1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

গোয়া ও মনিপুরে বিজেপিকে নিয়ে বিতর্ক

গোয়া ও মনিপুরে একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসকে প্রথমে সরকার গড়ার সুযোগ দেয়া হয়নি৷ দলটি সুপ্রিম কোর্টে এর সাংবিধানিক নৈতিকতা চ্যালেঞ্জ করলেও শীর্ষ আদালতে তা নাকচ হয়ে যায়৷ দু’টি রাজ্যেই শপথ নেন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী৷

পশ্চিম ভারতের গোয়া রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মনোহর পারিকর৷ তিনি মোদী মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন৷ গোয়ার ৪০টি আসনের বিধানসভা ভোটে বিজেপি পায় ১৩টি আসন৷ অন্যদিকে কংগ্রেস ১৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েও অন্য দলের সমর্থন জুটিয়ে সময়মতো সরকার গঠনের দাবি পেশ করতে না পারায়, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিজেপি সেই সুযোগকে কাজে লাগায়৷ এরপর অন্য আঞ্চলিক দলের সমর্থন জুটিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সরকার গঠনের দাবি পেশ করে দলটি৷ মহারাষ্ট্র গোমন্তক দলের তিনজন, গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির তিনজন এবং নির্দল দু’জন৷ মোট ২২ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপি জোট সরকার গঠন করে৷

পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির এন. বীরেন্দ্র সিং৷ তিনি এক সময়ের নাম করা জাতীয় ফুটবলার৷ আগে ছিলেন কংগ্রেসে, পরে যোগ দেন বিজেপিতে৷ মনিপুর বিধানসভার মোট ৬০টি আসনে বিজেপি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েও একই কায়দায় অন্য ছোট ছোট দলের সমর্থন আদায় করে জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়৷ জোট সরকারে আছে নাগা পিপলস পার্টির তিনজন, নাগা পিপলস ফ্রন্টের তিনজন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের একজন ও লোকজন শক্তির একজন করে বিধায়ক৷ বীরেন্দ্র সিং মন্ত্রিসভায় এরা সামিল হন৷ গোয়া ও মনিপুর নিয়ে ভারতের ১৭টি রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার৷ গত ১৫ বছর রাজ্যে ছিল কংগ্রেস সরকার৷

এইভাবে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েও বিজেপিকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেয়ায় গোয়ার রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহা এবং মনিপুরের রাজ্যপাল নাজমা হেপতুল্লার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক রীতি এবং নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস৷ বলা হয়, উভয় রাজ্যে একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গঠনে কংগ্রেসকে প্রথমে সুযোগ দেওয়া হয়নি৷ এটা সাংবিধানিক রীতিনীতির খেলাপ৷ কিন্তু কংগ্রেসের এই আর্জি সরাসরি নাকচ করে দেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃ্ত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ৷ শপথ গ্রহণে স্থগিতাদেশ দেননি৷ বরং কংগ্রেসকে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় সরকার গঠনে অন্যদলগুলির সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস সময়মতো হলফনামা দিয়ে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে পারেনি কেন?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তবে মনোহর পারিকরের বিজেপি জোট সরকারকে বিধানসভায় তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য গোয়ার রাজ্যপাল যে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন, সেটা কমিয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা প্রমাণ করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত৷ মনিপুরের রাজ্যপাল বিজেপি জোট সরকারকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি, তবে বলেছেন, যত তাড়াতাডি সম্ভব৷

গোয়ায় এবং মনিপুরে এইভাবে বিজেপি সরকার গঠনের সাংবিধানিক নৈতিকতা নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে শুরু হয় কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তুমুল তরজা৷ কংগ্রেস এটাকে বলেছে, গণতন্ত্রের হত্যা৷ রাজ্যপাল তাঁদের সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করেছেন৷ মানুষের রায় না পেয়ে টাকা ছড়িয়ে তা কিনেছে বিজেপি, বলেছেন কংগ্রেস সহৃসভাপতি রাহুল গান্ধী৷

এই ধরনের দোষারোপ নস্যাৎ করে দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এবং সদ্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হওয়া অরুণ জেটলি৷ সংসদে এবং টুইটারে তিনি জানান, বিজেপি অন্য দলগুলির সমর্থনে সরকার গড়েছে৷ এতে আপত্তির কী আছে? কংগ্রেস সেটা সময়মতো করতে পারেনি কেন সেটা তাদের ব্যাপার৷ আর এই ধরনের সরকার গঠন আগে বহুবার হয়েছে৷ কংগ্রেস জমানাতেও হয়েছে৷ মানুষের সমর্থন আছে কিনা সেটা বিধানসভাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে বৃহস্পতিবার৷ উল্লেখ্য, গোয়া বিধানসভার অস্থায়ী স্পিকার মনোনীত হয়েছেন সব চেয়ে প্রবীণ বিজেপি বিধায়ক৷

২০০৫ সালে ঝাড়খন্ডে ৮১টি বিধানসভা আসনে বিজেপি পেয়েছিল ৩০টি আসন৷ শিবু সোরেনের ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার  ১৭ জন বিধায়কের সমর্থনে  সেখানে জোট সরকার গঠিত হয়৷ নজির আরও আছে৷ ২০০২ সালে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা ভোটে ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টি পেয়েছিল ২৮টি আসন৷ রাজ্যাপাল কিন্তু দ্বিতীয় বৃহত্তম দল পিডিপিকে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ ত্রিশঙ্কু সংসদের ক্ষেত্রে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি কে.আর নারায়নন রায় দিয়েছিলেন, কোনো দল বা প্রাক-নির্বাচনি জোট সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের দলকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সংসদে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়