1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘চাই এক বাস্তবিক ইউরোপীয় ইসলাম'

প্যারিসের হত্যাকাণ্ড যাবৎ ইসলামধর্ম সহিংসতাপ্রবণ কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক চলেছে৷ এর ফলে ইসলাম যে সফলভাবে জার্মান সমাজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উঠেছে, সেই সত্যটাই উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করেন লোয়াই মুডহুন৷

স্বভাবতই প্যারিসের হত্যাকাণ্ড থেকে আবার কতোগুলি পুরনো, বুনিয়াদি প্রশ্ন মাথা চাড়া দেয়: ইসলাম কি বস্তুত একটি মানববিদ্বেষি, সহিংসতাপ্রবণ ধর্ম? এই বিশ্বব্যাপী ধর্মের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাবলী থেকে কি জিহাদিদের মারণযজ্ঞের কোনো সাফাই পাওয়া যায়? অপরদিকে: মুসলিমদের জার্মান সমাজের অঙ্গ করে তোলার প্রচেষ্টা কি ব্যর্থ হয়েছে?

ন্যায্য প্রশ্ন বৈকি৷ তবুও তারা মূল সমস্যার ধারে-কাছে আসে না, কেননা আসল প্রশ্ন হল: আধুনিক সভ্যতার জীবনধারা এবং স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে ইসলামধর্ম নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কিনা৷

‘‘ইসলাম'' বলে যে কোনো অনড়, অপরিবর্তনীয় একক ধর্ম নেই, তা ইতিমধ্যে সকলেই আঁচ করেছেন৷ মুসলিমরাও সকলে এক নন – বিশ্বের কোনো কোণাতেই নয়৷

Verterter der islamischen Dachverbaende in Deutschland

জার্মানির বিভিন্ন মুসলিম সমিতির প্রতিনিধিরা চিন্তিত

বস্তুত প্রতিটি ইসলাম অধ্যুষিত দেশে পৃথক এক ধরনের ইসলাম প্রচার ও পালন করা হয়৷ সৌদি আরবের ওয়াহাবি প্রভাবিত গোঁড়া ইসলামের সঙ্গে ইরানের শিয়া প্রভাবিত রাষ্ট্রীয় ধর্মের যেমন আকাশ-পাতাল ফারাক৷ অপরদিকে মালয়েশিয়া কিংবা তুরস্কের মতো অর্থনৈতিক বিচারে সফল মুসলিম দেশগুলিতে এক ধরনের বাস্তববাদী, রক্ষণশীল ইসলাম আজ বহুকাল হল বিরাজ করছে৷

এ থেকে বোঝা যায় যে, শেষমেষ মুসলিমরা নিজেরাই নির্ধারণ করেন, তারা ‘‘ইসলামি'' বলতে কী বোঝেন – সে ক্ষেত্রে তারা কবে কোথায় বাস করছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ সংখ্যাগুরু সুন্নি ইসলামে আধিপত্যপরম্পরা নেই এবং ক্যাথলিক গির্জার পোপ-এর মতো কোনো চূড়ান্ত ধর্মগুরু নেই৷ যা আমাদের সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়: ইউরোপ কোন ধরনের ইসলাম চায়?

সফল অন্তর্ভুক্তি

আবেগপূর্ণ বিতর্কের ফলে আমরা হয়তো বিগত কয়েক বছরের লক্ষণীয় সাফল্যের কথা ভুলে যাই৷ ২০০৫ সালে ‘জার্মান ইসলাম সম্মেলন' (ডিআইকে) প্রতিষ্ঠা যাবৎ জার্মানির স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় ইসলামের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে – যার ফলে জার্মান মানসিকতায় রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় একটি বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে৷

সব বিরোধ-প্রতিরোধ সত্ত্বেও রাষ্ট্র ও তার মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে এই মুক্ত সংলাপ পারস্পরিক সমঝোতা এবং এ দেশে ইসলামের ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে৷ আজও ‘‘ইসলাম''-কে নানা অজানা ভীতি ও আশঙ্কা প্রকাশ করার কাজে অপব্যবহার করা হয়; তা সত্ত্বেও তথাকথিত ‘‘অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি''-র সাফল্য অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই৷

ইতিমধ্যে জার্মানিতে রাজ্য পর্যায়েও সরকারি স্কুলগুলিতে ইসলাম শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে৷ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি ঈশ্বরতত্ত্ব একটি পাঠ্য বিষয়৷ এ ভাবেই জার্মানি এবং ইউরোপে একটি বাস্তবিক ইউরোপীয়, গণতন্ত্রের উপযোগী ইসলামের বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে, যা বাইরে থেকে অন্যান্য গোত্রের ইসলাম আমদানি করার অপেক্ষা রাখে না৷

যেহেতু ইসলাম চিরকালই সময়ানুগ এবং ইসলামি ঈশ্বরতত্ত্ব প্রধানত রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত, রাষ্ট্র এবং সমাজকে সর্বসাধ্য প্রয়োগ করতে হবে, যাতে ইসলামের এই ইউরোপীয় সংস্করণ যথাশীঘ্র সম্ভব গড়ে ওঠে৷ তার যে কোনো বিকল্প নেই, প্যারিসের সর্বাধুনিক হত্যাকাণ্ডই তার প্রমাণ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়