1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ঘুমের রহস্যভেদ করার চেষ্টায় জার্মান বিজ্ঞানীরা

ঘুম মানুষের জীবনে জরুরি৷ কিন্তু আজকের জীবনে কাজ ও সাফল্যের চাপে প্রায়ই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে৷ ব্যালে-নর্তকীদের ঘুমের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে বার্লিনের বিজ্ঞানীরা ঘুমের রহস্যভেদের চেষ্টা করছেন৷

সারা মেসট্রোভিচ যেন পালকের মতো উড়ে চলেছেন৷ দেখতে সহজ মনে হলেও কাজটি কিন্তু খুবই কঠিন৷ ব্যালে নর্তকীরা আসলে উচ্চ পর্যায়ের অ্যাথলিট৷

বার্লিনের স্টেট ব্যালে কোম্পানিতে প্রায় ৯০ জন তরুণ-তরুণী সক্রিয় রয়েছেন৷ প্রতিদিন অনুশীলন, কড়া অনুশাসন এবং সাফল্যের চাপ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে৷ প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়৷ ব্যালে নর্তকী সারা মেসট্রোভিচ বলেন, ‘‘বিখ্যাত এক ব্যক্তি একবার বলেছিলেন, আমরা প্রজাপতির মতো৷ কিন্তু লোহা দিয়ে তৈরি৷ আমাদের খুব শক্তপোক্ত, কঠিন হতে হয়, ফর্মে থাকতে হয়৷ কিন্তু বাইরে দেখাতে হবে, যে কাজটা খুব সহজ, আমরা খুব তরতাজা রয়েছি৷''

নর্তকীদের সপ্তাহে ৬ দিন প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন করতে হয়৷ তার উপর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান তো আছেই৷ অর্থাৎ কঠিন পরিশ্রমের পাশাপাশি কাজের সময়েরও ঠিক-ঠিকানা নেই৷ তাই কোনো নর্তকীর দৈনন্দিন জীবন বিজ্ঞানের চোখেও ‘ইন্টারেস্টিং' বিষয়৷ বার্লিনের শারিটে হাসপাতালে নর্তকীদের ঘুম নিয়ে একটি প্রকল্প চলছে৷ ঘুম বিজ্ঞানী ইঙো ফিৎসে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে ব্যালে-নর্তকীরা কেন এত ইন্টারেস্টিং? কারণ তাদের কর্মজীবনে স্বাভাবিক কোনো ছন্দ নেই৷ পাঁচ দিনের কাজ নয়, সপ্তাহান্তেও তাদের কাজ করতে হয়, অনেক অনুশীলন করতে হয়৷ এটা শিফটে কাজ করার মতো৷ আমরা এতদিনে জেনে গেছি, যে রাত ও দিনের ছন্দে নিয়মিত অনিয়ম ঘটলে সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়৷

তাছাড়া আমরা দেখতে চেয়েছিলাম, তাঁরা কতক্ষণ ঘুমান, কখন ‘রিজেনারেট' করেন এবং ঘুমের সঙ্গে চোট লাগার আশঙ্কার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা৷''

হাসপাতালের ‘স্লিপ ল্যাব'-এ ঘুমের রহস্য উন্মোচন করা হচ্ছে৷ আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা মস্তিষ্কের মধ্যে উঁকি মারতে পারি৷ খুলির উপর ইলেকট্রোড মস্তিষ্কের তরঙ্গ নথিভুক্ত করতে পারে৷ একই সঙ্গে চোখের নড়াচড়া, পেশির টান ও নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসও রেকর্ড করা হয়৷

ঘুমিয়ে পড়ার প্রতি ১০০ মিনিট পর পর মানুষ প্রথমে কম গভীর, তারপর গভীর এবং শেষ পর্যায়ে স্বপ্নের ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে৷ এক রাতে বেশ কয়েকবার এই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে৷ ঘুম বিজ্ঞানী আলিনে লিপ্স বলেন, ‘‘ভালো ঘুম ও খারাপ ঘুমের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেষে এক হিপনোগ্রাম বিশ্লেষণ করা হয়৷ তাতে ঘুমের প্রোফাইল বা ধাঁচ বোঝা যায়৷ রাতে ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ও শনাক্ত করা যায়৷ তা থেকে রাতে গভীর ঘুমের পর্যায় যথেষ্ট ছিল কিনা, তা জানা যায়৷ পাতলা ঘুমের কারণে শরীর চাঙ্গা হয়ে না উঠলে তার কারণও দেখা যায়৷''

রাতে ভালো ঘুম না হলে পর দিন মঞ্চেও তার ছাপ পড়ে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক