1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গ্রিসে প্রবল বিক্ষোভ, মৃত তিনজন

রাজধানী এথেন্স এবং উত্তরের থেসালোনিকি শহরে বুধবার সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার গ্রিক নাগরিক৷ চলছে বিক্ষোভ৷ যা সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে পুলিশ৷ এমনকি, একটি পেট্রোল-বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন৷

default

গ্রিসে অব্যাহত ধর্মঘট, চলছে বিক্ষোভও

সর্বাত্মক ধর্মঘটে বুধবার অচল হয়ে পড়েছে গ্রিস৷ দেশকে সম্ভাব্য দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে, সরকারের কঠোর ব্যয় সংকোচের সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়েছে গ্রিসবাসী৷ তাই কঠোর ব্যয় কমানোর এ পরিকল্পনা, গ্রিক সরকারের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দেখা দিয়েছে৷

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গ্রিসে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে৷ বন্ধ রয়েছে রেল, বিমান ও ফেরি চলাচলও৷ কাজ হচ্ছেনা সরকারি কার্যালয়, স্কুল এবং পর্যটন স্থানগুলিতেও৷ হাসপাতালগুলিতে শুধু জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন৷ এমনকি গণমাধ্যমের কর্মীরাও সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত রয়েছেন৷

বুধবার গ্রিসের প্রধান কর্মী ইউনিয়নের ডাকে সকাল ১১টার সময় এথেন্সের কেন্দ্রস্থলে সমবেত হয় প্রতিবাদীরা৷ পরে পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে মিছিল বের করে তারা৷ আর সেখানেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের৷ লাঠি চালায় পুলিশ৷ নিক্ষেপ করা হয় কাঁদানে গ্যাসও৷ শুধু তাই নয়, রাজধানী এথেন্সের একটি ব্যাংকে পেট্রোল-বোমা ছোড়া হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে৷ দেশটির বেসরকারি ইউনিয়ন জিএসইই-এর প্রধান গিয়ান্নিস পানাংগোপোলাস বলেন, ধনীরা কিছুই দিচ্ছে না, অথচ গ্রিসের মানুষকে আত্মত্যাগ করতে বলা হচ্ছে৷ এটা ঠিক নয়৷

NO FLASH Angela Merkel Bundestag 5.5.2010

গ্রিসকে সমর্থনের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে জার্মান বুন্ডেসটাগে বক্তব্য রাখছেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল



প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক উদ্ধার প্যাকেজের বিনিময়ে রবিবার এই কঠোর ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনা ঘোষণা করে গ্রিস৷ বিভিন্ন খাতে খরচ কমানো, কর বাড়ানো, সরকারি কর্মকর্তাদের বছর শেষের বোনাস বন্ধ করা ও পেনশন কমানোর পদক্ষেপ রয়েছে এ পরিকল্পনায়৷ আর্থিকভাবে শোচনীয় অবস্থায় পড়া গ্রিস ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ১২০ বিলিয়ন ইউরো পেতে জাতীয় পর্যায়ে এ ত্যাগ স্বীকারের পদক্ষেপ নেয়৷ শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিলটি ইতিমধ্যেই সংসদে পেশ করা হয়েছে৷ বিলটি নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোট হবে বলে খবর৷

ওদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল গ্রিসকে সমর্থনের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে বুধবার জার্মান বুন্ডেসটাগে বক্তব্য রেখেছেন৷ আগামী শুক্রবার জার্মান সংসদের উভয়কক্ষে এ ব্যাপারে ভোটাভুটি হবার কথা রয়েছে৷ ম্যার্কেল বলেন যে, গ্রিস সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানির ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল৷ তিনি বলেন, পুরো ইউরোপ জার্মানির দিকে তাকিয়ে ছিল৷ এমনকি জার্মানি ছাড়া ইইউ'র পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিলনা৷

উল্লেখ্য, গ্রিসকে সহায়তার ব্যাপারে ম্যার্কেল প্রথমে ধীর গতিতে এগুলেও, পরবর্তীতে ইইউ এবং আইএমএফ-এর চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্তের পথে যেতে দ্বিধা করেননি৷ তাই ইউরোর সহযোগিতা তহবিলের প্রায় ২৮ শতাংশ দেবে জার্মানি৷ যা কিনা প্রায় ২২.৪ বিলিয়ন ইউরো৷

প্রতিবেদন : দেবারতি গুহ

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়