1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

গার্মেন্টস কর্মীরা আডিদাস-কে এসএমএস পাঠাতে পারবেন!

এশিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মীরা তাঁদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে মনে করলে সরাসরি আডিদাস সংস্থার কাছে এসএমএস পাঠাতে পারবেন৷

এই হলো জার্মানির প্রখ্যাত স্পোর্টস সামগ্রী তৈরির প্রতিষ্ঠানের সর্বাধুনিক প্রকল্প৷

পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে, ইন্দোনেশিয়ায়৷ সেখানে একাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় আডিদাসের জন্য জামাকাপড় তৈরি করা হয়৷ সেই সব কোম্পানির কর্মীরা তাদের মুঠোফোন মারফত আডিদাসকে সরাসরি খবর পাঠাতে পারেন৷ জানাতে পারেন তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কথা৷

মুশকিল এই যে, বার্তাগুলি সেই স্থানীয় কোম্পানির পার্সোনেল ডিপার্টমেন্টেই পৌঁছবে, যদিও আডিদাস তা প্রয়োজনে চেক করে দেখতে পারে৷ দৃশ্যত যে সব কর্মীরা অভিযোগ করছেন, তাদের নাম ফাঁস হবার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ এছাড়া অভিযোগ গুরুতর দেখলে আডিদাস স্থানীয় কোনো এনজিও-কে গিয়ে খোঁজখবর করতে বলতে পারে৷

বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনার পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস সেক্টরের পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে আবার পশ্চিমে সাড়া পড়েছে৷

Bangladesch Textilarbeiterinnen in Dhaka

পোশাক কর্মীরা তাঁদের প্রতি দুর্ব্যবহারের কথা এসএমএস করে জানাতে পারে

কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের কাজের পরিবেশ ও শর্তাবলী যে অমানুষিক, তা তো অনেকদিন আগে থেকেই শোনা ও জানা ছিল৷ শুধুমাত্র জরুরি এসএমএস পাঠিয়ে সে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন না৷

আডিদাসের তরফ থেকে কর্মী ও মালিকপক্ষের মধ্যে ‘যোগাযোগ' বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, আডিদাস ৬৫ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে, যারা সারা বিশ্বে আডিদাসের কনট্র্যাক্ট কৃত কোম্পানিগুলিতে গিয়ে সেখানে সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা, চাক্ষুষ পরীক্ষা করে আসেন৷ কিন্তু এ-ও সত্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে গার্মেন্টস ফ্যাক্ট্রিতে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা চলেছে৷ চিবো এবং ফিলিপস-ফ্যান হয়জেন-এর মতো সংস্থা তা-তে স্বাক্ষর করলেও, আডিদাস এখনও গড়িমসি করছে৷

মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, আডিদাস একটি গোটা দেশের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে, যা-তে কর্মীদের সর্বনিম্ন পারিশ্রমিকের পর্যায় বাড়ানো না হয়৷ চীন পর পর দু'বছর সর্বনিম্ন পারিশ্রমিকের পর্যায় বাড়ানোর পর আডিদাসের তরফ থেকে অন্যান্য দেশে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়৷

কাজেই এসএমএস মারফত এসওএস পাঠানো নয়, গার্মেন্টস কর্মীদের দরকার তাদের মজুরি বাড়ার, মাইনে বাড়ার৷ তাদের প্রয়োজন সুস্থ, আইনসম্মত, নিরাপদ কাজের পরিবেশ, যা একটি এসএমএস পাঠিয়ে পাওয়া গেলে এই মাটির পৃথিবী স্বর্গ হয়ে যেত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন