1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার আশঙ্কা

ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্র বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথে উন্নত প্রযুক্তির ম্যাগনেটিক ডিভাইস ও ক্যামেরা বসিয়ে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড জালিয়াতি করছে৷ এমন এক চক্রের হোতাকে আটক করা হয়েছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ৷

গ্রেপ্তার হওয়া মোশাররফ হোসেন অস্ট্রেলিয়া এবং সুইডেন থেকে তথ্য-প্রযুক্তিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া৷ ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির কৌশল তিনি শিখেছেন সুইডেন থেকে৷ ছয় মাস আগে বাংলাদেশে ফিরে তিনি এই জালিয়াতি শুরু করেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্তি উপ-কমিশনার মশিউর রহমান৷

কিভাবে ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড জাল করা হয়? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোশাররফ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে কৌশলে বিভিন্ন এটিএম বুথে প্রবেশ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার নামে প্রবেশ পথে একটি ম্যাগনেটিক ডিভাইস স্থাপন করে আর তার মাধ্যমে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের কার্ড পরীক্ষা করে৷ এরপর বুথের ভেতরে একটি গোপন ক্যামেরা বসিয়ে গ্রাহকরা যখন টাকা তোলেন, তখন তাঁদের গোপন কোড বা পিন নাম্বার জেনে নেয়৷ দুটি উপায়েই তার হাতে একজন গ্রাহকের গোপন পিন নাম্বার এবং কার্ডের সব তথ্য চলে আসে৷

Deutschland Verbraucher Kreditkarten Panne

এটিএম বুথে উন্নত প্রযুক্তির ম্যাগনেটিক ডিভাইস ও ক্যামেরা বসিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে

এ কাজের পর, সে এসব তথ্য কম্পিউটারে দিয়ে জাল কার্ড তৈরি করে আর পরবর্তীতে সেই কার্ড থেকে টাকা তোলে৷ তার কাছ থেকে জাল কার্ড তৈরির নানা সরঞ্জাম, বিভিন্ন গ্রাহকের গোপন পিন এবং ব্যক্তিগত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর৷ এছাড়াও পাওয়া গেছে ৩০টি কার্ড, যা দিয়ে সে এরই মধ্যে টাকা তুলেছে৷

মশিউর রহমান জানান, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্যাংকের কমপক্ষে ২৫টি এটিএম বুথে এই প্রতারক চক্র তাদের ডিভাইস এবং গোপন ক্যামেরা বসিয়ে গ্রাহকদের কার্ডের পিন এবং তথ্য নিয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন৷ তাদের কাছে কয়েক হাজার গ্রাহকের তথ্য পাওয়া গেছে৷ তিনি জানান, এই চক্রে আরো পাঁচজন সদস্য থাকার কথা স্বীকার করেছেন আটক মোশাররফ হোসেন৷ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এখন৷ তবে এই চক্রটি গ্রাহকদের কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তবে তারা কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা হাতিয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর রহমান৷

বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড পরিচালনা করে তাদের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক একটি৷ ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন জিসান কিংশুক হক ডয়চে ভেলেকে জানান, তারা তাদের মিরপুর এবং গুলশানের দুটি বুথে এই প্রতারক চক্রের তত্‍পরতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন৷ প্রতারক চক্র গ্রাহকদের পিন এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিতে পারলেও, জাল কার্ড তৈরি করে টাকা নিতে পারেনি৷ কারণ, ঘটনাটি আগেই তারা টের পেয়ে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেন এবং পুলিশকে জানান৷ তবে অন্যান্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে কি ঘটেছে তা তাঁর জানা নেই৷

মশিউর রহমান জানান, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্র ধরা পড়ার পর তারা ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছেন এবং কোনো গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে তথ্য চেয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন