1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

গাদ্দাফি সৈন্য সরালে অস্ত্র বিরতিতে রাজি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনে শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে৷ লিবিয়ার রাজধানী থেকে এসেছে গোলাগুলির খবর৷ জাতিসংঘের বিশেষ দূত বেনগাজিতে বৈঠক করেছেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে৷ অস্থিতিশীল এই সময়ে বেড়ে যাচ্ছে তেলের দাম৷

default

তেল সমৃদ্ধ লিবীয় শহর ব্রেগার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনীর প্রচণ্ড যুদ্ধ যখন চলছে, তখন ত্রিপোলিতে শোনা গেছে ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দ৷ প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা এই গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়েছে রাজধানী, যে জায়গাটিকে এখন মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি বলেই মনে করা হচ্ছে৷ মিসরাটা শহরের উপর হামলা আরও জোরদার করছে গাদ্দাফির বাহিনী৷

এদিকে, বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য লিবিয়ার বেনগাজি যান জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত আব্দিল্লাহ আল খাতিব৷ তবে খুবই সংক্ষিপ্ত এই সফরে তিনি সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন৷ পরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি ও বিদ্রোহী নেতা মুস্তাফা আব্দুল জলিল৷ বিদ্রোহীদের নেতা বলেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি যদি তাঁর অনুগত সৈন্যদের সকল শহর থেকে তুলে নেন, তাহলে তাঁরা জাতিসংঘের দাবি অনুসারে অস্ত্রবিরতিতে রাজি আছেন৷ অন্যদিকে, ব্রিটেন সফররত লিবীয় সরকারের একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লন্ডন স্পষ্ট বলে দিয়েছে, গাদ্দাফিকে হটতে হবে – এছাড়া কোন গত্যন্তর নেই৷ গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল ইসলামের সহযোগী মোহাম্মদ ইসমাইল এখন লন্ডনে রয়েছেন মূলত গাদ্দাফির সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের একটি আপোশরফার পথ খুঁজতে৷ সেই চেষ্টাতেই তিনি যখন ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হন তখনই এই কথা জানিয়ে দেয়া হয়৷

Libyen Krieg Gaddafi NATO Konferenz London Flash-Galerie

গাদ্দাফিকে সরাতে একমত বিশ্ব নেতারা

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লিবীয় সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ শুরু করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি এবং চীন৷ বেইজিং সফররত জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী গিডো ভেস্টারভেলে এবং চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়াং জিয়াসি এক বৈঠকের পর এ কথা জানান৷

আরব জগতের আরেক দেশ ইয়েমেনে সরকারের পক্ষ এবং বিপক্ষ, দুই দিকের সমর্থকরা আজ মিছিল সমাবেশ করেছে রাজধানী সানায়৷ ৩২ বছর ধরে দেশের একক শাসক আলি আব্দুল্লাহ সালেহ'র পদত্যাগ দাবি করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে শহরের প্রধান চত্বরে৷ জুম্মার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদ থেকে তাঁরা মিছিল করতে করতে অকুস্থলে মিলিত হন৷ অন্যদিকে, শহরের অন্যপ্রান্তে নিজের হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন প্রেসিডেন্ট সালেহ৷ সেখানে তিনি বলেছেন, তিনি তাঁর দেশের জন্য সব স্বার্থ ত্যাগ করতে পারেন৷ কিন্তু তাঁর পদত্যাগের কোন পরিকল্পনা নেই বলেই উল্লেখ করেছেন৷

জর্ডানের রাজধানী আম্মানে পথে নেমেছে কয়েকশত তরুণ৷ সরকার বিরোধী বিক্ষোভ থেকে তারা সেদেশের সংবিধান সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে৷ সিটি হলের সামনে এই বিক্ষোভে মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্চ ২৪ মুভমেন্ট নামের একটি সংগঠন৷ ঐ স্থানের পাশেই সরকার সমর্থক গোটা পঞ্চাশ ব্যক্তি সমাবেশ করেছে৷ প্রায় চার শতাধিক পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে৷ সিরিয়ার ৩টি শহরেও বিক্ষোভ দেখা গেছে৷ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করেছে৷

এদিকে, আরব বিশ্বের চলমান এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ৩০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ ভয়ংকর অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার৷ আগামী মে মাস নাগাদ অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২ দশমিক ২৩ ডলার বেড়ে ১১৭ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে গণ বিক্ষোভ ও অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি আরো ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানাচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন