1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গ্রামের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন ‘অভিভাবক'

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে প্রায় ফাঁকা হয়ে যাওয়া গ্রামগুলির কল্যাণে নিয়োগ করা হচ্ছে এমন সব ‘অভিভাবক'-দের, যাঁরা নিজেদের উদ্যম ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে আবার সুদিন ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখেন৷

গ্রামের বেহাল অবস্থা

জার্মানির ব্রান্ডেনবুর্গ রাজ্যের অন্য অনেক গ্রামের মতো আল্টক্যুনকেনডর্ফ-এরও পড়তি দশা৷ গ্রামে বেশি কিছু অবশিষ্ট নেই৷ একটা গির্জা, একটা বাস-স্টপ, কয়েকটা হাঁস৷ জনসংখ্যা মাত্র ২০০৷ যাঁরা আছেন, তাঁদেরও মন যেন ভেঙে যাচ্ছে৷

গ্রামের ‘অভিভাবক' হান্স ইয়ুর্গেন বেভার হাল ছাড়তে প্রস্তুত নন৷ তিনি বললেন, ‘‘নিজের দৃষ্টান্ত দেখিয়েই আমি গ্রামের মানুষকে উৎসাহ দিতে চাই৷ অবসাদ ভুলে তাদের জেগে উঠতে হবে, সক্রিয় হতে হবে, গ্রামের জন্য আবার কিছু করতে হবে৷''

সুযোগের সদ্ব্যবহারই চাবিকাঠি

গ্রামের অভিভাবকের স্বপ্ন রয়েছে৷ যেমন অবসর নিলেও বেভার কিন্তু উদ্যম হারিয়ে ফেলেন নি৷ গ্রামের কাছেই একটি আকর্ষণ রয়েছে, যেটিকে তিনি কাজে লাগাতে চান৷ বেভার মনে করেন, ‘‘এখানে বিচ গাছের যে জঙ্গল রয়েছে, ইউনেস্কো তাকে বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে৷ মনে রাখবেন, অ্যামেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নও সেই তালিকায় রয়েছে৷''

Grumsiner Buchenwald

ইউনেস্কো-স্বীকৃত বিচ গাছের যে জঙ্গল

অর্থাৎ গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের সমকক্ষ হওয়ায় ব্রান্ডেনবুর্গের বিচ গাছের জঙ্গলের সম্ভাবনা কম নয়৷ বেভার-এর মতে, গ্রামের জন্য এটা বিশাল একটা সুযোগ৷ এমন সুযোগ বার বার আসে না৷ সেটাই তিনি কাজে লাগাবার চেষ্টা করছেন৷

সার্বিক উদ্যোগ

গোটা রাজ্যে গ্রামের অভিভাবক পদ সবে চালু হচ্ছে৷ হান্স ইয়ুর্গেন বেভার তাদের মধ্যে অন্যতম৷ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি৷ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি কাছের শহরের টাউন হলে গিয়ে তিনি প্রকল্পের অনুমতি ও আর্থিক অনুদান আদায় করার চেষ্টা করেন৷ সহজে ‘না' শোনার পাত্র নন তিনি৷

টাউন হলে সবাই এই গোঁয়ার মানুষটিকে কিন্তু পছন্দই করে৷ আঙারম্যুন্ডে শহরের ডেপুটি মেয়র বির্গিট রিটার বললেন, ‘‘আমার মনে হয়, এলাকার সব বিষয়গুলি তাঁর নখদর্পণে৷ তিনি কোনো দৃষ্টান্ত দেখান, তারপর স্থানীয় ক্লাব, গির্জা থেকে লোকজন জড়ো করে কাজটা শুরু করে দেন৷ লক্ষ্য স্থির করে কাজ করাই তাঁর বিশেষত্ব৷''

মানুষের মধ্যে উদ্যম

এমন উৎসাহী অভিভাবক পেয়ে গ্রামের কিছু মানুষও নড়েচড়ে বসছেন৷ তাঁদের একজন বললেন, বেভার তো সব সময়ে পিছনে পড়ে থাকেন, চাপ দেন৷ সত্যি গ্রামের জন্য অনেক কাজ করছেন৷ আরেকজন মনে করেন, বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের দেখাশোনার জন্য তিনি অনেক কাজ করছেন৷ তাদের অনেক সুযোগ আছে৷ এই গ্রাম হয়ে উঠতে পারে সেখানে প্রবেশের দ্বার৷

রাজ্য সরকারের শ্রম, সামাজিক, নারী ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও সবাই গ্রামের এই অভিভাবককে নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট৷ গোটা রাজ্যে আপাতত ৮ জন এমন অভিভাবক নিয়োগ করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে কেউ হয়ত সাফল্য দেখাতে পারবেন৷ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাব্রিয়েল হেসে বললেন, ‘‘গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসনের ফলে বিশেষ করে ছোট গ্রামগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন৷ উদ্যোগ আসতে হবে স্থানীয় পর্যায় থেকে৷ গ্রামের অভিভাবক নিয়োগ করে আমাদের অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক হয়েছে৷ গ্রামে কারো কোনো প্রস্তাব থাকলে, সেখানেই আলোচনা করে মানুষকে উৎসাহ দিতে পারলে কাজ হয়৷ নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যা নতুন অবকাঠামোর জন্ম দেয়, কর্মসংস্থান ঘটে, জায়গাটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে৷''

হান্স ইয়ুর্গেন বেভার আগামী প্রকল্প নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন৷ গির্জার টাওয়ার-টিকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে পর্যটকরা সেখান থেকে ইউনেস্কো স্বীকৃত জঙ্গলটির দারুণ দৃশ্য দেখতে পারবেন৷

এসবি/ডিজি

সংশ্লিষ্ট বিষয়