1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চালকবিহীন গাড়ির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে এখন সারা বিশ্বে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে৷ স্বয়ংচালিত গাড়ির সুবিধা হলো, সাধারণ পরিস্থিতিতে তার জুড়ি নেই৷ কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎ বিগড়োলে সামাল দিতে পারবে তো এই গাড়ি?

গাড়ির মাথায় ঘুরছে তার চোখ! বিজ্ঞানীরা গাড়িটার নাম রেখেছেন ‘মেড ইন জার্মানি'৷ এই গাড়িটিকে কিছু ‘মানবিক' বৈশিষ্ট্য দেবার জন্য, সেই সংক্রান্ত গবেষণা ও গাড়ি তৈরিতে পনেরো লাখ ইউরোর বেশি খরচ হয়েছে৷ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল: গাড়ি তার অব্যবহিত পারিপার্শ্বিককে চিনবে কী করে৷

আইটি-বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর রাউল রখাসের কথায়, ‘‘স্বয়ংক্রিয় গাড়িচালনার সবচেয়ে মুশকিল ব্যাপার রাস্তা চেনা বা নেভিগেশন নয় – সে তো আজকালকার সাধারণ গাড়িগুলোও পারে৷ মুশকিল হলো ট্র্যাফিক লাইট, ট্র্যাফিক সাইন আর পথচারীদের চেনা৷ বিশেষ করে রাস্তায় মানুষজন কোথায় দাঁড়িয়ে, গাড়িকে সেটা জানতে হবে, তার খেয়াল রাখতে হবে৷''

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ড্রাইভিং সিমিউলেটর এই জার্মানিতেই৷ এখানেই পরীক্ষা করে দেখা হয়, গাড়ি চালানোর সময় মানুষের কি ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় – তা সে সাধারণ পরিস্থিতিতেই হোক, আর বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেই হোক৷ কম্পিউটারে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেন, মানুষের তথাকথিত সপ্তম ইন্দ্রিয় কিভাবে কাজ করে৷

প্রযুক্তিবিদদের স্বপ্ন হলো এমন একটি বুদ্ধিমান গাড়ি, যা সাধারণ গাড়িচালকদের চেয়ে বেশি যুক্তযুক্তভাবে কাজ করবে৷

যে সব বিশেষজ্ঞরা সেই গাড়ির নকশা করেছেন, তাদের একজন হলেন প্রফেসর লেমার৷ তিনি জানান, ‘‘স্বয়ংচালিত গাড়ির রহস্য হলো, গাড়িটা ঠিক একজন মানুষের মতো তার পারিপার্শ্বিকের খোঁজখবর রাখতে পারবে৷ সেজন্য দরকার এমন সব সেন্সর, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের আলো, বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করবে৷ তাছাড়া ঐ গাড়ির একজন গাড়িচালকের মতো অভিজ্ঞতা থাকা চাই: সামনে হয়ত কেউ সিগনাল না দিয়েই মোড় নিচ্ছে৷ এই তথ্যটিকে প্রযুক্তিগতভাবে সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী কাজ করা, যাতে কোনো বিপদ না ঘটে, এটাই হলো স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালানোর একটা কেন্দ্রীয় প্রশ্ন৷''

বার্লিনের মুখ্য রেলওয়ে স্টেশনের কাছে প্রতিদিন প্রায় পনেরো লক্ষ গাড়ি চলে – তার মধ্যে একটি ভুতুড়ে গাড়ি! কেননা সে গাড়িতে ব্রেক, অ্যাক্সিলারেটর কিংবা স্টিয়ারিং, সবই কম্পিউটার চালিত৷ ভুতুড়ে গাড়ির চারপাশে যে সব গাড়ি চলছে বা পথচারীরা চলাফেরা করছেন, লেজার স্ক্যানার, রাডার ও ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে তাদের খোঁজ রাখা হয়৷

বিশেষ একটি সফটওয়্যার সঙ্গে সঙ্গে ট্র্যাফিক পরিস্থিতি ধরতে পারে ও গাড়িকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়৷ সেফটির জন্য একজন ড্রাইভার সিটে বসে থাকলেও, গুরুতর বিপদ ছাড়া তিনি স্টিয়ারিং-এ হাত লাগান না৷

প্রফেসর ডক্টর রাউল রখাস বলেন, ‘‘ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগে বৈকি, গাড়িতে বসে আছি অথচ কেউ গাড়ি চালাচ্ছে না! সেজন্য আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি লাগে৷ বিশেষ করে গাড়ি যখন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে মোটরওয়ে ধরে চলেছে আর আপনি দেখছেন, স্টিয়ারিং আপনি থেকে ঘুরছে! সে এক অদ্ভুত অনুভূতি৷''

শুধু বার্লিনের জমাট ট্র্যফিকেই নয়, মোটরওয়েতে – যেখানে অনেক জায়গায় স্পিড লিমিট আছে – সেখানেও মেড ইন জার্মানি গাড়ি ঠিকই তার চ্যানেল ধরে চলে৷ এই গাড়ির ব্রেন হলো তার কম্পিউটার, সে-ই কম্পিউটারই নিজে থেকে গাড়ির চলা-ফেরা-ব্যাঁকা ঠিক করে দেয়৷

গাড়ির বুটে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, যা বিশেষ করে বিপদ এড়াতে সাহায্য করে৷ যানচলাচল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর কার্স্টেন লেমারের কথায়, ‘‘ভবিষ্যতের পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির উপকারিতার একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে এই যে, চালকের হার্ট অ্যাটাক মতো সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে গাড়ি নিজেই সেটা বুঝে রাস্তার ধারে পার্ক করবে৷''

সেও তো এক ধরনের বিপ্লব, তাই না?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়