চলে গেলেন ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম′ | বিশ্ব | DW | 14.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চলে গেলেন ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম'

৭৬ বছর বয়সে কেমব্রিজে নিজের বাড়িতে জীবনাবসান হলো বিশিষ্ট বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের৷ বিশ্ব হারালো সমকালীন বিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রকে৷

একুশ শতকের বিশ্বে তিনি সত্যিই ছিলেন এক বিস্ময়৷ কাজে, যাপনে, ভাবনায় এবং বেঁচে থাকায়৷ ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যু হলো বিশিষ্ট বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের৷ কেমব্রিজে নিজের বাড়িতেই জীবনাবসান হয় তাঁর৷ তাঁর সন্তানেরা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে স্টিফেনের৷ তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু বিশিষ্ট মানুষ শ্রদ্ধজ্ঞাপন করেন৷ টুইটকরেন স্বনামধন্য মহাকাশ গবেষকেরা৷

১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি অক্সফোর্ডে জন্ম হয় এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর৷ ছোটবেলা থেকেই মহাকাশের প্রতি তাঁর অমোঘ টান৷ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করেন হকিং৷ বিষয় ছিল পদার্থ বিজ্ঞান৷ কিন্তু তাঁর সে সময়ের শিক্ষক বার্মেন জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হকিং পড়াশোনার ইচ্ছে হারান৷ কারণ, হকিংয়ের মনে হচ্ছিল, যা তিনি পড়ছেন তা খুবই সহজ৷ বিশেষ মনোগ্রাহীও নয়৷ তবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষে গিয়ে বিষয়ের প্রতি খানিকটা উৎসাহ ফিরে পান তিনি৷ তবে ক্লাসে সবচেয়ে মিশুক ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হকিং৷ গান বাজনা, খেলাধুলো সবেই তাঁর উৎসাহ ছিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

জেনারেল রিলেটিভিটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন হকিং৷ এবং ঠিক সেই সময়েই মাত্র ২১ বছর বয়সে ধরা পড়ে ভয়াবহ অসুখ মোটর নিউরোন৷স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন হকিং৷ দীর্ঘদিন অবসাদের শিকারও ছিলেন৷ পৃথিবীতে খুব কম মানুষেরই এই রোগ হয়৷ যাঁদের হয়, তাঁদের মাত্র ১০ শতাংশ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন৷ হকিং সেই বিরল ব্যক্তিত্ব ভয়ানক রোগটিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কেবল বেঁচেই ছিলেন না, গবেষণা চালিয়ে গিয়েছেন৷ এই সময়ের মহাকাশ বিজ্ঞানের সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ ব্ল্যাকহোল নিয়ে নিজের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নিজেই সেই তত্ত্ব খণ্ডন করেছেন৷

‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম'৷ স্টিফেন হকিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব৷ সেখানে সাধারণভাবে দু'রকমের সময় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন৷ ব্যবহারিক সময় এবং মহাজাগতিক সময়৷ রিলেটিভিটি নিয়ে সম সময়ে এত বড় গবেষণা আর কেউ করেননি৷ শুধু তাই নয়, স্টিফেন বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞান কেবল মুষ্টিমেয় গবেষকের আলোচনার বিষয় নয়৷ সকলের কাছে বিজ্ঞানের আলোচনা পৌঁছে দেওয়া দরকার৷ এবং সে কারণেই সহজ ভাষায় মহাকাশ, সময় এবং ব্ল্যাকহোল নিয়ে তিনি বই লিখেছেন৷ যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন আলোচনাসভায়৷ সহজ করে বুঝিয়েছেন বিজ্ঞান৷

বছরকয়েক আগে হকিং আচমকাই ঘোষণা করেন, সময় এবং ব্ল্যাকহোল নিয়ে তাঁর আগের গবেষণায় অনেক ভুল আছে৷ ভুল সংশোধনের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি৷ নিজেকেই নিজে ভুল প্রমাণ করে সকলকে বিস্মিত করেছিলেন হকিং৷ কারণ, অ্যাকাডেমিক বিশ্বে খুব কম মানুষই এমন কাজ করতে পেরেছেন৷

বহু বিস্ময়ের অবসান ঘটিয়েছেন হকিং৷ বহু বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ এমনকি, বিস্মিত করেছেন ঈশ্বর নিয়ে তাঁর ভাবনায়৷ হয়তো মৃত্যু হলো বিজ্ঞানীর৷ কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, তাঁর বিস্ময় নিয়ে আগামী বহু বছর কাজ করতে হবে বিশ্বকে৷ চিরস্মরণীয় হয়ে সকলের মধ্যে বেঁচে থাকবেন স্টিফেন হকিং৷

এসজি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন