1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

গুয়ারানি ইন্ডিয়ানরা নাকি ফুটবল আবিষ্কার করে!

গুয়ারানি ইন্ডিয়ানদের কথা জানেন তো? গুয়ারানিরা মূলত দক্ষিণ অ্যামেরিকার একটি ‘ইন্ডিও’ উপজাতি৷ তারা নাকি আধুনিক ফুটবল খেলা আবিষ্কৃত হওয়ার দু’শো বছর আগেই ঐ ধরনের একটি খেলা খেলত, বলে দাবি করেছেন প্যারাগুয়ে সরকার স্বয়ং৷

সরকারি তথ্যচিত্রটির নাম: ‘‘গুয়ারানিরা ফুটবল আবিষ্কার করে''৷ তথ্যচিত্রের ভিত্তি হলো সপ্তদশ শতাব্দীর জেসুইট যাজকদের বিভিন্ন রচনা৷ জেসুইট যাজকরা গুয়ারানিদের খেলার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা-তে দেখা যাচ্ছে ইন্ডিওরা একটা বাতাস-ভরা রবারের বল নিয়ে একটি খেলা খেলত৷ সে খেলার আসল রহস্য হলো: খেলোয়াড়দের পা দিয়ে বল কন্ট্রোল করতে হয় – নিছক ফুট + বল আরকি!

সহজ-সরল গুয়ারানিরা আধুনিক ফেডারেশন ফুটবল উদ্ভাবন করে বসে আছে, এমন কথা ভুলেও দাবি করেননি প্যারাগুয়ে সরকার৷ করবেনই বা কী করে: ফুটবলের রুলবুক, মানে নিয়মাবলী প্রথম তৈরি হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে – ১৮৬৩ সালে৷ তা না হলে: বল নিয়ে নানা খেলা তো প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে এবং সব ধারা এসে মিশেছে আধুনিক ফুটবলে৷ কাজেই প্যারাগুয়ে সরকার বলেছেন: জেসুইটরা প্রথম এ দেশে আসেন ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের কিছু পরে এবং সে আমলেই গুয়ারানিরা একটি বলের খেলা খেলতো, যা শুধু পা দিয়ে খেলা হতো৷

আরও মনে রাখা দরকার, যে আমলের কথা হচ্ছে, তখন গুয়ারানিদের বাসের এলাকা ছিল আজকের বলিভিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের অংশ জুড়ে৷ আজ তাদের প্রভাব ও আধিপত্য অনেকটা গুটিয়ে এসে শুধুমাত্র প্যারাগুয়ের একাংশে সীমিত হয়েছে, তবে এই দেশে স্প্যানিশের পরেই গুয়ারানি হলো দ্বিতীয় সরকারি ভাষা এবং দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন৷

প্রথম জেসুইট পাদ্রিরা দক্ষিণ অ্যামেরিকায় পৌঁছে ভ্যাটিকানকে রিপোর্ট লেখেন, এদেশের পুরুষরা কিভাবে একটি ‘‘বাউন্সিং বল'' নিয়ে খেলে থাকে৷ খেলাটার নাম নাকি ‘‘মাঙ্গাই''৷ নামটা এসেছে মাঙ্গাইজি গাছ থেকে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা ঐ গাছের বাদামি-হলুদ রজন নিয়ে তা থেকে তাদের বাউন্সিং বল তৈরি করত৷ গাছের ছালে লম্বা একট দাগ কাটলেই সেই ক্ষত থেকে কষ ঝরতে শুরু করে৷ ভিজে বালির একটি বল বানিয়ে তার উপর একের পর এক স্তর রজন লেপতে হয়৷ শেষে এক টুকরো খড়ে ফুঁ দিয়ে বলে হাওয়া ঢোকানো হয়৷ তবে বল তৈরি শেষ৷

বলটা খুব বাউন্স করত কিন্তু তা সত্ত্বেও প্লেয়ারদের বলটা কন্ট্রোল ও ড্রিবল করতে হতো৷ খেলায় কোনো গোল ছিল না, কিন্তু যে দলটি আগে ক্লান্ত হয়ে খেলা থামাতো, তারাই হেরে গেছে, বলে ধরে নেওয়া হতো৷ মুশকিলটা ছিল এই যে, সব ম্যাচই গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হতো! জেসুইটরা অকুস্থলে পৌঁছে গুয়ারানিদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার ব্যবস্থা করলেন: রবিবার গির্জার প্রার্থনাসভার পর গুয়ারানিদের ঐ অদ্ভুত ‘ফুটবল' খেলা হতো৷

এসি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন