1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কৌশল

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংক আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের তদারক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ ব্যাংকের পরিচালক তাহসিনা খাতুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, এর মাধ্যমে সরকার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে৷

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক বিষয়সহ অন্যান্য দিক তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ অন্যান্য ব্যাংককে যে ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দিকে হয়, গ্রামীণ ব্যাংককেও তাই করতে হবে৷ একই সঙ্গে আগের মতো সরকারকেও প্রতিবেদন দিতে হবে৷ তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই ব্যাংকের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না৷ আর গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর অধীনে যত প্রতিষ্ঠান আছে সবই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে৷

খসড়া আইন অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আগের মতোই ১২ জন থাকবেন৷ তবে এই সদস্যদের নির্বাচন পরিচালনা করবে সরকার মনোনীত একটি কমিশন৷ এতে সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর৷ আর সদস্য হবেন দুই ধরণের – ব্যাংকের সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সরকার মনোনীত৷ এছাড়া, গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার সরকারের হাতে থাকবে ২৫ ভাগ এবং বাকি ৭৫ ভাগ সদস্যদের হাতে৷

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রি পরিষদের সচিব বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি নিয়োগের বিধান নিয়ে এই আইনে কিছু বলা হয়নি৷ এর জন্য আলাদা একটি আইন পরীক্ষা করে দেখছে আইন মন্ত্রণালয়৷ তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক দেখলেও কেউ যাতে গ্রামীণ ব্যাংকে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে, সেটা দেখবে সরকার৷ তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক কাজ শুরু করে৷ এবার তার পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো দেয়া হলো৷

USA - Grameen Bank Muhammad Yunus

গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক বিষয়সহ অন্যান্য দিক তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

তবে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালকদের একজন তাহসিনা খাতুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এমডি-র পদ থেকে সরানোর পর ব্যাংকটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে৷ গ্রামীণ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে নেয়ার এই আইন মূলত সরকারে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্যই করা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, ব্যাংকের সদস্যরাই এতদিন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নির্বাচন করে আসছিল৷ সরকার এখন তাদের পছন্দের লোকজনকে পরিচালনা পর্ষদে ঢুকাতে চাচ্ছে৷

তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রামীণ ব্যাংক যে নিয়মে চলছে তাতে তো ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না৷ তাহলে সরকারে নিয়ন্ত্রণে কেন নিতে হবে? সরকারের অনেক ব্যাংকই তো ঠিকমতো চলছে না৷ সরকার বরং সেগুলো ভালোভাবে চালানোর ব্যবস্থা করুক৷ তাহসিনা খাতুনের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ক্ষোভ থেকেই সরকার গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে এসব করছে৷ সে কারণেই এই ব্যাংকের কোনো ক্ষতি ব্যাংকের সদস্যরা মানবেন না, বলেন তাহসিনা খাতুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন