1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গালাপাগোসে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার

চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের নাম, যা আজ ইকোয়েডরের অংশ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সেখানকার বিপন্ন জীবজগতের সুরক্ষায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে৷

গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের ইসাবেলা দ্বীপটি হল জায়ান্ট টরটয়েজ বা অতিকায় কচ্ছপদের আস্তানা৷ কিন্তু গালাপাগোসের জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হতে চলেছে৷ এই কচ্ছপগুলো ঘাস-পাতা, ক্যাক্টাস ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে৷ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘাসপাতা না পেলে তারা ডিম পাড়া বন্ধ করে দেয়৷ এই কচ্ছপগুলো ১৭০ বছর অবধি বাঁচতে পারে৷

চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশন আর গালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক মিলে আগেভাগেই একাধিক হ্যাচিং স্টেশন বা কচ্ছপদের নার্সারি সৃষ্টি করেছে৷ কচ্ছপগুলোর পাঁচ বছর বয়স হলে সেগুলোকে মুক্ত প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ গালাপাগোস ন্যাশনাল পার্কের প্রতিনিধি ড্যানি রুয়েডা বলেন, ‘‘একক প্রজাতির সুরক্ষা থেকে শুরু করে গোটা পরিবেশের সুরক্ষা আমাদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ গালাপাগোসের জীব ও প্রকৃতিগত পরিবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এই কচ্ছপ, যা কিনা গালাপাগোসের তৃণভোজীদের শীর্ষে৷''

ক্রমেই আরো বেশি মানুষ গালোপাগোসে ভিড় করছে৷ বাসিন্দাদের সংখ্যা গত ত্রিশ বছরে বেড়ে হয়েছে দশগুণ; বর্তমানে অধিবাসীদের সংখ্যা ত্রিশ হাজার, সেই সঙ্গে প্রতি বছর আসে প্রায় এক লাখ আশি হাজার পর্যটক৷ সে কারণেও জীবজন্তুদের বসবাসের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে৷

Zweiköpfige Schildkröte Thelma und Louise

পরিবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কচ্ছপ

বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার

জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, যেমন ফ্লোরিয়ানা দ্বীপে৷ এটি হল গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের ক্ষুদ্রতম জনবসতিসম্পন্ন দ্বীপ৷ আগে শুধু ডিজেল দিয়েই এখানে কাজ চালানো হতো৷ কিন্তু তা এখন অতীত কাহিনি, কেননা ফ্লোরিয়ানার নতুন জেনারেটরগুলো শুধুমাত্র উদ্ভিদ তেল দিয়ে চলে৷ জার্মানি থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা এই জেনারেটরগুলো বসিয়েছেন৷ এটি হল গালাপাগোসের জন্য একটি মডেল প্রকল্প, আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সুরক্ষা উদ্যোগের অর্থানুকুল্যে৷

জাট্রোফা গাছের তেল আসে ইকুয়েডরের মূল ভূখণ্ড থেকে৷ এই তেল পুড়লে প্রায় কোনো কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয় না৷ ফ্লোরিয়ানার পর গালাপাগোসের অন্যান্য দ্বীপেও এ ধরনের জেনারেটর বসানোর পরিকল্পনা চলেছে৷ এই উদ্ভিদ-জাত তেল থেকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই চলে না, ইকুয়েডরের মূল ভূখণ্ডে মানুষজনের কিছু বাড়তি আয়ও হয়৷ উপকূলের মানাবি প্রদেশটি ইকুয়েডরের দরিদ্রতম এলাকাগুলির মধ্যে পড়ে৷ এখানকার চাষিরা এখন গালাপাগোসে জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে জাট্রোফা ফল সংগ্রহ করে থাকেন৷

চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

জাট্রোফা মানুষ কিংবা পশুর খাদ্য হবার উপযোগী নয়, কাজেই জ্বালানি উৎপাদনের জন্য আদর্শ৷ এছাড়া প্ল্যান্টেশন বা মোনোকালচার করেও জাট্রোফার চাষ করা হয় না৷ তবে প্রক্রিয়াটা জটিল৷ গোড়ায় ফলগুলো খুব উচ্চমানের ছিল না, তা থেকে বার করা তেলও বিশেষ শুদ্ধ ছিল না৷ বিশেষ ফিল্টার লাগিয়ে চাষিদের ট্রেনিং দিতে হয়েছে৷

এখন কোয়ালিটি অনেকটা বেড়েছে৷ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ গেয়র্গ গ্রুব্যার বলেন, ‘‘গালাপাগোসের জেনারেটরগুলি সবই অত্যাধুনিক, সেগুলি থেকে কার্বন নির্গমনও কড়া আইন করে বাঁধা৷ এই সব জেনারেটরের জন্য উচ্চমানের জ্বালানি তেল দরকার এবং মানাবি-র চাষিরাই এই ধরনের তেল সরবরাহ করতে সক্ষম৷''

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক