1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

চাঁদের পুকুর, বালির গান

পশ্চিম চীনে গোবি মরুভূমির প্রান্তে মরুদ্যান শহর দুনহুয়াং, লাখ দু'য়েক মানুষের বাস৷ বালিয়াড়ি অঞ্চলে চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটন৷ মূল সমস্যা পানির, কেননা হ্রদ ও নদীনালা শুকিয়ে যাচ্ছে৷

মিংশা – মানে বালির গান – পশ্চিম চীনের মরুদ্যান শহর দুনহুয়াং-এর দক্ষিণের বালিয়াড়িগুলিকে ঐ নামেই ডাকা হয়৷

শহরের প্রান্তে বালিয়াড়িগুলি টুরিস্টদের খুব প্রিয়৷ উটে চড়া আর স্লেজে চড়ে বালির উপর দিয়ে নীচে নামা ছাড়া এখানে আর একটি দ্রষ্টব্য আছে৷

বালিয়াড়ি এলাকার ঠিক মাঝখানে বাঁকা চাঁদের মতো একটি হ্রদ, যা দু'হাজার বছর যাবৎ মাটির নীচে কোনো অদৃশ্য উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে আসছে৷ এই হ্রদটি বহুদিন ধরে ফটোগ্রাফার সুন কুয়ানহুয়া-র ছবির বিষয়বস্তু:

‘‘আগে হ্রদটা আরো অনেক বড় এবং গভীর ছিল – প্রবীণেরা বলেন, দশ মিটার অবধি গভীর, কোনো মানুষ তার তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি৷ ইতিমধ্যে হ্রদটা অনেক ছোট হয়ে এসেছে – আর অগভীর; জলের উচ্চতা এখন মাত্র তিন মিটার৷''

দুনহুয়াং-এ ফলের বাগান

তবে পানি কমে আসছে৷ খামারচাষি চিন জিয়ান-এর পিচ ফলের বাগান এখনও সবুজ, কিন্তু মাত্রাধিক কৃষিকাজ আর টুরিস্টদের ভিড়ে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রা ক্রমেই কমে আসছে৷ চিন বলেন:

‘‘সাধারণত আমরা মাসে একবার কিংবা দু'বার পানি পাই৷ পানি ব়্যাশন করা হয় কিনা৷ যাতে গাছগুলো বড় বেশি না বাড়ে আর বেশি পানি না খায়, সেজন্য আমরা বসন্তে গাছগুলোকে ছেঁটে দিই৷ রাসায়নিক সারেও কাজ হয়৷''

প্রতি কিলো শুকনো পিচের জন্যে চিন জিয়ান পান প্রায় ছয় ইউরো মতন৷ অর্থাৎ বছরে তাঁর আয় মোট ৫০ হাজার ইউয়ান, বা চার হাজার ইউরো৷

মরুভূমি আরো কাছে চলে আসছে – বছরে চার মিটার করে বাড়ছে৷ তা সত্ত্বেও যে কেন চাষবাসের কাজে ক্রমেই আরো বাধা আরোপ করা হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারেন না চিন:

‘‘সরকার আমাদের বাধা দিচ্ছে৷ বালিয়াড়ির কাছে আমার আরো জমি আছে, কিন্তু তা আমি চাষবাস কিংবা পশুপালনের জন্য ব্যবহার করতে পারব না৷ কেননা আমাদের অতি কম পানি দেওয়া হয়৷''

মরুভূমির জাহাজ

কাজেই চিন এবার পর্যটন শিল্পের দিকে নজর ফিরিয়েছেন – এবং একটি উট কিনেছেন৷ চিন জিয়ান ও তাঁর পরিবারবর্গ খামারের প্রাঙ্গণে দশটি গোল তাঁবু খাড়া করেছেন৷ এগুলো টুরিস্টদের ভাড়া দেওয়া হবে৷ দুনহুয়াং-এর প্রায় দু'লাখ বাসিন্দাদের অনেকে সপ্তাহান্তে মরুভূমির চার্ম উপভোগ করতে আসেন৷ পিচফলের বাগানে পিকনিকের পর টুরিস্টরা যান বালিয়াড়িতে হাঁটাচলা করতে৷

অবশ্য মরুদ্যানে আরো বেশি মানুষ আসার অর্থ আরো পানি খরচ: এই সমস্যার বস্তুত কোনো সমাধান নেই৷ একটা সমস্যা সমাধান করার মানে আরেকটি সমস্যা সৃষ্টি৷

লানঝু-র গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন প্রফেসর কুইজান জুন: তাঁর গবেষণার বিষয় হলো মানুষ আর মরুভূমির পারস্পরিক প্রভাব৷ জুন বলেন:

‘‘মূল সমস্যাটা হলো পানি সরবরাহ৷ আগে শুলে আর দাংহে, এই দু'টি নদী ছিল৷ আজ দু'টিই উধাও হয়েছে৷ দুনহুয়াং-এর মানুষজন শত শত বছর ধরে কৃষিকাজ চালিয়েছেন, কাজেই ভূগর্ভস্থ পানি অনেকটা নেমে গেছে৷ সেটাই হবে আগামীতে মূল মাথাব্যথা৷''

প্রফেসর কুইজান জুন-এর ছাত্র-ছাত্রীরা মাটির বিভিন্ন নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন৷ বালিতে পানির অনুপাত চার শতাংশের কম হলে বাতাসে বালিয়াড়ির ক্ষয় হতে থাকবে৷ এর অর্থ, বালিয়াড়িগুলি স্থিতি হারাবে এবং ‘হটতে' শুরু করবে৷

বাতাস চলার করিডর মরুভূমির অগ্রগতি রুখবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ প্রথমে খড়ের গাদা দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ কিন্তু মরুদ্যান শহরের কাছে খড় এখন দুষ্প্রাপ্য৷ কাজেই নতুন বেড়াগুলো প্লাস্টিকের৷ বেড়াগুলোর মধ্যে আবার ঘাস বা ঝোপঝাড় গজালে মাটির ক্ষয় কিছুটা রোখা যাবে৷

কিংবদন্তি বলে, ৭০ কিলোমিটার দূরের ইয়াং-গুয়ান শহরটি নাকি একটি বালির ঝড়ে লুপ্ত হয়৷ দুনহুয়াং-এরও যাতে সেই দশা না ঘটে, সে জন্য সরকার ৬৫ কোটি ইউরো মূল্যের দশ বছরের এক পরিকল্পনা সৃষ্টি করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক