1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

গির্জার সংগীত দলের কিশোরদের ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ

রেগেন্সবুর্গ ডোমস্পাৎসেন নামে পরিচিত ‘কয়্যার' বা সমবেত সংগীতের দলটি সারা বিশ্বে সুপরিচিত৷ এই গোষ্ঠীর ৫০০-র বেশি কিশোরকে বহু বছর ধরে যৌন ও অন্যান্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, বলে একটি তদন্তে প্রকাশ৷

‘ডোমস্পাৎসেন' কথাটির অর্থ ‘ক্যাথিড্রালের চড়ুইপাখির দল'৷ হাজার বছরের বেশি পুরনো এই কয়্যারটি বিশ্বের প্রাচীনতম কয়্যার৷ ক্যাথলিক যাজক ও শিক্ষকদের হাতে কোয়ারের কিশোরদের যৌন অপব্যবহারের অভিযোগ বহুদিনের৷ শেষমেষ এক আইনজীবীকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করানো হয়, যার রিপোর্ট সদ্য প্রকাশিত হয়েছে৷

৪৫০ পাতার রিপোর্ট পেশ করার সময় অ্যাটর্নি উলরিশ ওয়েবার বলেছেন যে, তিনি শারীরিক নির্যাতনের ৫০০টি ঘটনা ও যৌন নির্যাতনের ৬৭টি ঘটনার হদিশ পেয়েছেন৷ এই সব ঘটনা প্রায় ছয় দশক ধরে ঘটেছে৷

গির্জার ৪৯ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা কয়্যারের সদস্যদের নিপীড়নে অংশ নিয়েছেন, বলে রিপোর্টে সাব্যস্ত করা হয়েছে – তাদের মধ্যে ন'জন দৃশ্যত যৌন নির্যাতনেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন৷ গির্জার কর্মকর্তাদের তরফে ‘‘নীরবতার সংস্কৃতির'' ফলে দশকের পর দশক ধরে এ ধরনের নির্যাতন চলে আসতে পেরেছে, বলে ওয়েবার মন্তব্য করেছেন৷ অপরদিকে নির্যাতনের শিকাররা রেগেন্সবুর্গ কয়্যারে তাদের অভিজ্ঞতাকে ‘‘কারাগার, নরক ও নাৎসি বন্দিশিবির''-এর সমান, বলে বর্ণনা করেছেন৷

‘নাৎসি বন্দিশিবিরের মতো'

অতীতের নিপীড়িত কিশোররা গির্জার স্কুল ও কয়্যারে তাদের দিনগুলিকে ‘‘তাদের জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়'' বলে অভিহিত করেছেন, ‘‘যার মূলমন্ত্র ছিল ভয়, সহিংসতা আর আশাহীনতা'' – বলে ওয়েবার জানান৷ 

২০১০ সালে প্রথম হাজার বছরের পুরনো কয়্যারটিতে ব্যাপক যৌন অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন কয়্যারের সাবেক সদস্যরা৷ ২০১৩ সালে ৪০০-র বেশি নিপীড়িত প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেন ও ক্যাথলিক গির্জার প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে তাদের দুর্দশার বিশদ বিবরণ দেন৷

অধিকাংশ অপব্যবহারের ঘটনা ঘটে ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে, সাবেক পোপ বেনেডিক্টের ভাই গেয়র্গ রাৎসিঙ্গার যখন কোয়ারটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন৷ ওয়েবার বার বার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাৎসিঙ্গার নিশ্চয় কিছু কিছু ঘটনার কথা জানতেন – কিন্তু রাৎসিঙ্গার তা বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন৷

নিপীড়িতদের সংখ্যা অনেক বেশি

ওয়েবারের রিপোর্ট থেকে দেখা যায় যে, গোড়ায় যা ভাবা গিয়েছিল, নিপীড়িতদের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি৷ ১৯৪৫ সাল থেকেই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে, যদিও সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে ষাট ও সত্তরের দশকে৷ কিশোরদের উপর শারীরিক নির্যাতনের সর্বশেষ ঘটনাগুলি দৃশ্যত নব্বই-এর দশকের গোড়ার দিকে ঘটেছে৷

এই রিপোর্টের কোনো আইনগত ফলশ্রুতি নেই, কেননা মামলা করার তারিখ পার হয়ে গেছে৷ তবে নিপীড়নের শিকাররা শৈশবের সেই বিভীষণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে মানসিক শান্তি লাভ করার মতো সাহস খুঁজে পাবেন, বলে রিপোর্টের রচয়িতারা আশা প্রকাশ করেছেন৷

ক্যাথলিক গির্জা গতবছর নিপীড়িতদের মাথাপিছু পাঁচ থেকে বিশ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়৷ ওয়েবারের রিপোর্টের পর এবার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে৷

এসি/ডিজি (কেএনএ, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন