1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

চর্মশিল্পের ভালো ও মন্দ দিক

যে শিল্প থেকে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রোজগার করে থাকে, তাকে গাল দিয়ে লাভ নেই৷ চর্মশিল্প আছে ও থাকবে৷ পরিবেশ আর শ্রমিকদের কি হবে, সেটাই একমাত্র প্রশ্ন৷

তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে যদি কোনো শিল্প এই বিশ্বায়িত প্রতিযোগিতার যুগেও টিকে থাকতে পারে – শুধু টিকে থাকা নয়, একটানা বেড়ে চলতে পারে, তাহলে তার নিশ্চয় কতগুলো কারণ থাকে৷ সভ্যতা, ভব্যতা, পলিটিক্যাল করেক্টনেস ইত্যাদির কথা ভুলে সেই কারণগুলো একবার চোখের সামনে রাখলে কোনো দোষ নেই৷

বাংলাদেশের চর্মশিল্প হাজারিবাগ ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা৷ সাভারের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা সিইটিপি, সে তো আরো ভালো কথা৷ সবচেয়ে ভালো কথা, এর ফলে বাংলাদেশের লেদার ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি একটা নতুন পালিশ পাচ্ছে – কেননা এর আগে ধরেই নেওয়া হতো, পরিবেশের স্বাস্থ্য আর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে, সরকারি আইনকানুনকে কলা দেখিয়ে দেশের চর্মশিল্প ফুলে-ফেঁপে উঠছে৷ যেন চর্মশিল্পের যা কিছু ভালোর সঙ্গে চর্মশিল্পের যা কিছু খারাপ, তারএকটা অবিচ্ছেদ্য সংযোগ আছে৷

Bangladesch, Umweltverschmutzung

বাংলাদেশের চর্মশিল্প হাজারিবাগ ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা

বিশ্বায়নের যুগে তৃতীয় বিশ্বের শিল্পায়ন যেন ওভাবে ছাড়া আর কোনো পন্থায় হতে পারে না৷ ইতিহাস যেন বলে দিয়েছে, শিল্পোন্নত দেশগুলি ট্যানারির মতো নোংরা কাজগুলি নিজেদের দেশে বন্ধ করে, সেই কাজ ও তার ফলশ্রুতিকে তৃতীয় বিশ্বে পাচার করবে৷ সেখানে লোক বেশি, কাজের সুযোগ কম; পরিবেশ নিয়ে অত মাথা ঘামানো নেই; আইনকানুন থাকলেও, তার এনফোর্সমেন্ট দুর্বল৷ এর ওপর আবার যদি পশ্চিমের ক্রেতারা মিডলম্যান ব্যবহার করে, হোলসেল অর্ডার দিয়ে সবরকম দায়িত্ব থেকে রেহাই পান, তাহলে তো সোনায় সোহাগা৷

নিউ ইয়র্কের ব্ল্যাকস্মিথ ইনস্টিটিউট তাদের ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের রিপোর্টে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত দশটি জায়গার মধ্যে ফেলেছিল ঢাকার হাজারিবাগকে৷ দিনে নাকি তখন ২২ হাজার কিউবিক মিটার পরিবেশ দূষণকারী তরল বর্জ্য পদার্থ হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম সুদ্ধু বুড়িগঙ্গায় গিয়ে পড়তো৷ এতো গেল পরিবেশ৷ ট্যানারির ভিতরের পরিবেশ কিছু কম বিপজ্জনক নয়৷ শিশুশ্রম তো ছিলই; যা ছিল না, তা হলো শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা-পরিধান; ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানা ধরনের রাসায়নিক নিয়ে ঘাঁটাঘাটি – যার মধ্যে সবার আগে আসে ক্রোমিয়াম৷ অথচ ভেজিটেবল ট্যানিং, সিন্থেটিক ট্যানিং, অ্যালাম ট্যানিং, অ্যালডেহাইড ট্যানিং, এ সব ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত ট্যানিং পদ্ধতি হল ক্রোমিয়াম ট্যানিং, যা কিনা সবচেয়ে বিষাক্ত৷

Bildergalerie Bangladesch Müllhalden

যে শিল্প থেকে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রোজগার করে থাকে, তাকে গাল দিয়ে লাভ নেই

এবার আসা যাক একটি বুনিয়াদি প্রশ্নে: কাদের জন্য এই ট্যানিং? বাংলাদেশের চর্মশিল্পের উৎপাদনের আশি ভাগ রপ্তানি হয় বিদেশে৷ চীন আর ভারত ধীরে ধীরে যে সব কাজ ছাড়ার কথা ভাবছে, বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলি সেই বোঝা কাঁধে করার জন্য এগিয়ে আসবে কেন? বাঁচার তাগিদে৷ হ্যাঁ, পশ্চিমি বিশ্ব – যেমন ইটালি – তাদের নিজের প্রয়োজনেই ক্রোমিয়াম রিসাইক্লিং, বর্জ্য পানি পরিষ্কার করার প্ল্যান্ট ইত্যাদি আবিষ্কার করে চলেছে৷ বাংলাদেশের চর্মশিল্পের শ্রমিক আর ইউরোপের গ্রাহক, এদের কেউই পরিবেশ অথবা নিজের কিংবা পরের স্বাস্থ্যের হানি কামনা করেন না৷ কিন্তু একদিকে যেমন বাঁচার তাগিদ, অন্যদিকে তেমন সস্তায় কেনার প্রবৃত্তি – এই দুইয়ের সুযোগ নিয়ে বিশ্বায়িত চর্মশিল্প দিব্যি বেঁচে-বর্তে রয়েছে ও থাকবে৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

আশার আলোক তিনটি: প্রথমত সাভারে রিলোকেশন বা পুনর্স্থাপন, সেই সঙ্গে বর্জ্য পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা৷ দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের চর্মশিল্পের পরিবেশ সংক্রান্ত ভাবমূর্তির উন্নতি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি চর্মশিল্প ফিনিশড লেদারের পরিবর্তে ক্রমেই আরো বেশি লেদার গুডস ও ফুটওয়্যার রপ্তানি করছে৷ মজার কথা, বাংলাদেশ এখন ফ্যাব্রিক-বেজড ফুটওয়্যার, অর্থাৎ ক্যাম্বিসের জুতোর ক্ষেত্রেও এইডঅ্যান্ডএম, ফিলা বা পুমা-র মতো গ্লোবাল রিটেইলারদের হয়ে জুতো তৈরি করছে – যা কিনা উন্নততর, পরিবেশ সম্মত চর্মশিল্পের একটা স্পিন-অফ বলে ধরা যেতে পারে৷

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্প ও চর্মশিল্পের যা গুরুত্ব, তা-তে উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি না করে উপায় নেই – এই হয়ত বিশ্বায়নের শিক্ষা৷ পশ্চিমের ক্রেতারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলাদা করে ভাববেন৷

বন্ধু, অরুণ শঙ্কর চৌধুরী এই বক্তব্যের সঙ্গে কি আপনি একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়