1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে নিরামিষ মাংস

এমন দৃশ্য কে না দেখেছে? মাঠের উপর চরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য গরু৷ তাদের প্রয়োজন বেড়ে চলেছে৷ বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলিতে মাংস খাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে৷ কিন্তু পরিবেশের জন্য তার পরিণাম ভয়াবহ৷

গোটা বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য গবাদি পশুপালন অনেকটাই দায়ী৷ কিন্তু পশু না মেরেই যদি মাংস তৈরি করা যেত, তাহলে কেমন হতো?

ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের ফ্লোরিয়ান ভিল্ড ঠিক এই অসাধ্য সাধন করার চেষ্টা করছেন৷ সহকর্মীদের নিয়ে তিনি ‘নিরামিষ' মাংসের কাটলেট তৈরির কাজ করছেন৷ প্রথমে ভুট্টা, মটরশুটি বা সয়াবিন পানিতে ঢালেন ফ্লোরিয়ান৷ খাদ্যের প্রোটিন নিয়েই তাঁর আগ্রহ বেশি৷ তিনি বলেন, ‘‘কাজ শুরুর সময় এই হলো মাল-মশলা৷ এরপর এগুলি আরেকটু প্রস্তুত করে, শুকিয়ে নিয়ে মাংসের বিকল্প তৈরির কাজে লাগানো হবে৷''

Symbolbild Nahrungsmittelnachfrage Fleischkonsum Asien

মাংস খাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে

ফ্লোরিয়ান ভিল্ড এই মিশ্রণ গবেষণাগারের ফিল্টার প্লান্টে আনেন৷ সেখানে এক যন্ত্র দিনে প্রায় ১,০০০ লিটার মিশ্রণ তৈরি করতে পারে৷ সেই মিশ্রণ দিয়ে প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম নিরামিষ মাংস তৈরি করা হয়৷ ভিল্ড বলেন, ‘‘এই প্লান্টের মূল অংশ হলো এই ফিল্টার মডিউল৷ ফিল্টারে খুব সূক্ষ্ম ও নির্দিষ্ট মাপের ফুটো রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে শর্করা গলে গেলেও প্রোটিন আটকে যায়৷''

এর পরের ধাপে নিরামিষ এই পাউডারের কনসেন্ট্রেট গবেষণাগারে এক ধরনের হাই টেক প্রেশার কুকারে ভরা হয়৷ যার সঙ্গে আবার ঠাণ্ডা করার যন্ত্রও লাগানো রয়েছে৷

প্রথমে সেই পাউডারে পানি মেশানো হয়৷ একই সঙ্গে প্রবল চাপের মধ্যে প্রায় ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সেটা গরম করা হয়৷ তারপর আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা করা হয়৷ তখন বেশ আঠালো আঁশের মতো পদার্থ সৃষ্টি হয়৷ তখন সেটাকে সত্যি আসল মাংসের মতে দেখতে লাগে৷ খেতে কেমন লাগে? ভিল্ড বলেন, ‘‘এখনই কিন্তু এই মিশ্রণ খাওয়া যেতে পারে৷ যেমন চেয়েছিলাম, মাংসের মতো সেই বিন্যাস এখনো হয়নি৷ অনেকটা ময়দা মাখার মতো লাগছে৷''

নিরামিষ এই মাংসে প্রোটিন ও আঁশ রয়েছে, তবে ফ্যাট বেশি নেই৷ অনেকটা মুরগির মাংসের মতো৷ চিবানোর সময়ও সেরকমই লাগে৷

ফ্লোরিয়ান জানেন, যারা মাংস খেতে অভ্যস্ত, তাদের মন জয় করতে হলে স্বাদও ভালো হওয়া চাই৷ তাই গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি নানা রকম মসলার সুগন্ধ নিয়েও পরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ তাঁরা যদি ভবিষ্যতে যদি সত্যি ভালো মানের বিকল্প মাংস তৈরি করতে পারেন, তাহলে বিপুল সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে৷ তিনি বলেন, ‘‘নিরামিষ এই কাটলেট তৈরির উপকরণ উৎপাদনের জন্য অনেক কম জমি লাগে৷ মাঠ থেকে তুলে আনলেই হলো৷ তাই নিরামিষ কাটলেট তৈরির জন্য যে চাষের জমি চাই, তা থেকে আরও বেশি মানুষের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করা সম্ভব৷''

গোটা বিশ্বে খাদ্য সমস্যা কমানোই ফ্লোরিয়ান ভিল্ড-এর স্বপ্ন৷ সেইসঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদেরও সাশ্রয় হবে৷ কারণ মটরশুটি, ভুট্টা বা সয়াবিনের মাংস তৈরির সময় অনেক কম জ্বালানি, পানি ও জমির প্রয়োজন হয়৷ গবাদি পশুচারণের সময় যা অনেক বেশি লাগে৷

এসবি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক