1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চলে গেলেন আপোশবিহীন কর্মবীর হেলমুট স্মিট

জার্মানদের কাছে তিনি ছিলেন দক্ষ চ্যান্সেলর ও সুচতুর রাজনীতিক৷ বহির্বিশ্ব হেলমুট স্মিটকে বিশেষ করে অর্থনীতির প্রশ্নে বোদ্ধা বলে গণ্য করত৷ ৯৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন হেলমুট স্মিট৷

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন স্পষ্ট কথার মানুষ৷ তা সত্ত্বেও তিনি যতটা শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তা খুব কম মানুষেই পায়৷ আধুনিক জার্মানির ইতিহাসে সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেব বারংবার নির্বাচিত হয়েছেন হেলমুট স্মিট – তাঁর কাঠখোট্টা, সবজান্তা হাবভাব সত্ত্বেও৷

কাউকে রেয়াত করে কথা বলতেন না স্মিট৷ ইউরোপের ঋণসংকট যখন তুঙ্গে, তখন তাঁকে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট' সম্পর্কে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা গেছে: ‘‘ও' প্রশ্নের কোনো কূটনীতিকসুলভ উত্তর দেবার আগে আমাকে অনেকটা ভাবতে হবে৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিকাশ, জার্মানিতে একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠন বা আফগানিস্তানে জার্মান সৈন্য পাঠানোর ব্যাপারে তাঁর বিরূপ মতামত সত্ত্বেও জার্মান জনগণের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি অমলিন থেকেছে৷

আপোশবিহীন

বহু জার্মানের কাছে হেলমুট স্মিট হলেন সেই রাজনীতিক, যিনি ১৯৭৭ সালের হেমন্তে আরএএফ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দ্বিধা ও সংশয়হীনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন৷ শিল্পপতি সমিতির প্রেসিডেন্ট হান্স-মার্টিন শ্লায়ার-এর অপহরণ, এবং সোমালিয়ায় রাজধানী মোগাদিশু-তে লুফৎহানসার ‘‘লান্ডসহুট'' বিমানটির অপহরণ: উভয় ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য ছিল, পণ হিসেবে অপরাপর আরএএফ সন্ত্রাসীদের সরকারি কারাগার থেকে মুক্ত করা৷ হেলমুট স্মিট কিন্তু অনড় থাকেন এবং পরে বলেন যে, তিনি তাঁর রাষ্ট্রের নাগরিকদের বিপদ থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন৷

Helmut Schmidt als Innensenator in Hamburg 1962

১৯৬২ সালে সাগরের বান এসে যখন হামবুর্গ শহরকে ভাসিয়ে দিচ্ছে, তখন বিনা দ্বিধায় সেনাবাহিনী নিয়োগ করেন স্মিট

রাজনীতিক

জন্মের শহর হামবুর্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীনই হেলমুট স্মিট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেন৷ ১৯৬২ সালে সাগরের বান এসে যখন হামবুর্গ শহরকে ভাসিয়ে দিচ্ছে, তখন স্মিট বিনা দ্বিধায় সেনাবাহিনী নিয়োগ করেন৷

১৯৬৪ সালে স্মিট এসপিডি দলের সংসদীয় গোষ্ঠীর নেতা নির্বাচিত হন৷ এসপিডি এবং এফডিপি দলের মধ্যে প্রথম জোট সরকার গঠিত হওয়ার পর তৎকালীন চ্যান্সেলর ভিলি ব্রান্ট ১৯৬৯ সালে স্মিট-কে প্রতিক্ষামন্ত্রী পদে মনোনীত করেন৷ ১৯৭৪ সালে ব্রান্ট একটি গুপ্তচর কেলেঙ্কারির দরুণ পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে, স্মিট যেন স্বভাবসিদ্ধ ভাবেই ব্রান্ট-এর উত্তরসূরি নির্বাচিত হন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

কর্মবীর

স্মিট-কে জার্মানরা বলতেন ‘‘মাখার'', অর্থাৎ ‘করিয়ে' মানুষ৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে – উদাহরণ: মোগাদিশু – অথবা অর্থনীতির প্রশ্নে, স্মিট আপোশ করতে জানতেন না৷ জার্মানির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো বুনিয়াদি পরিবর্তন আনতে পারেননি তিনি, তবুও তাঁর ‘‘বিশ্বঅর্থনীতিবিদ'' হিসেবে খ্যাতি ছিল৷ ১৯৭৬ এবং ১৯৮০, দু'টি সংসদীয় নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পেরেছেন, প্রধানত দেশবাসীর তাঁর উপর অসীম আস্থার কারণে৷

সামাজিক গণতন্ত্রী

নিজের দল এসপিডি-র সঙ্গে স্মিট-এর সম্পর্ক চিরকালই কিছুটা সমস্যাকর৷ স্মিট-কে চিরকালই কিছুটা দক্ষিণঘেঁষা সামাজিক গণতন্ত্রী বলে গণ্য করা হতো; প্রয়োজনে দলীয় সম্মলনের প্রস্তাবাবলীর তোয়াক্কা করতেন না তিনি৷ সত্তরের দশকের শেষে, আশির দশকের সূচনায় ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রে আরো মার্কিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা নিয়ে যে ঝড় বয়ে যায়, জার্মান-অ্যামেরিকান মৈত্রীর প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত হেলমুট স্মিট তা বিশেষভাবে সমর্থন করেন৷ ১৯৮২ সালে স্মিট চ্যান্সেলর পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরই এসপিডি দল স্মিট আমলের নীতি পরিবর্তন করে৷

যখন একা

রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে স্মিট ‘‘ডি সাইট'' সাপ্তাহিকের যুগ্ম প্রকাশকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ এছাড়া সারা বিশ্বে রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা বিষয় নিয়ে ভাষণ দিয়ে বেড়াতেন৷ এসপিডি দলের নতুন নেতৃবর্গের সঙ্গে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়নি – একমাত্র সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়ডার-এর জন্য তিনি ১৯৯৮ সালের নির্বাচনি প্রচার অভিযানে সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন৷ এছাড়া ২০১১ সালে এসপিডি-র চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী পেয়ার স্টাইনব্রুক সম্পর্কে স্মিট-এর মন্তব্য কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে: ‘‘ডেয়ার কান এস'', অর্থাৎ ‘ও পারবে'৷ স্টাইনব্রুক ছিলেন স্মিট-এর দাবা খেলার সঙ্গী৷

তবে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি যে মনেপ্রাণে একজন সামাজিক গণতন্ত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়