1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘গোপন ক্ষুধা'-কে ভুলে গেলে চলবে না

গত ২৫ বছরে ক্ষুধার প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও সারা বিশ্বে এখনো দু'শ কোটিরও বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে৷ জিএইচআই-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে এই তথ্য৷ প্রতিবেদনটির খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ডয়চে ভেলের গ্রেহেম লুকাস৷

এ বছরের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) প্রতিবেদন বেশ কিছু ভালো খবর দিয়েছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে সারা বিশ্বে ক্ষুধার প্রকোপ শতকরা ৩৯ ভাগ কমেছে৷ বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার মোট ২৬টি দেশ এ সময়ে ক্ষুধাপীড়িত জনগোষ্ঠীর অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে ‘উদ্বেগজনক' থেকে (প্রচেষ্টায়) ‘আন্তরিক' পর্যায়ে উঠে এসেছে৷ এশিয়ার বাকি দেশগুলোর মধ্যে চীন, থাইল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া এবং ভিয়েতনামের অবস্থা আরো ভালো৷ জিএইচআই প্রতিবেদন তাদের ‘মাঝারি' পর্যায়ে উঠে আসার স্বীকৃতি দিয়েছে৷

Dürre ohne Ende Am Horn von Afrika droht Hungersnot

সারা বিশ্বে এ মুহূর্তে শুধু মাংস ছাড়া বাকি সব খাদ্যদ্রব্যের দাম গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম

জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ২০১৪ সালের জিএইচআই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো৷ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সারা বিশ্বে এ মুহূর্তে শুধু মাংস ছাড়া বাকি সব খাদ্যদ্রব্যের দাম গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম৷ তারপরও সরকার এবং সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রশংসা শুরু করার আগে জিএইচআই প্রতিবেদনের অন্য কিছু তথ্যের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত৷

বিশ্বের ক্ষুধা পরিস্থিতি তুলে ধরা জিএইচআই প্রতিবেদনে কিছু খারাপ খবরও দেয়া হয়েছে৷ খারাপ হলেও খবরগুলো আশ্চর্যজনক নয়৷ ক্ষুধার সঙ্গে জাতিগত সংঘাত বা যুদ্ধেরও সম্পর্ক আছে৷ দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া এবং ইরাকের চলমান যুদ্ধের কারণে অনেক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে৷ শরণার্থীদের অবস্থা খুব খারাপ৷ তাছাড়া ইরাকে অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুর সংখ্যা ১৯৯০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে৷

Infografik Welthunger-Index 2014 Indikatoren Portugiesisch

অপুষ্টিতে ভুগে সারা বিশ্বে এখনো প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ৩১ লাখ শিশু

ইবোলার কারণে পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশের বিষয়েও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁরা বলছেন, দেশগুলোতে আগামীতে বড় রকমের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে৷ এ মুহূর্তে আমরা যা অনুমান করছি, ইবোলার বিস্তারের কারণে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক খারাপ হতে পারে৷

যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর ক্ষুধা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা মোটেই সহজ নয়৷ এ সব দেশে ক্ষুধাগ্রস্থদের কাছে সাহায্য সংস্থাগুলো যেতেই পারে না৷ সংস্থাগুলোর কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়৷ ধরা পড়লে মৃত্যু অবধারিত৷ সাম্প্রতিককালে আমরা সিরিয়া এবং ইরাকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট-এর হাতে করুণ এবং নৃশংস শিরশ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটতে দেখেছি৷ সংবাদমাধ্যমে এ সব খবর সবসময়ই আসে, কিন্তু নিরীহ মানুষদের ভোগান্তির দিকটা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়৷ যুদ্ধ কবলিত দেশগুলোর রাজনীতিবিদদের এখন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়াস দ্বিগুণ হারে করা উচিত এবং সে প্রয়াসে শান্তি স্থাপনের মনোভাবকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন – এমন বার্তাও দিয়েছে জিএইচআই প্রতিবেদন৷

DW Bengali Grahame Lucas

গ্রেহেম লুকাস, এই সংবাদভাষ্যের লেখক

উন্নত দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে এই প্রতিবেদন৷ পুষ্টিহীনতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এখন বড় সমস্যা নয়৷ তবে প্রতিবেদনটি বলছে, এ সব দেশেও পুষ্টিহীনতার সমস্যা আছে৷ এখনো আড়ালে থেকে যাওয়া এ সমস্যাকে ‘গোপন ক্ষুধা' হিসেবে বর্ণনা করেছে জিএইচআই৷

অপুষ্টিতে ভুগে সারা বিশ্বে এখনো প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ৩১ লাখ শিশু৷ আয়োডিনের ঘাটতির জন্য প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু জন্ম নেয় মস্তিষ্কের সমস্যা নিয়ে৷ এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, তার কিছু উপায়ের কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ বলা বাহুল্য, তা করতে গেলে ভিটামিন, আয়রন, জিংক এবং আয়োডিনযুক্ত খাবার সরবরাহ করতেই হবে৷ এক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাপক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন৷

জিএইচআই প্রতিবেদন প্রণয়নে অংশ নেয়া কিছু সাহায্য সংস্থা বিশ্বের কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের উন্নততর জীবনের নিশ্চয়তা দেয়ার লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে৷ যথার্থ আহ্বান৷ তবে এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর সহায়তা সবার আগে প্রয়োজন, যে সব দেশে সবচেয়ে বড় খাদ্য সমস্যা হলো মানুষের ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকা স্থির করা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন