1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গ্রিসকে ঘিরে গভীর সংশয়

অবশিষ্ট আস্থাটুকু গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ধ্বংস করে দিচ্ছেন৷ দাতারাও আর্থিক সাহায্যের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না৷ ডিডাব্লিউ-র ব্যার্ন্ড রিগার্টের মতে, শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বহীন থেকে যাচ্ছে ও গ্রেক্সিট-এর বিপদ কাটেনি৷

গ্রিসকে রক্ষা করতে ইউরো এলাকার শীর্ষ সম্মেলনের পর ৪৮ ঘণ্টা ধরে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, তা আবার ম্লান হয়ে যাচ্ছে৷ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এই রাষ্ট্রের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা তখনই সম্ভব হবে, যখন সংস্কার সত্যি বাস্তবায়ন করা হবে৷ কিন্তু আলেক্সিস সিপ্রাস কী করছেন? টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী আবার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলছেন৷ তিনি দাবি করছেন, তাঁকে নাকি জোর করে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে, সংস্কার ভুল সিদ্ধান্ত, তিনি নাকি আসলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিলেন৷ তারপর নির্দ্বিধায় তিনি বলেছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোটি কোটি ইউরো পাবার স্বার্থে পার্লামেন্টের এই প্রস্তাব পাশ করা উচিত৷ এরপরও দাতারা কি এই মানুষটির উপর আস্থা রাখতে পারবে? মোটেই নয়৷ প্রকাশ্যে এমন বক্তব্যের পর বামপন্থি ব়্যাডিকাল জোট চুক্তি স্বাক্ষর করেও তা পালন করবে – এমনটা বিশ্বাস করার কারণ থাকতে পারে না৷ এই জনমোহিনী ‘পপুলিস্ট' অরাজকতায় ভরা গোষ্ঠীকে কি সত্যি আরও ৮,৬০০ কোটি ইউরো দেওয়া যায়?

সরল বিশ্বাস ও স্বপ্ন

তাহলে কি আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর কড়া নিয়ন্ত্রণ কাজ করবে? অথবা গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে তুলে দেওয়া উচিত?

Riegert Bernd Kommentarbild App

ডিডাব্লিউ-র ব্যার্ন্ড রিগার্ট

যদি কেউ বিশ্বাস করে থাকে যে, আলেক্সিস সিপ্রাস-এর নেতৃত্বে সরকার এই সব পদক্ষেপ সত্যি বাস্তবায়ন করবে, তাকে সত্যি বড় সরল বলতে হয়৷ সেইসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, গ্রিক ভোটাররাও এক সপ্তাহ আগে গণভোটে সেই কর্মসূচির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, সিপ্রাস সোমবার যা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন৷ জার্মান অর্থমন্ত্রী ভল্ফগাং শয়েবলে কোনো রাখঢাক না করে যে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ গ্রিকরা তাঁকে বিশ্বাস করেন না৷ অথচ জার্মানির সম্মতি ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়৷ এমন প্রেক্ষাপটে ইউরো এলাকা থেকে গ্রিসের বিদায় এখনো বাস্তব সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে৷ বর্তমানে গ্রিসে যা পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় দফার সাহায্য কর্মসূচির পক্ষে সওয়াল করা কঠিন৷ এ অবস্থায় জার্মান সংসদ সদস্যদের সম্মতি দেবার পরামর্শ দেওয়া যায় না৷

ইইউ কমিশন প্রায় উদভ্রান্ত

একদিকে সম্মতি দিয়েও গ্রিকরা তার বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নিতে নারাজ৷ অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে না৷ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ গ্রিস সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মনে করছে, তৃতীয় দফার সাহায্য পেলে গ্রিস তার ঋণভার সামলাতে পারবে না৷ ইউরোপ যে ঋণ দিয়েছে, হয় তা মকুব করতে হবে বা ঋণ শোধের মেয়াদ বাড়াতে হবে – এমন সমাধানসূত্রের প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ৷ তারা নিজেরা যে ঋণ দিয়েছে, তার শর্তে অবশ্য নড়চড় করতে রাজি নয় আইএমএফ৷ ইইউ কমিশন গ্রিসের ক্ষমতার আরও সঠিক মূল্যায়ন করেছে৷ তা না করে তাদের উপায়ও নেই৷ কারণ চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় স্থিতিশীলতা তহবিল – ইএসএম থেকে গ্রিসকে কোনো অর্থ দেওয়া চলে না৷

ইইউ কমিশন যেভাবে সম্ভব গ্রিসকে ইউরো এলাকায় ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ইউরো এলাকার নিয়মকানুন শিথিল করার প্রস্তাব দিচ্ছে৷ চূড়ান্ত বোঝাপড়া হওয়া পর্যন্ত গ্রিসের জন্য আপদকালীন অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা করার প্রচেষ্টার মধ্যে এই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে৷ আগামী সপ্তাহে এই জরুরি সাহায্যের আওতায় ৭০০ কোটি ইউরো গ্রিসের হাতে তুলে দেওয়ার কথা৷ এমন একটি তহবিল থেকে সেই অর্থ জোগাড় করার চেষ্টা চলছে, কার্যত যার কোনো অস্তিত্বই নেই৷ ২৮টি ইইউ সদস্য দেশের চাঁদা থেকে তা সৃষ্টি হতে পারে৷ কয়েকটি দেশ সঙ্গত কারণেই গ্রিসের প্রতি এমন সহায়তার হাত বাড়াতে নারাজ৷ জার্মান অর্থমন্ত্রী এই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন৷ এখন তাহলে কী হবে?

কাগজে-কলমে ইইউ সদস্য দেশগুলি দ্বিপাক্ষিক স্তরে গ্রিসকে ঋণ দিতে পারে৷ কিন্তু অপাত্রে দান করতে এখনো স্বেচ্ছায় কেউ এগিয়ে আসেনি৷

ইউরো এলাকা থেকে বিদায় একমাত্র অকৃত্রিম পথ

না, গ্রিসে বিপর্যয় এড়াতে শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক দিন পরেও কোনো হিসেবই যেন মিলছে না৷ এথেন্সের সরকারের উপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না৷ তৃতীয় সাহায্য কর্মসূচির পূর্বশর্ত পূরণ করা হয়নি৷ চূড়ান্ত বোঝাপড়ার আগে প্রয়োজনীয় জরুরি আর্থিক সাহায্য এখনো নিশ্চিত নয়৷ ইউরো এলাকার সংসদগুলিতে এত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা সম্ভব হবে – এমন আশা করা সত্যি কঠিন৷

অর্থাৎ এভাবে আর চলতে পারে না৷ তার থেকে ইউরো এলাকার উচিত, সুপরিকল্পিতভাবে গ্রিসের বিদায়ের তোড়জোড় করা৷ গ্রিস এবং ইউরোপের ভোটারদের জন্য সেটাই হবে সৎ আচরণ৷ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশার আলো ফুটে থাকে বটে, কিন্তু কোনো না কোনো সময়ে তা শেষ হয়৷ দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময় এবার এসে গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন