1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

গাড়ি ছুটবে হাজার মাইল গতিতে

মোটর সাইকেল নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটতে দেয়া যায় অনেককে৷ অনেকে আবার জার্মানির আটোবান ধরে গাড়ি নিয়ে ছুটে চলেন প্রচণ্ড গতিতে৷ এই দুরন্ত বা প্রচণ্ড শব্দগুলোর সংজ্ঞা বোধহয় ভবিষ্যতে বদলে যাবে৷

default

অবাক হচ্ছেন! মোটর সাইকেলের দুরন্ত গতি কিংবা গাড়ির প্রচন্ড গতি বলতে আমরা ঠিক কতটা দ্রুত বুঝি? ঘন্টায় ১৫০, ১৮০ কিংবা ২০০ কিলোমিটার৷ এর বেশি বোধহয় নয়৷

হাজার মাইল গতির গাড়ি

কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা শোনাচ্ছেন নতুন এক গাড়ির কথা৷ যাতে বসানো হয়েছে সুপারসনিক জেট ইঞ্জিন৷ আর তার গতি ঘন্টায় এক হাজার মাইল৷ হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন৷ ঘন্টায় এক হাজার মাইল গতিতেই ছুটে চলবে নতুন এই সুপারকার৷ অবশ্য, নির্মাতা আশা করছেন এই গতিতে এটি উড়বে না বরং মাটিতেই থাকবে৷ এর নাম ব্লাডহাউন্ড সুপারসনিক কার সংক্ষেপে এসএসসি৷ লম্বায় এটি ১২ দশমিক ৮ মিটার৷

প্রায় তিন বছর ধরে গবেষণার পর ব্লাডহাউন্ডএর প্রথম মডেলটি সবার সামনে উম্মুক্ত করা হয়েছে৷ নীল-হলুদ রঙের এই গাড়ির নির্মাতা বৃটিশরা৷ এর প্রদর্শনীও হয়েছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শোতে৷

গ্রিন চালাবেন সুপারকার

রয়াল এয়ারফোর্সের পাইলট অ্যান্ডি গ্রিন ২০১২ সালের শুরুর দিকে চালাবেন এই সুপারকার৷ পরীক্ষামূলকভাবে সেটি চলবে ইংল্যান্ডের একটি রানওয়েতে৷ গ্রিন এর মন্তব্য, আমরা গাড়িটির গড়ন ঠিক করেছি৷ মাসকয়েক আগেই সেটিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ এখন আমরা জানি, এই গাড়ি ঘন্টায় হাজার মাইল বেগে ছুটতে পারবে৷

সুপারসনিক এর পেছনে বেশ খানিকটা শ্রম দিচ্ছেন গ্রিন৷ তিনি বলেন, সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে আমি পাইলট৷ আর সপ্তাহান্তে আমি এই ধরিত্রীর একমাত্র সুপারসনিক ড্রাইভার৷

গ্রিন অবশ্য একটু বেশিই রোমাঞ্চ প্রিয়৷ জানালেন, ব্লাডহাউন্ড নিয়ে দ্রুত গতির বিমানের সামনে দিয়ে ছুটে যেতে চান তিনি৷ তবে তিনি বলেন, এ শুধু মাটিতে নতুন এক গতির রেকর্ড করা নয়৷ বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের সামনে এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া৷ যাতে তারা সুপারসনিক গতির প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে কাজ করে৷

গ্রিন এর কথায়, ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ার শোতে আমরা এই গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছি৷ এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর উড়োজাহাজ দেখা যাচ্ছে৷ কিন্তু সবচেয়ে দ্রুতগতির যানটি আমাদের কাছেই আছে৷ আমরা অন্য যেকারো চেয়ে গতিসম্পন্ন৷

৪২ সেকেন্ডে গতি হাজার মাইলে

ব্লাডহাউন্ড টিম আশা করছে তাদের নতুন এই গাড়ি ০ থেকে ১০০০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নেবে মাত্র ৪২ সেকেন্ড৷ আর শব্দের বাধা ভেঙে ছুটে যাবে এটি ভয়ঙ্কর গতিতে৷ বলে রাখা ভাল, এন্ডি গ্রিন এর আগের সুপারসনিক গাড়িটিও চালিয়েছিলেন৷ ১৯৯৭ সালে সেই গাড়ির গতি ছিল ঘন্টায় ৭৬৩ মাইল৷ সেটির নির্মাতা ছিলেন রিকার্ড নোবেল৷

ব্লাডহাউন্ড এসএসসি-এর প্রধান নির্মাতা মার্ক চ্যাপম্যান বলেন, এই বছর আমরা যে বায়ুগতিবিদ্যা নিয়ে কাজ করেছি, তাতে এই গাড়িটি সেকেন্ডে ৪৪২ মিটার গতিতেও মাটিতেই থাকবে এবং থিতু অবস্থায় থাকবে৷ সমুদ্রপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ গতির মনুষ্যযান হবে ব্লাডহাউন্ড সুপারকার৷

সুপার কম্পিউটার

৬ টন ওজনের সুপারকারটির বাইরের অংশের ডিজাইন করেছেন একদল বিজ্ঞানী৷ এজন্য তারা যে কম্পিউটারটির সহায়তা নিয়েছেন, সেটি ইউরোপের অন্যতম দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটার৷

কিন্তু ভবিষ্যতে কী রাস্তাঘাটে দেখা যাবে এমন সুপারকার৷ বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা টেকনোলজি টুডের সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল হাসান এর মতে, ভবিষ্যতেও রাস্তাঘাটে এই গাড়ি চালানো অসম্ভব৷ তবে, এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাউন্ডেড পথে চলে মানে ট্রেন বা এজাতীয় পরিবহন আরো দ্রুত করা সম্ভব৷

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সুপারকারটির প্রথম পরীক্ষামূলক চালনার পর এটিকে নেয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ সেখানে একটি শুকিয়ে যাওয়া লেকে চালানো হবে সুপারকারটিকে৷ গতির আসল পরীক্ষাটি হবে সেখানে৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

ইন্টারনেট লিংক