মের উপর তার ছাপ পড়বে৷''

ফ্রাংক এভ্যার্ট এই সমস্যা সম্পর্কে জানেন৷ তাঁর আশা, এ বিষয়ে সমাজের মনোভাবে পরিবর্তন আসবে৷ তিনি বলেন, ‘‘সমাজে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে, এটাই আমার আশা৷ জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটা সমস্যা, যার উপর সমাজ হিসেবে আমাদেরও প্রভাব রয়েছে৷ খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে৷''

ফ্রাংক এভ্যার্ট সেই সঙ্গে বিজ্ঞানের উপরেও ভরসা করছেন৷ নতুন ও উন্নত প্রজাতির শস্যের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষুধার কিছুটা মোকাবিলার চেষ্টা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়