1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

চলে গেলেন ‘পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর’ হেলমুট কোল

আধুনিক জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন চ্যান্সেলর হেলমুট কোল পরলোক গমন করেছেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর৷

‘‘আমরা যদি সুযোগের সদ্ব্যবহার না করি, জার্মানি ও ইউরোপের ঐক্য হতে না দেই, জার্মান ইউরোপীয় এবং ইউরোপীয় জার্মান হওয়ার পথে না এগোই – তাহলে তা হবে এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমাদের চরম ব্যর্থতা৷’’

কথাগুলো হেলমুট কোল-এর৷ যে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের ঢেউ শুরু হয়েছিল সাবেক পূর্ব জার্মানির পথে-পথে, তা খরস্রোতে পরিণত হবার পর অভিজ্ঞ কাণ্ডারীর মতো হাল ধরেছিলেন এই মানুষটি, জার্মানির ‘পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর’৷

বিস্ময়কর সব রাজনৈতিক অর্জন

১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর হেলমুট কোল-এর রাজনৈতিক জীবন তার শিখরে পৌঁছায়, সফল হয় তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন৷ দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাফল্যের পেছনে বিশাল অবদান ছিল হেলমুট কোল-এর৷ কিন্তু অন্যদিকে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের চাঁদা কেলেঙ্কারির কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে তাঁর প্রস্থান সেই গৌরবের ওপর কিছুটা কালো ছায়া ফেলেছিল বৈকি৷ তারপরও আজকের ইউরোপ তথা জার্মানির রাজনীতিতে যেসব মৌলিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটে কোল-এর মতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বিশাল মাপের নেতার অভাব বোধ করছেন অনেকেই৷

শীতল যুদ্ধের অবসান থেকে শুরু করে জার্মানি তথা ইউরোপীয় ঐক্যের ইতিহাস আজ আমাদের সবার জানা৷ কিন্তু প্রায় দু’দশক আগের সেই যুগান্তকারী ঘটনা এত দ্রুত ঘটেছিল যে, সেদিনের নেতাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর এই যুগান্তকারী প্রক্রিয়ার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করছিল৷ দলীয় রাজনীতি, ভোট ব্যাংক, নিজস্ব রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ – এ সবের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝে ওঠাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ৷ হেলমুট কোল সেদিন সেই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন৷ অথচ তাঁর মতো মানুষের কাছে এমন প্রত্যাশা কেউ করেনি৷ নিজস্ব ক্ষমতার বিষয়ে তিনি এতটাই সচেতন ছিলেন যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সেই ক্ষমতাকেন্দ্রকে অটুট রাখতে যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন৷ 

জার্মান ও ইউরোপীয় ঐক্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল কোল-এর৷ ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করা থেকে শুরু করে অভিন্ন মুদ্রা ‘ইউরো’ চালু করার প্রক্রিয়া – প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন৷

মানুষ হেলমুট কোল

মানুষ হিসেবেও কোল-এর এই দৃঢ় চিত্ত নানাভাবে সবার নজর কেড়েছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত সেই অনড় অবস্থানের কারণেই তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হয়৷ দলের বে-আইনি গোপন তহবিলে কারা চাঁদা দিয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকার করেছিলেন৷ তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছে সেদিন অনেক বেশি জরুরি ছিল৷

হেলমুট কোল-এর জন্ম ৩রা এপ্রিল ১৯৩০, জার্মানির লুডভিগ্সহাফেনে, একটি রোমান ক্যাথলিক পরিবারে৷ বাবা হান্স কোল আর মা সেসিলি-র তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর বড়ভাই যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করলেও, কোল-কে কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হয়নি৷ 

প্রথমে রুপরেশট এলিমেন্টারি স্কুল, তারপর মাক্স-প্লাঙ্ক-গিমনাসিয়ুমে স্কুলের পাঠ৷ পরে হেসে রাজ্যের ফ্রাংকফুর্ট শহরে আইন নিয়ে এবং হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন হেলমুট কোল৷ অবশ্য পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গেই চলে রাজনীতি৷ ১৯৪৬ সেলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়নে যোগ দেন৷ একটা সময় সেই সিডিইউ দলেরই প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হন কোল, সভাপতিত্ব করেন দীর্ঘ ২৫ বছর৷ আর জার্মানির চ্যান্সেলর পদ অলঙ্কৃত করেন একটানা ১৬ বছর৷ অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়, নিজের অভিমত আরোপ করার ক্ষমতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা পাবার উদগ্র বাসনা – তবে সেটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে৷

এ সবের জন্যই হয়ত চারবার চ্যান্সেলার নির্বাচিত হন কোল৷ তাই পাঁচ বছর আগে যেদিন আশি বছরে পা দিয়েছিলেন তিনি, সেদিনও হুইলচেয়ারে বসে শত শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও না-কাঁপা গলায় বলেছিলেন – ‘আমি যখন আশিতে পৌঁছে আমার জীবনের হালখাতা লেখার চেষ্টা করি, তখন শুধু এটুকু বলতে পারি: আমি এই জীবনের জন্য গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ৷’’

বলা বাহুল্য, জার্মানির ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন হেলমুট কোল৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন