1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গুলশান হামলায় বাংলাদেশের পোশাক খাত হুমকির মুখে?

গুলশান হামলার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ৷ কেননা নিহতদের মধ্যে অন্তত ছ'জন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে৷

জাপানের পোশাক খাতের ব্র্যান্ড ‘ইউনিকলো' বাংলাদেশে তাদের সফর স্থগিত করেছে৷ শুক্রবার রাতে ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় সাতজন জাপানি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন অবস্থান নিয়েছে ইউনিকলোর মূল কোম্পানি ফাস্ট রিটেইলিং৷ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার ওই সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশের ২,৬০০ কোটি ডলারের গার্মেন্টস শিল্পখাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে৷ জাপানের ইউনিকলো থেকে শুরু করে মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার বা গ্যাপ ইনকর্পোরেশনের মতো বড় বড় গার্মেন্ট রিটেইলাররা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে৷

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে পোশাক শিল্প খাত থেকে৷ প্রায় ৪০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে এই খাতে৷ ইউরোপ-অ্যামেরিকার দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরেই অবস্থান বাংলাদেশের৷ তাই গুলশান হামলার পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ‘পোশাক শিল্পের' ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত হয়ে উঠছেন দেশের গার্মেন্টস মালিকরা৷

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি রিটেইলাররা বাংলাদেশের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে৷ কিন্তু এ শিল্পের অনেক বিশেষজ্ঞের যুক্তি, শুধু বাংলাদেশই নয়; সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায়, এমন অনেক উন্নয়নশীল দেশেই সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অস্থিরতা দানা বেঁধেছে৷ গত বছর থেকে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, শুধু উন্নয়নশীল দেশেই সীমাবদ্ধ নেই চরমপন্থি সহিংসতার ঝুঁকি৷ বিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘এই ঘটনার পর বিদেশিরা আর বিনিয়োগ করতে চাইবে না৷ পোশাক শিল্পের জন্য এটা একটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে৷ আমরা আসলেই ভীষণ উদ্বিগ্ন৷''

ওদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে৷ শামীমা রহিম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজন একটা জাতীয় ঐক্য৷ গুলশান হামলায় নিহতদের মধ্যে ন'জন ছিলেন তৈরি পোশাকের ইটালিয়ান ক্রেতা৷ তাঁদের নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উপর অবশ্যই বিরূপ প্রভাব পড়বে৷ যদি সেটি ঘটে তাহলে ক্রেতারা বাংলাদেশের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারত বা চীনমুখী হবেন৷ আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ দেশের অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়বে৷''

আলমগীর নাহিদ লিখেছেন, ‘‘গুলশান হামলা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ব্যবসায় প্রভাব ফেলবেই, প্রভাবিত হবে এ দেশের অর্থনীতি৷ এ দেশে আগত বিদেশিদের অধিকাংশই এই শিল্পটির সাথে সংশ্লিষ্ট৷ সুতরাং এ ঘটনার পর স্বভাবতই তাঁরা আর এ দেশে আগমনে নিরাপদ বোধ করবেন না৷''

এপিবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স, বিডিনিউজ)

আপনার কী মনে হয়? গুলশান হামলা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? লিখুন আমাদের, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন