1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চাইলেই পরমাণু বোমা বানাতে পারি: আহমাদিনেজাদ

ইরানে বৃহস্পতিবার ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৩১ বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে৷ বিরোধী সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যাচ্ছে৷ প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ইরানকে কার্যত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন৷

default

ইরানকে কার্যত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলেন আহমাদিনেজাদ

প্রেসিডেন্টের ভাষণ

তেহেরানে ইসলামি বিপ্লবের ৩১ বর্ষপূর্তি উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে আহমাদিনেজাদ বলেন, ইরান ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে সমর্থ হয়েছে৷ নাতান্স কেন্দ্রে এই সাফল্যের পর সেই ইউরেনিয়াম বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রায় ৮ লক্ষ রোগী চিকিৎসার কাজে তৈরি তেহেরানের পরমাণু চুল্লির উপর নির্ভর করে আছে৷ তাই রাজনৈতিক বোঝাপড়ার জন্য আমরা অপেক্ষা করে বসে থাকতে পারি না৷'' আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশ্যে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘‘আমরা আগেই অনেক বার বলেছি, আপনারা বোঝাপড়া চাইলে ভালো কথা৷ না হলে আমাদেরই সমৃদ্ধকরনের মাত্রা বাড়াতে হবে৷'' তাঁর দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তার জবাবে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘‘আমি জানি না, আমেরিকা, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতারা হয় প্রযুক্তি সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেন না অথবা তাঁরা শুধু অভিনয় করছেন৷ আইএইএ'র পরিদর্শকদের কড়া নজরদারির মধ্যে আমাদের গোটা উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে৷ তাঁদের ও তাঁদের ক্যামেরার সামনে আমরা কীভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবো?'' তিনি অবশ্য দাবি করেন, যে বোমা তৈরির জন্য ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা ইরানের রয়েছে৷ কিন্তু ইরান সেই পথে এগোতে চায় না, বোমা তৈরি করতে চায় না৷

Iran Mahmud Ahmadinedschad Rede

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৩১ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজাদি স্ক্যোয়ারে সমাবেশ

কর্মসূচির মূল্যায়ন

উল্লেখ্য, সোমবারই ইরান ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করবে বলে ঘোষণা করেছিল৷ বোঝাপড়া অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ'র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এই কাজ করার কথা ছিল৷ কিন্তু পরিদর্শকরা আসার আগেই ইরান সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করে দেয়৷ আইএইএ'র রিপোর্ট অনুযায়ী নাতান্স কেন্দ্রে সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা অত্যন্ত কম৷ ফলে জ্বালানি তৈরি করতে ইরানের আরও অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে৷

বিরোধী দমন

এদিকে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর দিচ্ছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, যদিও নিরপেক্ষভাবে সেই সব তথ্য যাচাই করা কঠিন৷ এমনকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ খাতামি ও প্রাক্তন স্পিকার মেহেদি কারুবির উপর হামলারও খবর পাওয়া যাচ্ছে, যদিও তাঁদের কোন ক্ষতি হয় নি৷ বিরোধী নেতা মীর হুসেন মুসাভিকে ঘিরে এক সমাবেশের উপরেও পুলিশের হামলার খবর পাওয়া গেছে৷ তেহেরানে আজাদি স্কোয়্যার এলাকায় সরকারি উৎসবের কাছ থেকে বিরোধী সমর্থকদের দূরে রাখতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে ও শূন্যে গুলি চালায়৷ বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচারীর মৃত্যু হোক', ‘ভয় পেয়ো না, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি' ইত্যাদি স্লোগান দিয়েছে৷ বিপ্লব উপলক্ষে সরকারি মদতে যে উৎসব ও মিছিল চলছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরোধীরাও প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেছে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়