1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

গান নিয়ে, সুর নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে রিগা বিশ্ববিদ্যালয়

পড়াশোনা মানেই যে শুধু বই খাতা নিয়ে পড়ে থাকতে হবে, তা কিন্তু নয়৷ ঘন্টার পর ঘণ্টা পিয়ানো বাজানো, গিটারের তারে সুর তোলা সেটাও এক ধরণের শিক্ষা৷ রিগা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীতের জন্য এমনই আদর্শ একটি স্থান৷

default

বাল্টিক রিপাবলিক লাটভিয়ার রাজধানী রিগা৷ রিগা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত নিয়ে পড়াশোনার জন্য বিখ্যাত৷ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা রিগা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে সংগীতে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য৷ দেশ বিদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা ভীড় করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ পিয়ানো এবং বেহালা বাদনের শিক্ষা রয়েছে প্রথম স্থানে৷

ক্লাস শেষে গোয়েনডোলিন ফান কার্স ব্লিক অন্য দুটি ছাত্রের সঙ্গে একটি সুর অনুশীলন করছে৷ পিয়ানো বাজাচ্ছে গোয়েনডোলিন৷ তাঁর বয়স মাত্র ২৪৷ বেলজিয়ামের নাগরিক৷ বেলজিয়ামে সে সংগীতের ওপর দুটি সেমেস্টার শেষ করে এসেছে৷ এখন এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে এসেছে রিগা বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ রিগা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাকাডেমি - নাম মিউজিক অ্যাকাডেমি রিগা৷ গোয়েনডোলিন জানাল, ‘‘সবাই জানে, সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করতে হলে ইউরোপের উত্তর দিকে চলে যেতে হবে৷ সেরা স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেখানেই৷ সেখানে সংগীত শেখানোর মান অনেক উঁচুতে যে কেউ চাইলেই ভর্তি হতে পারবে না৷ তাঁকে সংগীতে মোটামুটি দক্ষ হতে হবে৷ আমি আরো ভাল করতে চাই৷ সে জন্যই আমি এখানে এসেছি৷ আমার দেশের একজন শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন ‘তুমি বেশ ভাল পিয়ানো বাজাও, তুমি খুব মনোযোগী৷' তখন আমি ভাবলাম, আমি যদি এত ভাল হই, তাহলে রিগায় যাচ্ছি না কেন!''

অ্যাকাডেমির দীর্ঘ করিডর৷ অসংখ্য দরজা৷ প্রতিটি দরজার পিছনেই দেখা যাবে ছাত্র-ছাত্রীরা সুর তুলতে ব্যস্ত৷ অনুশীলন চলছে, চলছে চর্চা৷ ডোমিনিকো স্পেরা ইটালির ছাত্র৷ রোমের একটি কনজার্ভেটরি বা সংগীত বিদ্যালয়ে সে কয়েক বছর সংগীত নিয়ে কাজ করেছে৷ এরপরই সে চলে এসেছে রিগায়৷ ডোমিনিকো বলল,

Lettland - Riga Kirchen im Stadzentrum in Riga

রিগা

‘‘আমি সংগীতের অন্য আরেকটি বিষয় নিয়ে ইউরোপের অন্য কোন শহরে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম৷ জার্মানি অথবা রাশিয়া আমার মাথায় ঘুরছিল৷ আমি রাশিয়ার আশেপাশে পড়াশোনার জন্য আবেদন করেছিলাম৷ তালিন এবং রিগায় আবেদন পত্র পাঠিয়েছিলাম৷ আমিই প্রথম ইটালিয় যে এই অ্যাকাডেমিতে এসেছি৷ আমি সত্যিই ভাল ছাত্র ছিলাম৷ আমি এখানে ভাল করছি এবং আরো ভাল করতে চাই৷ তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরো এক বছর এই অ্যাকাডেমিতে থাকার৷''

ডোমিনিকো এবং গোয়েনডোলিনের একই সুপারভাইজার৷ অধ্যাপিকা সিপোল কৃতী দু'জন ছাত্র-ছাত্রী পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত৷ রিগায় বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসছে, এর চেয়ে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না৷ মায়া সিপোল ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক বিষয়ে সাহায্য করে থাকেন৷ বাড়ি খোঁজা, কনসার্টের বিনামূল্যে টিকিট পাওয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্টোনিয়ায় বেড়াতে যাওয়া৷ সব কিছুই৷ ইউরোপীয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনার জন্য একটি কড়িও খরচ করতে হয়না৷ মায়া সিপোল বলল, ‘‘ ইউরোপের ৬২টি বিভিন্ন সংগীত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমরা কাজ করছি৷ গত বছর ইটালির একটি ছাত্রের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়নি৷ কারণ সে খুব ভাল ছাত্র ছিল না৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার আর্থিক ব্যয় নিজেদের বহন করতে হবে৷ বছরে প্রায় চার হাজার ইউরো৷''

বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অধ্যাপকরা ইংরেজি ভাষায় কথা বলেন৷ বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা লাটভিয়ান ভাষা শিখে লাটভিয়ায় আসবে, এমন কোন কঠোর নিয়ম নেই৷ তবে গোয়োনডোলিন তারপরও ভাষাটি শিখতে চায়৷ গোয়নডোলিন একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকে৷ সঙ্গে আরো দু'জন৷ গোয়েনডোলিন বলল, ‘‘এখানে পড়াশোনা করতে আসার পর সবার ভাবনা-চিন্তায় পরিবর্তন আসে৷ এখানে অনেক গরিব মানুষ রয়েছে যারা রাস্তায় থাকে, রাত কাটায়৷ আমি বেলজিয়াম থেকে এসেছি৷ আমি আগে এসব দেখিনি৷ এখানে আমি যেখানে থাকি, আমার কোন বিছানা নেই৷ শুধু একটি তোষকের ওপর আমাকে ঘুমোতে হয়৷ রান্নার একটি হাঁড়ি আর ব্যবহারের জন্য দু'টি ছুরি৷ এর বেশি কিছু আমার প্রয়োজনও নেই৷ আমি মনে করি, এখন আমি অনেক সংযত৷ আমি যখন কিছু বলি, তখন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমি বলি৷ একটি সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হয় তা আমি অনেক সহজেই বের করে ফেলি৷''

প্রতিবেদক: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদক: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়