1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

গ্রাহকরাই হচ্ছেন মোবাইল ফোন নাম্বারের মালিক

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা যে নাম্বার ব্যবহার করেন, এর মালিক মোবাইল অপারেটররা৷ তবে, শিগগিরই গ্রাহক চাইলে ফোন নাম্বার না বদলেই যে কোনো অপারেটরের সেবা নিতে পারবেন৷

মোবাইল ফোন নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর বদল করার যে সুবিধা, তাকে বলা হয়, ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টাবিলিটি', সংক্ষেপে এমএনপি৷ আর এই এমএনপি সেবা চালু করার অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি৷ মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সহযোগিতা পেলে এই কনসোর্টিয়াম আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এমএনপি সেবা চালু করতে পারবে বলে জানা গেছে৷ তবে বিটিআরসি আগামী মে মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে৷

মোটামুটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই সেবার আওতায় আসছেন বাংলাদেশের মেবাইল ফোন গ্রাহকরা৷ এই সেবা চালু হলে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা ‘সংশ্লিষ্ট অপারেটর' মানসম্মত সেবা দিতে না পারলে সেই অপারেটর বদলে অন্য অপারেটরে চলে যেতে পারবেন৷

জানা গেছে, এই সেবা নিতে হলে গ্রাহককে অপারেটর পরিবর্তন করতে হলে প্রত্যেকবার ৩০ টাকা দিয়ে আবেদন করতে হবে৷ আবেদনের পর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেবাটি চালু হয়ে যাবে৷ তবে আগের অপারেটরে ফিরতে হলে গ্রাহককে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে৷

ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, গ্রাহক সেবার অসন্তুষ্টি দূর করবে এই এমএনপি সেবা৷ এই সেবা চালু হলে কোনো অপারেটরের সেবায় গ্রাহক সন্তুষ্ট না হলে তার পছন্দের আরেক অপারেটারে চলে যেতে পারবেন৷ কিন্তু ফোন নাম্বার একই থাকবে৷ এতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে গ্রাহকদের ভালো সেবা দেয়ার প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা যায়৷

বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন একজন গ্রাহক যদি অপারেটর পরিবর্তন করেন, তাহলে তাঁর ফোন নাম্বারটিও পরিবর্তন হয়ে যায়৷ ফলে গ্রাহককে আবার নতুন করে তাঁর নেটওয়ার্কে তাঁর নতুন নাম্বার ছড়িয়ে দিতে হয়৷ এটা কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ৷ বিদেশে একজন  গ্রাহক জম্মের পর একটি নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নাম্বার নেয়৷ এবং সেই নাম্বার নিয়েই মৃত্যুবরণ করেন৷ এর মানে হলো গ্রাহকই হবেন ফোন নাম্বারের মালিক৷ অপারেটর নয়৷ আর গ্রাহক তার ইচ্ছামতো অপারেটর পরিবর্তন করতে পারবেন৷''

বিটিআরসি জানায়, এতে করে অপারেটরগুলোর মধ্যে সেবার মান বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হবে৷ যেসব অপারেটর সেবার মান বাড়াতে পারবে না, গ্রাহক তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে৷ কোনও অপারেটর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘ক্ষতির কোনো সুযোগ নেই৷ ভালো সেবা দিতে না পারলে গ্রাহক থাকবে না৷ ফলে ভালো সেবা দিয়েই অপারেটরগুলোকে টিকে থাকতে হবে৷ তবে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর চালু করা যে অন নেট (একই অপারেটরে) এবং অফ নেটের (অন্য অপারেটরের নাম্বারে) মধ্যে যে বৈষম্য আছে, এমএনপি চালু হলে তা আরও  সমস্যা তৈরি করতে পারে৷ বিটিআরসি এমএনপি সেবা চালুর আগেই দু’টি সেবার মধ্যে বর্তমানে যে পার্থক্য রয়েছে তা কমিয়ে এনে সমস্যার সমাধান করবে৷'' 

অডিও শুনুন 01:39

‘গ্রাহক তার ইচ্ছামতো অপারেটর পরিবর্তন করতে পারবেন’

বাংলাদেশে মোট মোবাইল ফোন অপারেটর পাঁচটি৷ গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটক৷ বিটিআরসি'র গত ৩১ আগস্ট জানিয়েছিল, দেশে এখন মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ৯৩ লাখ৷ এরমধ্যে সেই সংখ্যা ১৪ কোটি হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়৷ তবে শুধু গ্রামীন ফোনের গ্রাহকই দুই তৃতীয়াংশ৷

মোবাইল ফোন অপারেটর, বিশেষ করে যাদের গ্রাহক বেশি, তাদের এক ধরনের অনীহার কারণে এতদিন এই এমএনপি সুবিধা চালু করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়৷

২০১৩ সালের ১৩ জুন বিটিআরসির দেওয়া এক নির্দেশনায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে পরবর্তী সাত মাসের মধ্যে এমএনপি চালু করতে বলা হয়৷ নির্দেশনায় এমএনপি চালুর জন্য তিন মাসের মধ্যে সব অপারেটরকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে বলা হয়৷ কিন্তু তারা  তখন জানায়, এমএনপি চালু করতে পাঁচ বছর সময় লাগবে৷

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের ৭২ টি দেশে এমএনপি সেবা চালু রয়েছে৷ প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১১ সাল এবং পাকিস্তানে এই সেবা ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও