1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

চাঁদে রয়েছে কয়েক’শ মিলিয়ন ম্যাট্রিক টন বরফ পানি

চাঁদে পানির অস্তিত্ব অনেক আগেই ধরা পড়েছে৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, আগে যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি পানি রয়েছে চাঁদে৷

default

চাঁদে পাওয়া পানির ছবি

মানুষ যখন প্রথম চাঁদে পা রেখেছিল এবং চাঁদ থেকে পাথরের টুকরো নিয়ে এসেছিল পৃথিবীতে, তখন থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়েছিল যে চাঁদ ভীষণ শুকনো৷ কিন্তু গভীর পর্যবেক্ষণ এবং তিনটি পৃথক মহাকাশযানের পাওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে চাঁদে পানির অস্তিত্বের দ্ব্যর্থহীন প্রমাণ পাওয়া গেছে৷

চাঁদে পানির অস্তিত্ব সম্পর্কে আগে জানা থাকলেও, পানির পরিমাণ সম্পর্কে কিন্তু কারো ধারণা ছিল না৷ কিন্তু এবার, চাঁদে যে পরিমাণ পানির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে, তা বিজ্ঞানীদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে৷ চাঁদ কী তবে নভোচারীদের জন্য একটু বেশি ভিজে ? বিজ্ঞানীরা এখন অনেকটা সেইরকমই ভাবছেন৷

চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘নাসা' চাঁদে পানির পরিমাণ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে৷ তাতে বলা হয়, নর্থ লুনার পোলে ৬০০ মিলিয়ন ম্যাট্রিক টন বরফ-পানি রয়েছে৷ বলা হচ্ছে, ৬০০ মিলিয়ন ম্যাট্রিক টন - অর্থাৎ যাকে ইউএস গ্যালনে পরিবর্তন করলে দাঁড়ায় ১৫৮ মিলিয়ন মার্কিন গ্যালন৷ এই পরিমাণ পানি নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের অধিবাসীদের তিন বছরের পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম৷ ভাবুন তো একবার, চাঁদ থেকে পানি নিয়ে এসে পৃথিবীর চাহিদা পূরণ করার ব্যাপারটা৷ মজার ব্যাপার তাই না ? একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদের সাউথ পোলে বরফ-পানি জমে থাকার ফলেই সেখানে কখনও সূর্যের আলো পৌঁছায় না৷ আর দূর থেকে সেগুলোকে কৃষ্ণ গহ্বর বল মনে হয়৷ তবে শুধু বরফ জমা পানিই নয়, চাঁদের সাম্প্রতিক মিশনগুলো বলছে, চাঁদের ধূসর ধুলোর নীচে জমাট বাধা বরফও রয়েছে৷

Bild der NASA und ISRO Eisvorkommen am Nordpol vom Mond

নাসার ক্যমেরায় তোলা নর্থ লুনার পোলের ছবি

চাঁদে সবসময়ই পানি ছিল

ভারতীয় নভোযান চন্দ্রযান-১-এ বহন করা সরঞ্জামাদির মাধ্যমেই প্রথম জানা যায়, চাঁদে এতো বেশি পানি থাকার কথা৷ মজার ব্যপার হচ্ছে ৪০ বছর আগে অ্যাপোলোর নভোচারীরা চাঁদের যে পাথর সংগ্রহ করেছিলেন, নতুন করে সেই নমুনার ওপরে সমীক্ষা চালনো হয়েছে সম্প্রতি৷ তাতেও দেখা গেছে, চাঁদের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা ভাবা হতো, তার চেয়ে শতগুন বেশি পানি রয়েছে চাঁদে৷ এখন অবশ্য বিজ্ঞানীরা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে, চাঁদ সৃষ্টির প্রথম থেকেই তার ভেতরে পানি ছিল৷ অর্থাৎ এটা আসলে চাঁদেরই পানি৷

কিন্তু চাঁদে যে এতো পানি রয়েছে, বিজ্ঞানীরা তা আগে বুঝতে পারলেন না কেন ? বিজ্ঞানীর বলছেন, প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদের গঠনের শুরুতেই তপ্ত ম্যাগমা থেকে পানি আসে চাঁদের ভেতরে৷ তাঁরা এখন মনে করছেন, আগের সমীক্ষাগুলো থেকে যা মনে করা হয়েছিল, তার চেয়ে চাঁদের ভেতরের পাথর এবং অন্যান্য কিছুর বিস্তৃতি আরো অনেক বেশি গভিরে রয়ে গেছে৷ আর এই সব কিছু দেখে শুনেই বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধারণার চেয়ে শতগুন বেশি পানি রয়েছে চাঁদে৷

Mond bei Tag

এই চাঁদ কী এবার আমাদের পোনির যোগান দেবে ?

সমীক্ষার নেতৃত্বদানকারী ফ্রান্সিস ম্যাক কিউবিন ‘স্পেস ডট কম'-কে বলেছেন, অ্যাপোলো মিশন থেকে প্রথম যখন চাঁদের পাথরগুলো পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়, তখন এগুলো সত্যিই ভীষণ রকম শুকনো ছিল৷ আর এই কারণেই মানুষের ধারণা হয়েছিল - চাঁদ যেভাবে গঠিত হয়েছে, তার ফলে প্রকৃত অর্থেই চাঁদ ছিল শুকনো৷

২০০৮ সালে ‘ভলকানিক গ্লাস বিডস' থেকেই গবেষকদের প্রথম ধারণা হয় যে, আগে যা ভাবা হতো তার চেয়ে চাঁদে অনেক বেশি পানি আছে৷ আর সেই সময় থেকেই ফ্রান্সিস ম্যাক কিউবিন এবং তাঁর সহকর্মীরা চাঁদে পানির সন্ধান করতে থাকেন৷ কিন্তু তখন তা শুধু বিভিন্ন মডেল এবং হিসেব নিকেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল৷ আর তখন থেকেই বিভিন্ন মিশনের পর্যবেক্ষকরা এবং নাসাসহ মহাকাশ সংস্থাগুলো চাঁদের বিভিন্ন জায়গায় যথেষ্ট পানির উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করে৷ একই সঙ্গে চাঁদের বহির্ভাগে বরফ-পানি থাকার কথাও জানায় তারা৷

সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত নতুন সমীক্ষাগুলো বলছে, চাঁদে অনেক বেশি পানি থাকার কথা জানা যাওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়