1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ঘুস দিয়ে চাকরিতে ঢুকলে কী সেবা দেবে পুলিশ?

‘‘যারা পয়সা দিয়ে চাকরিতে আসে, তারা তো প্রথমেই সেই পয়সা ওঠানোর চেষ্টা করবে৷ তারা তো সেবা দেবে না৷ তাই বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নিয়োগ হতে হবে৷’’ ডয়চে ভেলেকে বললেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা৷

‘‘যারা পয়সা দিয়ে চাকরিতে আসে, তারা তো প্রথমেই সেই পয়সা ওঠানোর চেষ্টা করবে৷ তারা তো সেবা দেবে না৷ তাই বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নিয়োগ হতে হবে৷’’ ডয়চে ভেলেকে বললেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা৷
ডয়চে ভেলে: পুলিশ বাহিনীর জনবল নিয়মিত বাড়ছে, পুলিশকে আরো শক্তিশালী করার জন্য কী করা উচিত?
নুরুল হুদা: দেখতে হবে নিয়োগটা যেন যথাযথভাবে, আইনসম্মতভাবে এবং বিধিসম্মতভাবে হয়৷ এর সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণও যথাযথভাবে হতে হবে৷ পুলিশের কাজটাকে বিনিয়োগ মনে করতে হবে৷ আর নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও পদায়ন হতে হবে বিধি মোতাবেক৷
গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানোর ব্যাপারে আপনার কোনো পরামর্শ?
গোয়েন্দা কার্যক্রম তো বাড়ানোর কিছু নেই৷ এটা তো সব সময়ই দরকার হয়৷ সেটা যেন গোপনে হয়, সেজন্য নিরবে কাজ করতে হবে এবং তথ্যের উপরে বেশি জোর দিতে হবে যাতে বেশিরভাগ ঘটনাকে প্রতিরোধ করা যায়৷ প্রতিকার নয়, ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সেই বন্দোবস্ত করতে হবে৷

অর্থাৎ প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে৷ সে জন্যই তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দেয়া প্রয়োজন৷ এই কাজগুলো সাজ সাজ রব বা হৈ চৈ করে নয়, নিরবে করতে হয়৷ পেশাদারি মনোভাব নিয়ে করতে হবে৷ গোয়েন্দা কার্যক্রমে কোনোরকম রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে না৷ এই কাজ করতে হবে একমাত্র রাষ্ট্রের স্বার্থে৷

গুলশানে এবং শোলাকিয়ায় যে ঘটনা ঘটে গেল, সেক্ষেত্রে পুলিশের কি কোনো ব্যর্থতা ছিল?
ঘটনা ঘটে গেলেই যদি ব্যর্থতা হয়, তাহলে গোটা দুনিয়াতেই তো পুলিশ বাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে৷ কিছু ঘটনা তো ঘটবেই৷ মানুষের অসুখ হয়৷ এটা তো আর ডাক্তারের ব্যর্থতা না৷ ঘটনা ঘটবে, কিন্তু ঘটনা যাতে কম ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ প্রতিরোধমূলক ও প্রতিকারমূলক – দুই ধরনের বন্দোবস্তই নিতে হবে৷ তাছাড়া জঙ্গিদের এই তৎপরতা শুধু তো আর বাংলাদেশে হচ্ছে না৷ বিশ্বের সব জায়গাতেই ঘটনা ঘটছে৷ প্রতিবেশী ভারতে হচ্ছে, পাকিস্তানের নাম যত কম বলা যায় ততই ভালো৷ উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপের ফ্রান্সে হচ্ছে, বেলজিয়ামে হচ্ছে, অ্যামেরিকায় হচ্ছে৷ এ থেকে কারো রেহাই নেই৷ সেজন্য ঘটনা ঘটলেই ব্যর্থতা বলতে হবে, এটা ঠিক নয়৷ বরং এর থেকে শিক্ষা নেয়ার আছে৷ যা বললাম, তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দিতে হবে৷ তথ্য থাকলে ভালো৷ যেমন শোলাকিয়ায় তো আমরা অনেক বড় ক্ষতি থেকে রেহাই পেয়েছি৷ একটা খবর এসেছিল যে, এখানে এমন হামলা হতে পারে৷ তাই আগে থেকেই জানতে হবে, কোথায় কোথায় এটা হতে পারে৷ এটাকে আমি ব্যর্থতা বলব না৷
পুলিশের জনবল কম থাকা কি এই ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিতে পারার কারণ?
গোয়েন্দা তথ্য বা জঙ্গিদের প্রতিরোধ করার সঙ্গে জনবলের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটা জনবলের কাজ না৷ আসলে ঠিকমতো তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন৷ আর এর জন্য কারিগরি জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করা দরকার৷ এর সাথে অধিক জনবলের কোনো সম্পর্ক নেই৷

অধিক জনবলের সম্পর্ক সেখানে আছে, যেখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয় বা যে সমস্ত কাজে লোকজন বেশি লাগে৷ এটা সেরকম কোনো বিষয় নয়৷ জনবল বাড়ালেই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা আরো উন্নত, আরো ভালো হয়ে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ বরং প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে পারলে তা কাজে লাগবে৷ পুলিশকে যে সম্পদ দেয়া হয়, সেটাকে যেন বিনিয়োগ মনে করা হয়৷ কারণ এর একটা ‘রিটার্ন’ আছে৷ তবে এই ‘রিটার্ন’ চোখে দেখা যায় না৷

আপনি তো বারবার বলছেন, নিয়োগ হতে হবে বিধি মোতাবেক৷ বাংলাদেশে গত ৬-৭ বছরে প্রায় ৫০ হাজার নতুন সদস্য পুলিশে যোগ দিয়েছে৷ তা এই সব নিয়োগে কোনো ধরনের ঘাটতি আপনার চোখে পড়েছে কি?
ঘাটতি কী হয়েছে, সেটা আমি বলতে পারবো না৷ তবে খালি লোক নিয়োগ করলেই তো হবে না৷ তাঁদের প্রশিক্ষণের বিষয়টাও তো দেখতে হবে...৷ সর্বশেষ ভুয়া সনদ নিয়ে ১৯-২০ জনকে ধরা হয়েছে৷ আসলে যারা মিথ্যা বলে পুলিশে ঢুকবে, তারা তো আর ভালো কাজ করবে না৷ খবরের কাগজে অভিযোগ দেখা যায় যে, চাকরি নিতে হলে নাকি পয়সা দিতে হয়৷ তা যারা পয়সা দিয়ে চাকরিতে আসবে, সে তো প্রথমেই তার পয়সাটা উঠানোর চেষ্টা করবে৷সে তো সেবা দেবে না৷ সেজন্য বিধি মোতাবেক, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নিয়োগ হতে হবে৷ তবে এই ৫০ হাজারের নিয়োগ সেভাবে হয়েছে কিনা, সেটা এখন যারা চাকরি করছে তারা বলতে পারবে৷
আপনি তো পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন৷ এই বাহিনীর সদস্যদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য আপনার পরামর্শ কী?
‘মব়্যালিটি’ তো আর বায়বীয় পদার্থ নয়৷ মনোবল ঠিক রাখতে হলে পুলিশের বেতন-ভাতা ইত্যাদি বাড়াতে হবে৷ তবে যেহেতু তার কাজটা অন্যদের থেকে আলাদা, বেতন বাড়ালেই যে সে ভালো হয়ে যাবে তা নয়৷
অডিও শুনুন 10:23

‘‘গোয়েন্দা কার্যক্রম তো বাড়ানোর কিছু নেই’’

এখানে তার প্রশিক্ষণটা ঠিক হতে হবে, তার ‘মোটিভেশন’-এর প্রক্রিয়ায় জোর দিতে হবে, যাতে নীতিজ্ঞান সম্পন্ন লোকেরা এই চাকরিতে থাকে৷ তাদের ‘সুপারভাইজারি’ প্রক্রিয়ায় খুব সজাগ থাকতে হবে৷ অন্যায় করলেই তাকে প্রথম চোটে ধরতে হবে, সতর্ক করতে হবে৷ একবার-দু’বার দেখতে হবে৷ কিন্তু এরপরেও না শোধরালে তাকে চাকরি থেকে বের করে দিতে হবে৷ আর চাকরির প্রথম থেকেই এগুলো দেখতে হবে, যাতে অসততা বা বেআইনি কাজ-কর্ম বেড়ে না উঠতে পারে৷ সিনিয়রদের জুনিয়রদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে৷ কিছু লোক তো খারাপ থাকবেই৷ তবে তাদের সংখ্যা যাতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি যে, পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে ‘পলিটিসাইজ’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে৷ আপনাদের সময়েও কি এ সমস্যা এতটা প্রকট ছিল?
এটা আমাদের সময় যে একেবারেই ছিল না – এমন বলা যাবে না৷ তবে এটা ব্যক্তির বিচ্যুতি৷ সংগঠন তাকে কখনোই বলে না ‘পলিটিসাইজ’ হতে৷ উল্টে সংগঠন তাকে বলে আইন মোতাবেক কাজ করতে৷ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী সে৷ আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী মানে তাকে আইন মোতাবেক কাজ করতে হবে৷ এই আইন মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে কেউ যদি তাকে বেআইনি কথা বলে, সেটা মানার ব্যাপারে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই৷ এরপরেও সে যদি বেআইনি কাজে মদদ দেয়, তবে সেটা তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা, ব্যক্তিগত বিচ্যুতি৷

এটার সাথে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এছাড়া রাজনৈতিক নির্বাহী যাঁরা, তাঁদেরও দেখতে হবে, রাষ্ট্রীয় এই অরগ্যান যেন পলিটিসাইজ না হয়৷ চূড়ান্ত বিচারে সরকারের হাত বদল হয়, কিন্তু রাষ্ট্রের হাত বদল হয় না৷ সে কারণে তদন্তটা যাতে ঠিকমতো হয়, তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব বিরাট৷ আর সংশোধনীমূলক এই প্রতিষ্ঠানে যারা নিয়োগ পাচ্ছে, তাদের যেন প্রভাবমুক্ত রাখা হয়৷ পুলিশে যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন, তাঁদের দায়িত্ব বেশি (৭০-৮০ ভাগ)৷ বাকি ২০ ভাগ দায়িত্ব রাজনৈতিক নির্বাহীদের৷ তাই নিয়োগ যাতে প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হয়, তা তাঁদেরও নিশ্চিত করতে হবে৷

সাবেক প্রধান হিসেবে বর্তমানে যাঁরা পুলিশে কাজ করছেন, তাঁদের প্রতি আপনার আহ্বান কী?
এঁরা যথেষ্ট অ্যালার্ট, ম্যাচিওর৷ এঁরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানেন৷ এঁদের বুঝতে হবে যে, তারা একটা শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করেন৷ তাই তাদের যথাযথ দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি, সমাজের প্রতি৷ এই সমাজের প্রতিও যে তাঁর একটা ‘কমিটমেন্ট’ আছে, এই দায়িত্ব পালন করার জন্য যে তাঁদেরও একটা দায়িত্ববোধ থাকা উচিত, সেটা বুঝতে হবে৷ বলা বাহুল্য, এই দায়িত্ববোধটা প্রতিফলিত হবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার মাধ্যমে, আইন মোতাবেক কাজ করার মাধ্যমে এবং তার সাথে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করার মাধ্যমে৷ এই নীতিকথাগুলো ‘ফলো’ করলেই হবে৷ এভাবে কাজ করলে নিজের কাজের প্রতি একটা সন্তুষ্টিবোধ থাকবে, তাঁরা যে সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রের হয়ে একটা গুরুদায়িত্ব পালন করছে – সেটা উপলব্ধি করবে৷ এর সঙ্গে তারা যে জনগণের সেবা করছে – এই বোধটা থাকলে নিজে থেকেই দায়িত্ব বাড়বে৷ আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর যারা অফিসার-ক্যাডার আছে, তাদের সেই দায়িত্ববোধও আছে৷
আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়