1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গৃহকর্মীদের জন্য আইন চায় হাইকোর্ট

বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের অধিকার এবং সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়নে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ হাইকোর্ট মনে করে, গৃহকর্মীদের কাজের ধরণ, বয়স এবং মজুরির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে৷

কাজের বুয়া, কাজের লোক, পরিচারিকা কিংবা গৃহকর্মী – কত নামেই না পরিচিত এঁরা৷ এঁদের জন্য ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ'-এর পক্ষে আইন প্রণয়নের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হলে মঙ্গলবার শুনানি শেষে সরকারের ওপর রুল জারি করে আদালত৷ বিচারপতি সালমা মাসুদ ও বিচারপতি হাবিবুল গণির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সংক্রান্ত পলিসি এবং শিশু শ্রম নীতিমালা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে৷ চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, আইন, শ্রমও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে৷

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, দেশে লাখ লাখ গৃহকর্মী কাজ করলেও সংবিধান অনুসারে তাঁরা কোনো আইনের আওতায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না৷ এ কারণে তাঁরা মৌলিক ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন৷ তাঁরা দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা করে শ্রম দিচ্ছেন৷ কখনো কখনো নির্যাতনের শিকারও হচ্ছেন৷ তাই তাঁদের অধিকার এবং সুরক্ষার জন্য একটি নীতিমালা থাকা জরুরি৷ আর তাতে তাঁদের নিয়োগ, বেতন, কাজের ধরণ – সব কিছু সুনির্দষ্ট থাকতে হবে৷

বাংলাদেশে এখন ঠিক কত গৃহকর্মী রয়েছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই৷ তবে ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ'-এর হিসাব মতে এই সংখ্যা ৫ লাখ৷ বাস্তবে অবশ্য এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে মনে করেন গৃহকর্মী বিষয়ক গবেষক সিদ্দিকুর রহামান৷

তিনি জানান, এই গৃহকর্মীদের বড় একটা অংশ রাজধানীর বাসাবাড়িগুলিতে কাজ করেন৷ তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি৷ সিদ্দিকুর রহামান জানান, তাঁদের মজুরি নির্দিষ্ট নয়৷ এছাড়া তাঁদের ওপর নানা ধরণের নির্যাতন করা হয়৷ গত ১০ বছরে ৮৯৯ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে৷ ইন্সটিউট অফ লেবার স্টাডিজ-এর হিসাব মতে, গত বছর ৫১ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ঢাকায় নির্যাতনের শিকার হন ৩৪ জন৷

আইন ও শালিশ কেন্দ্র ২০১২ সালে সরকারের কাছে গৃহকর্মীদের জন্য ‘ডমেস্টিক ওয়ার্কার রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রটেকশন অ্যাক্ট' নামে একটি আইনের খসড়া প্রস্তাব করে৷ তাতে গৃহকর্মীদের নিবন্ধনের বিধান চালু করার কথা বলা হয়৷ আরো বলা হয় যে, নিবন্ধন ছাড়া গৃহকর্মীদের নিয়োগ দেয়া যাবে না৷ তাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ না দেয়ার কথা বলা হয়৷ তাছাড়া প্রস্তাবিত আইনে কাজের ধরণ এবং সময়ের উল্লেখ থাকতে হবে৷ গৃহকর্মীদের জন্য ৮ ঘণ্টা কাজের বিধান এবং ‘ওভার টাইম'-এর কথাও বলা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের ছুটি, বিনোদন – এ সবও নির্দষ্ট থাকতে হবে৷ আর গৃহকর্মী আবাসিক এবং অনাবাসিক এই দুই ধরণের হবে৷

আইনজীবী মনজিল মোরসদ বলেন, গৃহকর্মীদের জন্য আইন হলে শুধু তাঁদের অধিকার নয় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে৷ সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা গৃহকর্মী রাখেন, তাঁদের মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসা জরুরি বলে তিনি মনে করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়