1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

চাঁদপুরের বীর সাহসী নারী মুক্তিযোদ্ধা বদরুন নাহার

ময়মনসিংহের সন্তান হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে চাঁদপুরের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সঙ্গী ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী৷ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ১১টি অঞ্চলে নৌকায় করে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি৷

Freiheitskämpferin Dr Sayeda Badrun Nahar Chowdhury nimmt die Medaille von Sheikh Hasina, Premier Ministerin von Bangladesch Datum: 27.03.2012 Eigentumsrecht: Abdul Karim, Dhaka, Bangladesch

প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিদের পাশে নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী (দাঁড়িয়ে ডান থেকে দ্বিতীয়)

১৯৫০ সালের ১৫ই জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্ম গ্রহণ করেন সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী৷ পিতা সৈয়দ দরবেশ আলী এবং মা সৈয়দা হোসনে আরা বেগম৷  ১৯৬৯ সালে ঢাকা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময় সমমনা রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র তোফাজ্জল হায়দার নসু চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বদরুন নাহার৷ ফলে স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে একাত্ম ছিলেন৷ এছাড়া শ্বশুড় বাড়ির এলাকা হিসেবে চাঁদপুরকে ঘিরেই কেটেছে ডা. বদরুন নাহারের বাকি জীবন ও কর্মকাণ্ড৷

১৯৭১ সালে এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন বদরুন নাহার৷ মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী ডিডাব্লিউ'কে জানান, ‘‘বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জননেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি৷ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য আমি এবং আমার স্বামী ২৫শে মার্চ ঢাকা থেকে চলে আসি৷ আমরা চাঁদপুরে এসে সেখানে প্রথম গঠিত স্থানীয় সরকারে যোগ দেই৷ এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২০৪ সাব-সেক্টরের অধীনে জহিরুল হক পাঠানের নেতৃত্বাধীন মধুমতী কোম্পানিতে আমি মেডিকেল কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করি৷ ঐ অঞ্চলের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এটিএম হায়দার৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ওলিপুর গ্রামের প্রশিক্ষণ শিবিরে আমি অস্ত্র চালনা এবং আত্মরক্ষা কৌশলের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরো নয় মাস আমি বাইরে ছিলাম৷ এসময় আমি অধিকাংশ সময় নৌকায় করে সাথী যোদ্ধাদের সেবা শুশ্রূষা করেছি৷''

অডিও শুনুন 04:14

পরিবেশনাটির অডিও ফাইল এখানে

দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধক্ষেত্রে বিচরণ করে বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ১১টি অঞ্চলে আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করেছেন বীর সাহসী নারী ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী৷ ফলে এই ভয়াবহ সংকটের দিনে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টকর ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি৷

সেসব ঘটনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সেদিন ছিল ২৯শে সেপ্টেম্বর৷ আশ্বিন মাসের শেষ দিন৷ হাজীগঞ্জের অফিস চিতোষী এলাকায় একটি বিদ্যালয়ে পাক সেনাদের ঘাঁটি ছিল৷ আমি তো নৌকায় দূরে ছিলাম৷ আমার কাছে কমান্ডার জহিরুল হক পাঠান খবর পাঠালেন যে, ঐ বিদ্যালয়ে পাক সেনারা বেশ কিছু মহিলাকে আটকে রেখেছে এবং তাদের উপরে পাশবিক নির্যাতন করেছে৷ খবর পেয়ে আমি রওয়ানা দিলাম৷ পাঠান বাহিনী ইতিমধ্যে পাক বাহিনীর ঐ ঘাঁটি আক্রমণ করে৷ দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর পাকিস্তানি সেনারা কিছু লাশ এবং কিছু মহিলাকে সেখানে রেখে পালিয়ে যায়৷  আমি মনে করি, নয় মাসের যুদ্ধের অনেক ঘটনার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে হৃদয় বিদারক৷ আমি সেই বিদ্যালয়ের ভেতরে গিয়ে দেখলাম, ১২ থেকে ১৩ টি মহিলা৷ পাক সেনাদের পাশবিক অত্যাচারের প্রতিটি চিহ্ন তাদের গায়ে৷ তারা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় সেখানে ছিল৷ সেই স্মৃতি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে এবং তাদের কথা স্মরণ করলে এখনও আমি কান্না ধরে রাখতে পারি না৷ এ অবস্থায় আমার কিছু কাপড়-চোপড়, আমাদের সাথীদের কাপড়-চোপড় এবং আশেপাশের মানুষদের সহায়তায় তাদেরকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ফেলি৷ এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা দিই৷ শুধু তাই নয়, আমি যে নৌকায় থাকতাম এবং বিভিন্ন জায়গায় যেতাম, সেই নৌকায় করে তাদের নিয়ে আসি৷ সেসময় আমার কাছেও খুব বেশি ওষুধ-পত্র ছিল না৷ তবু সেসব দিয়েই তাদের চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলি৷ পরে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে তাদের পৌঁছে দেই৷ আমার কাছে এখনও মনে হয়, আমার চিকিৎসা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো যে, আমি সেই নির্যাতিত মহিলাগুলোকে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছি৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই
সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও