1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গুহামানবদের গুহার নকল

ফ্রান্সের লাসকো গুহায় প্রায় ২০ হাজার বছর আগের গুহামানবদের দেয়ালচিত্র রাখা রয়েছে৷ ছবিগুলি নষ্ট হবার ভয়ে সাবেক গুহাটি গত ৬০ বছর ধরে বন্ধ৷ দর্শকদের চাহিদা মেটাতে একটি মডেল গুহা তৈরি করা হয়েছিল, এবার খোলা হয়েছে তৃতীয় লাসকো৷

ভিডিও দেখুন 03:42

যেন গুহামানবদের গুহা

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ভিজেয়ার উপত্যকা৷ এখানে লুকিয়ে রয়েছে লাসকো গুহার মতো একটি প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন৷ সাবেক গুহাটি থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে লাসকোর গুহামানবদের আঁকা দেয়ালচিত্রের হুবহু নকল করে গুহা অঙ্কণশৈলীর নতুন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রটিতে রাখা হয়েছে৷ এটি হলো লাসকো’র গুহার দ্বিতীয় অনুকরণ৷ ভিতরটা ঠান্ডা ও ভেজা; আওয়াজ কীরকম ফাঁকা শোনায়৷

‘ফাক্সিমিইয়ে দু পেরিগর’-এর আর্টিস্টিক ডিরেক্টর ফ্রান্সিস রিঙেনবাখ জানালেন, ‘‘এখানকার নির্মাণকার্যের জন্য আমরা লেজার মডেল ও ভিডিও প্রোজেকশনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পেরেছি৷ আমরা সমগ্র গুহাটির মডেল বানিয়েছি, যা কিনা লাসকো দুই মডেলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ৷ আমরা এমন সব অংশ নতুন করে তৈরি করেছি, যেগুলো আগে শুধু আন্দাজ করা যেত৷’’

ইস্পাতের উপর অ্যাক্রিলিক রেজিন লেপে তৈরি নকল পাথরের দেয়ালে সাবেক লাসকো গুহার দেয়ালচিত্রগুলি নিখুঁতভাবে এঁকেছেন ৩০ জন শিল্পী, তিন বছর ধরে কাজ করে৷ শিল্পীরা গুহামানবদের অঙ্কণপদ্ধতির হুবহু অনুকরণ করেছেন৷ ফ্রান্সিস রিঙেনবাখ বললেন, ‘‘এই কাজটা ছিল পুরোপুরি আবেগ৷ প্রতিবার আঁকার সময় আমাদের বোঝার চেষ্টা করতে হয়েছে, সাবেক শিল্পী কেন ওভাবে এঁকেছিলেন এবং কিভাবে এঁকেছিলেন৷ এমন সব মুহূর্ত এসেছে, যখন আমাদের গোটা দলটা কোনো একটা খুঁটিনাটি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে, যদিও অন্য কারো কাছে সেই খুঁটিনাটি পুরোপুরি অকিঞ্চিৎকর মনে হতে পারত৷’’

লাসকো গুহা

বিশেষ করে লাসকো গুহার মডেল তৈরি করা হলো কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রত্নতত্ত্ববিদ জঁ-পিয়ের শাদেল বললেন, ‘‘লাসকো গুহা সত্যিই অসাধারণ৷ ঐ অপেক্ষাকৃত ছোট্ট গুহাটিতে আমরা অবিশ্বাস্য রকম বেশি আঁকা আর খোদাই করা ছবি খুঁজে পেয়েছি, যেগুলো প্রায় অন্য সব গুহা অঙ্কণের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে৷ লাসকো থেকে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের গুহা অঙ্কণ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি, যা বিশ্বের অন্যন্য গুহামানবদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কেননা সে সময় তো আর কোনো সীমান্ত ছিল না৷’’

শত শত আঁকা ও খোদাই করা জীবজন্তুর ছবি পাওয়া গিয়েছে লাসকোয়৷ ছবিগুলো থেকে প্রায় ৬০০ জীবজন্তুকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যেমন ষাঁড় কিংবা ঘোড়া কিংবা হরিণ৷ লাসকোর ছবিগুলোর বয়স আনুমানিক ১৯ হাজার বছর৷ জঁ-পিয়ের শাদেল বললেন, ‘‘লাসকো গুহার ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায় যে, এই গুহামানবরা শুধু শিকার করে আর ফলমূল কুড়িয়ে বাঁচতেন না, তারা শিল্পীও ছিলেন৷ তাঁদের প্রতিভা ছিল, রুচি ছিল৷ তাঁদের সামর্থ্য ছিল কম, এমনকি রং ছিল মাত্র তিনটি: হলুদ, লাল আর কালো৷’’

কিছু কিছু গবেষক গুহামানবদের ছবিগুলোকে গ্রহতারকার প্রতীক বলে মনে করেন৷ গত ৬০ বছর ধরে সাবেক লাসকো গুহাটি দর্শকদের জন্য বন্ধ আছে৷ শ্যাওলা পড়েছিল আর ছবিগুলোর রং উঠে যাচ্ছিল বলে গুহাটিকে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ ‘লাসকো দুই’ নামের প্রথম মডেলটিও ইতিমধ্যেই সারাতে হয়েছে৷

নতুন মিউজিয়ামটি শুধু লাসকো গুহার একটি কপি বা অনুরূপ নয়৷ এখানে লাসকোর ইতিহাসও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভিজ্ঞতা করা যায় – যেমন কিভাবে চার কিশোর লাসকো গুহাটি আবিষ্কার করে৷ ১৯৪০ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর তারা তাদের কুকুরকে নিয়ে হেঁটে জঙ্গলে ঢুকেছিল, গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার আশায়৷ তার ৭০ বছর পরেও লাসকোর সব রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়নি৷

সেই লাসকো গুহা আজ আধুনিক শিল্পকলারও প্রেরণা৷

প্রতিবেদন: লিসা লুই/এসি

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও