1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ সুয়ারেজ

প্রায় ‘ড্র্যাকুলা' কায়দায় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ইটালির জর্জো কিয়েলিনিকে কামড় দিয়েছিলেন এই সেদিন৷ সুয়ারেজের সেই কামড়ে এ ক’দিন পাগল ছিল দুনিয়া৷ আর বৃহস্পতিবার তাঁকে চার মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করলো ফিফা৷

কামড়ের ঘটনাটা সাইকোলজিক্যাল না প্যাথোলজিক্যাল, তা নিয়ে আলোচনায় যেতে চাননি জার্মান টেলিভিশনের ফুটবল বিশারদ অলিভার কান, যাঁকে বিশ্বের চিরকালের সেরা গোলকিপারদের মধ্যে গণ্য করা হয়৷ তবে তিনি আলোচনায় না গেলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন ফিফা এবার সুয়ারেজকে চার মাস বা অন্যভাবে বলতে গেলে নয়টি খেলা থেকে নিষিদ্ধ করেছে৷ অর্থাৎ বিশ্বকাপ থেকে এবারের জন্য একেবারে বাদ উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার৷

অলিভার কানের বক্তব্য

রিও ডি জানেরোর এক হোটেলের ছাদে জার্মানির অন্যতম টেলিভশন চ্যানেল জেডডিএফ-এর খোলা স্টুডিও-য় দাঁড়িয়ে অলিভার কান কথা বলতে চাইছিলেন যে বিষয়টি নিয়ে, সেটি হলো: ইউরোপীয় ফুটবলের দৈন্যদশা৷ প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর আগেই স্পেন, ইংল্যান্ড ও ইটালির মতো নক্ষত্র খসে গেল৷ নেদারল্যান্ডসের সাফল্যে জার্মানরা সুখি, কেননা ওলন্দাজ বলতে এ দেশের মানুষ আরিয়েন রবেনকেই বোঝেন, যেমন ফ্রান্স বলতে ফ্রাংক রিবেরিকে বোঝায়৷ রবেন-রিবেরি আবার বায়ার্ন মিউনিখে খেলেন কিনা৷ আর জার্মান কোচ অটো রেহাগেল গ্রিক দলের দায়িত্বে থাকাকালীন গ্রিস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে৷ সে যাবৎ জার্মানরা গ্রিসকেও মোটামুটি সমর্থন করে থাকেন৷

মোট কথা, ফুটবলে নিজের দেশকে সমর্থন করাটা যেমন স্বাভাবিক, তেমন পরের দেশের সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়ে উত্তেজিত অথবা বিচলিত হওয়াটা নির্ভর করে ইতিহাস, ভুগোল ও নেচার স্টাডির ওপর – ঠিক যেন ইউরোভিশন সং কনটেস্টে ভোট দেওয়া! সেই ভোটদানের পেছনে যে সব ভালো লাগা, খারাপ লাগা থাকে, তার সঙ্গে গান গাওয়া কিংবা পপ সংগীতের যে কতটা সম্পর্কে, তা বলা মুশকিল৷

ঠিক সেইভাবেই, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যাঁরা এই বিশ্বকাপ নিয়ে মেতেছেন – ফেসবুকে, টুইটারে কিচিমিচির চোটে কান পাতা যাচ্ছে না – তাঁদের কতজন যে ফুটবলের ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী, আর কতজন ‘টোয়াইলাইট' কিংবা ‘টোয়াইলাইট'-এর প্রপিতামহ ‘ড্র্যাকুলা'-র কায়দায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ ইটালির জর্জো কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ফলে এক নতুন মজা, এক নতুন হুজুগে পেয়েছেন, তা বলা শক্ত৷

এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে

সুয়ারেজ এর আগেও বিপক্ষ দলের প্লেয়ারদের কামড়ে বেশ কয়েকটা ম্যাচের জন্য ‘সাস্পেন্ড' হয়েছেন৷ ২০১০ আর ২০১৩ সালের সেরকম দু'টি ঘটনা নথিভুক্ত৷ আবার প্রতিপক্ষকে কামড়ে দেওয়ার ব্যাপারটাও ফুটবলের একক নয়: বক্সিং-এর মাইক টাইসন-ও ‘কামড়াতেন'৷ মঙ্গলবার সুয়ারেজ কিয়েলিনিকে কামড়ানোর দু'মিনিটের মধ্যেই উরুগুয়ে খেলার একমাত্র গোলটি করে এবং ইটালি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়৷ লোকে যার মানে করছে, সুয়ারেজের কামড়টি ছাড়া ইটালি ড্র করত এবং পয়েন্টের হিসেবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যেত৷

কিন্তু কেমন খেলেছে ইটালি? কী মনোভাব নিয়ে খেলেছে? যতটা সম্ভব কম দৌড়োদৌড়ি করে আধবুড়ো খেলোয়াড়দের বেশি কষ্ট না করিয়ে স্রেফ সাট্টার হিসেব ঠিক রেখে যে বিশ্বকাপে নক-আউট স্টেজে পৌঁছনো যায় – হয়ত তার বেশিও এগনো যায় – আমরা কি সেই ধরনের বিশ্বকাপ দেখতে চাই? প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ ডাকাত সর্দারের মতো পির্লো কী করলেন অথবা না করলেন, তা-তে ফুটবল দুনিয়ার কি এসে যায়? গোডিনের হেডে গোল খাবার পর যে ইটালির নড়তে-চড়তে দশ মাস, তারাই যেন কাঁকড়াবিছের কামড় খেয়ে সজাগ, সপ্রতিভ, ক্ষিপ্র এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল৷ ফুটবলের বিজনেসম্যানরা যেন আবার স্পোর্টসম্যান হয়ে উঠলেন৷ সুয়ারেজের শৈশব কিংবা মনস্তত্ত্ব নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে আমাদের কি ফুটবল, তার মানসিকতা, তার নৈতিকতা, তার ‘বাণিজ্যিকতা' নিয়ে মাথা ঘামানো উচিত নয়? বাকি সবাই, সব দেশ এবং সব স্বার্থ জিতল, শুধু ফুটবল হারল, সেটাই কি আমরা চাই?

না, অলিভার কান অতটা দার্শনিকতা করেননি৷ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইউরোপীয় ফুটবলে কি হচ্ছে, তাই নিয়ে৷ বলেছেন, প্রিমিয়ার লিগে যত ভালো প্লেয়ার খেলে, বিশ্বের আর কোনো লিগে ততটা নয়৷ যার ফল এই যে, ইংল্যান্ডের মাটিতে স্বদেশের উঠতি তারকারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারছে না৷ জার্মানিতে আগামী প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করার দরকারি কাজটাকে এক কথায় বলে ‘নাখভুক্স', অর্থাৎ ‘ছানাপোনা'৷ নেইমার নামধারী ২২ বছরের যে তরুণ আজ ব্রাজিলকে তার ‘হেক্সা', অর্থাৎ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দেবে – বছর খানেক আগেও সে ছিল ঐ ‘নাখভুক্স' বা ছানাপোনা৷ সান্টোসের মতো ক্লাব পাখিপোষার মতো করে এই সব ছানাপোনা বড় না করলে আজ আমরা কাকে নিয়ে মাততাম?

কেন, সাতাশ-বছর-বয়সি এক প্রায় সমপরিমাণ প্রতিভাধর ফুটবলারকে নিয়ে, যে বল যত ভালোই কন্ট্রোল করতে পারুক না কেন, উত্তেজনার মাথায় নিজের স্নায়ু কন্ট্রোল করতে পারে না৷

আচ্ছা, লাইনের বাইরে জলের বোতল এবং হাঁটুর ডাক্তার ছাড়া সাইকিয়্যাট্রিস্ট রাখার ব্যবস্থা করা যায় না?

নির্বাচিত প্রতিবেদন